পুরোনো দিনে টেট উৎসব মানেই ছিল রান্নাঘরের ধোঁয়া ও সুগন্ধে ভরা বাড়ি। দাদা-দাদি, মা-বাবা ব্যস্ত থাকতেন বাঙ্ চুং তৈরি ও নানা পদ রাঁধায়। টেট বা বাঙালির উৎসবের এই বিশেষ দিনগুলোতে প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষাই ছিল সবচেয়ে পবিত্র মুহূর্ত। মâm cỗ বা পারিবারিক ভোজের টেবিলে সবাই মিলে বছরভর গল্প আর শিশুদের হাসিতে মুখরিত হতো পরিবেশ।
আজকের টেট উৎসবের রূপ বদলেছে। হাইফংয়ের সমুদ্রতট, স্বপ্নের মতো সুন্দর হুয়ে কিংবা আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের দূরবর্তী শহর থেকে স্বজনরা ফিরে আসছেন। তারা সঙ্গে আনছেন নানা উপহার, আর সেই সঙ্গে আনছেন বন্ধু-বান্ধবদের, যারা প্রথমবারের মতো কোনো ভিয়েতনামি বন্ধুর হাত ধরে এই উৎসবের গল্প জানছে।
মিলনমেলার আনন্দ তো রয়েইছে, তার ওপর প্রিয়জনেরা নিজেদের বর্তমান জীবন ও পছন্দের রেস্তোরাঁগুলো নিয়ে আলোচনা করতে উদগ্রীব। তারা বলতে চান, “আজ চলো বাইরে কোথাও খাই, যাতে দাদা-দাদি আমার প্রিয় সব খাবার উপভোগ করতে পারেন, যাতে বিদেশি বন্ধুরাও ভিয়েতনামের স্বাদ সম্পর্কে জানতে পারে।” এই টেট উৎসব এখন সংস্কৃতির এক নতুন সেতুবন্ধন।
আরও পড়ুন:
মান্থলি টেবিলস: ভূমধ্যসাগরীয় আ লা কার্ট মেনু থেকে ফু কোকের সাংস্কৃতিক যাত্রা
মান্থলি টেবিলস: এশিয়ার স্রোতধারা থেকে ইতালির পাহাড়ি উপত্যকার স্বাদ

Above টেট উৎসবে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সুস্বাদু খাবারের আয়োজন এখনকার অন্যতম আনন্দ।
ভিয়েতনামী শ্বশুর-শাশুড়ি বিদেশী জামাইকে আদর করে খাওয়াচ্ছেন, আবার উত্তরের শাশুড়ি মধ্য বা দক্ষিণের পুত্রবধূর হাতে বানানো পদ উপভোগ করছেন। প্রতিটি অঞ্চলের টেট উৎসবের মâm cỗ বা খাবারের আয়োজন একেক রকম, কিন্তু এখন সব নিয়মই যেন অনেক বেশি শিথিল ও সমন্বয়মূলক। এই খাবারগুলো যেন একই সুতোয় গেঁথে রাখে পুরো ভিয়েতনামকে।
নতুন ও পুরোনো গল্পে হাসি-ঠাট্টা যখন জমে ওঠে, তখন মনে হয় টেটের আসল চেতনা এখনো অটুট। আজকের এই টেট উৎসব আর বন্ধ দরজার আড়ালে নয়, বরং বসন্তের মুক্ত বাতাসকে স্বাগত জানানোর এক নতুন মাধ্যম।
নিবন্ধটি ট্যাটলার ভিয়েতনাম, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সংখ্যা থেকে গৃহীত।
আরও পড়ুন:
“কারিগরদের গল্প”: যখন দানাং শহরে বিশ্বমানের রন্ধনশিল্প ও শিল্পকলা একীভূত হয়
মেটা রেস্তোরাঁর শেফ সান কিম: মৌলিকতায় ফেরার এক নতুন প্রয়াস
ফুডি ফাইন্ডস: থ্যানইং রেস্তোরাঁর প্রধান শেফের সুপারিশে ব্যাংককের সেরা খাবারের স্বাদ




