রে ডালিও ও তাঁর পুত্র মার্ক তাঁদের মহাসাগর সংরক্ষণের অঙ্গীকার, গল্প বলার শক্তি এবং এশিয়ায় মানুষের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা বিলাসিতা ও আভিজাত্যের সাথে এই “রে ডালিও”-র দর্শনের প্রতিফলন।
প্রথমেই যা চোখে পড়বে তা হলো গভীর অন্ধকার। সমুদ্রের ছয় হাজার মিটার গভীরে দিগন্ত বা রঙের কোনো অস্তিত্ব নেই, স্থানিক অনুভূতিরও বালাই নেই। সেখানে শুধু আছে এক গাঢ় ও পরম অন্ধকার, যা সময়ের সৃষ্টির আগে থেকেই বিদ্যমান। এটি সমুদ্রের গভীরতম খাত, যেখানে প্রচণ্ড চাপে ও হিমাঙ্কের কাছাকাছি তাপমাত্রায় কেবল সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী বা বিশেষায়িত যানই টিকে থাকতে পারে। এমন এক পরিবেশে রে ডালিও (Ray Dalio) সাবমার্সিবল থেকে আলো নিভিয়ে আবার জ্বালিয়ে এক অনন্য দৃশ্য দেখেছিলেন। “সবকিছু উজ্জ্বল হয়ে উঠল,” তিনি বলেন। “বায়োলুমিনেসেন্স বা জৈব-আলোকসম্পন্ন ক্ষুদ্র জীবগুলো যেন আমাদের সাথে কথা বলছিল।” এই অভিজ্ঞতা থেকেই OceanX-এর জন্ম, যা বিশ্বজুড়ে মহাসাগর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বিজ্ঞান ও যোগাযোগ উদ্যোগ। রে ডালিও, যিনি Bridgewater Associates-কে বিশ্বের বৃহত্তম হেজ ফান্ডে পরিণত করেছেন, এবং তাঁর পুত্র মার্ক এই অভিযানের মাধ্যমে সামুদ্রিক জীবনের এক অভূতপূর্ব চিত্র তুলে ধরেছেন।

Above একটি OceanX সাবমার্সিবল নোনা জলের হ্রদ অন্বেষণ করছে (ছবি: OceanX)। এই অভিযানেই প্রথম রে ডালিও গভীর সমুদ্রের রহস্য উন্মোচন করেন।
OceanX হলো উত্তরাধিকার ও জীবনের নতুন যাত্রার গল্প। OceanXplorer জাহাজে যখন Tatler-এর সাথে রে ডালিও (Ray Dalio) ও তাঁর পুত্রের দেখা হয়, তখন তাঁদের ব্যবসায়িক প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং দুটি মহান লক্ষ্যের সঙ্গী হিসেবে মনে হচ্ছিল। রে বলেন, “ছোটবেলায় আমি জ্যাক কুস্টোর ডকুমেন্টারি দেখে বড় হয়েছি, যা আমাকে গভীর সমুদ্রে অভিযানের নেশা জাগায়। এখন আমার হাতে সম্পদ আছে, তাই আমরা সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছি।” এশিয়া এখন তাঁদের বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু, কারণ এশিয়ায় মহাসাগরের বৈচিত্র্য ও সম্ভাবনা অতুলনীয়।
OceanX কেবল একটি ফাউন্ডেশন নয়, এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাথে বিশ্বমানের মিডিয়া কৌশলের মিলনস্থল। মার্ক বলেন, “বিজ্ঞানের সাথে গল্প বলা যোগ করলে তা আরও শক্তিশালী হয়।” জাপানের NHK ও ডিসকভারি চ্যানেলের সাথে যৌথ প্রচেষ্টায় বিশাল স্কুইডের ছবি তোলা ছিল তাঁদের অন্যতম বড় সাফল্য। এই অসাধারণ অর্জনের ফলে মানুষ গভীর সমুদ্রের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। রে ডালিও (Ray Dalio) ও তাঁর পুত্র বিশ্বাস করেন, এশিয়া এই গবেষণার জন্য একটি ল্যাবরেটরির মতো। ইন্দোনেশিয়া থেকে মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুর, সব জায়গাতেই OceanX সামুদ্রিক গবেষণার মান বাড়াতে কাজ করছে।

Above OceanX প্রতিষ্ঠার আগে মার্ক ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের হয়ে বিভিন্ন ডকুমেন্টারি তৈরি করেছিলেন (ছবি: শন লি-ডেভিস)।
তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে তারা জাহাজে স্টুডেন্ট ও গবেষকদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করেছেন। মার্ক বলেন, “আমরা মেধাবীদের খুঁজে বের করতে চাই, কারণ এই গ্রহের ভবিষ্যতের জন্য তাদের প্রয়োজন।” এই প্রচেষ্টা স্থানীয় সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, যা এশিয়া তথা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ক্রিস্টির ২০২৬ শরৎকালীন নিলাম: অনন্য সব শিল্পকর্মের প্রদর্শনী
রে ডালিও (Ray Dalio) বলেন, “আমরা সমুদ্রকে টয়লেট বানিয়ে ফেলেছি। মানুষের এই ধ্বংসাত্মক রূপ আমাকে ব্যথিত করে।” তবে তিনি হতাশ নন; তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্বাসী। মার্ক যোগ করেন, “বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা আমাদের আশাবাদী করে। বিজ্ঞানের জন্য কোনো সীমানা নেই, আর সমুদ্রও তা মানে না।” প্রযুক্তির সহায়তায় OceanX নতুন প্রজন্মের কাছে সমুদ্রের গুরুত্ব পৌঁছে দিচ্ছে।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে OceanX তথ্যকে ইন্টারঅ্যাক্টিভ করে তুলেছে। সি-সোয়াইপ (SeaSwipe) অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও সামুদ্রিক প্রাণীদের চিনতে সাহায্য করছে, যা তাদের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। মার্ক বলেন, “এআই গবেষণার ভবিষ্যতে বিপ্লব ঘটাবে।”
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। সমুদ্র কোনো সীমানা মানে না, আর বিজ্ঞানকেও তাই করা উচিত।
রে ডালিও (Ray Dalio) ও তাঁর পুত্র হ্যাকাথনের মাধ্যমে বিজ্ঞানীদের প্রযুক্তি ও তথ্যের নতুন সমন্বয় ঘটাচ্ছেন। গেম ডিজাইনের মতো প্রযুক্তি এখন সমুদ্র গবেষণায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি শুধু জ্ঞান বৃদ্ধি করছে না, বরং এশিয়া জুড়ে সামুদ্রিক সম্পদের রক্ষায় সবাইকে উৎসাহিত করছে।
আরও পড়ুন: ভো এনগক তুয়েন: একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেত্রী

Above OceanX এশিয়ায় বিভিন্ন একাডেমিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে সামুদ্রিক গবেষণার মান বাড়াচ্ছে (ছবি: শন লি-ডেভিস)।
সমুদ্রের গভীরে নামলে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। রে ডালিও (Ray Dalio) ও তাঁর পুত্র মনে করেন, সমুদ্র আমাদের শেখায় যে আমরা একটি বড় সত্তার ক্ষুদ্র অংশ। রে বলেন, “এটি এক ধরণের সচেতনতা যা আমাদের প্রকৃতির সাথে যুক্ত করে।” ৭৬ বছর বয়সেও রে ডালিও (Ray Dalio) তাঁর এই জনহিতকর কাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাচ্ছেন। তাঁদের এই উত্তরাধিকার কেবল অর্থের নয়, বরং পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসার ও দায়িত্ববোধের।

Above বর্তমানে মার্ক OceanX-এর সহ-সিইও হিসেবে কাজ করছেন, যেখানে রে ডালিও (Ray Dalio) পরামর্শদাতা হিসেবে আছেন (ছবি: শন লি-ডেভিস)।
রে ডালিও (Ray Dalio) বিশ্বাস করেন, বিশ্ব তখন সুন্দর হবে যখন মানুষ একে অপরকে ধ্বংস না করে প্রকৃতিকে লালন করবে। মার্ক তাঁর পিতার সেই আদর্শকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এটিই তাঁদের পারিবারিক মূল্যবোধ ও অটুট বন্ধন।
Above রে ডালিও (Ray Dalio) ও মার্ক ডালিও-র সাথে ট্যাটলারের বিশেষ সাক্ষাৎকার।
দশ বছর পর OceanX কোথায় থাকবে? রে ডালিও (Ray Dalio) আশা করেন, তারা বিশ্বকে বুঝতে সাহায্য করবেন যে সমুদ্র একটি জাদুকরী স্থান যা রক্ষা করা অপরিহার্য। তাঁদের এই স্বপ্ন এখন রূপ নিচ্ছে বাস্তবে।

Above ট্যাটলার এশিয়া এপ্রিল ২০২৬ সংস্করণের কভার পৃষ্ঠায় রে ডালিও ও মার্ক (ছবি: ট্যাটলার এশিয়া)।
Credits
Producer: Chong Seow Wei
Co-Editor: Dana Koh
Creative Direction: Sean Lee-Davies and Zoe Yau
Photography: Sean Lee-Davies
Styling: Adriel Chiun
Photography Assistant: Isaac Ho Ren Jie, Alfred Phang and Christiana Philips
Videography: Jufri Husne, Isaku Lim, Nicola Ng and Melvin Wong
Video Editor: Awethentic Studio, LFG Content Co and Nicola Ng
Camera Crew: Malik Basar and Joellyn Toh
Grooming: Aung Keng and Wee Ming














