AI-এর মাধ্যমে চিকিৎসার ভবিষ্যতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং থাইল্যান্ডকে নিছক স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র থেকে গবেষণা, উন্নয়ন ও বিশ্ববাজারে উদ্ভাবনী চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের মূল কেন্দ্রে রূপান্তরের প্রচেষ্টা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI কেবল আমাদের কর্মপদ্ধতি, যোগাযোগ বা ব্যবসায়িক কৌশল পরিবর্তন করেনি, বরং চিকিৎসাক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সঠিক রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি এবং প্রতিটি রোগীর জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে এই প্রযুক্তি অভাবনীয় ভূমিকা রাখছে।
তবে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মাঝে এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের প্রতিযোগিতায় থাইল্যান্ড কীভাবে তার নিজের অবস্থান তৈরি করবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। এই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) বা ইনোভেশনের যাত্রায় দেশটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর উত্তর মিলেছে ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ব্যাংককের ট্রু ডিজিটাল পার্কে আয়োজিত Global Medical AI Summit 2026 সম্মেলনে। “দ্য গ্লোবাল গেটওয়ে ফর থাইল্যান্ডস মেডিকেল এআই ইনোভেশন” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বমানের চিকিৎসা বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নিয়েছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল থাইল্যান্ডের এই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।
আরও পড়ুন: দ্য ডিফাইনিন জেনারেশন: ট্যাটলার জেন.টি সামিট ২০২৬-এ ভবিষ্যতের নেতৃত্ব ও চিন্তাধারার বিশ্লেষণ।
সম্মেলনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞদের আলোচনার পাশাপাশি উদ্ভাবনী স্টার্টআপ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের সুযোগ ছিল অবারিত। এই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) প্রক্রিয়াকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে একটি বিশেষ ইকোসিস্টেম গঠনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে, যা থাইল্যান্ডের চিকিৎসা পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়তা করবে।
উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবন মন্ত্রী ড. ইয়োসচানান ওংসাওয়াত এবং রিজে (RISE)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড. সুফাচাই পাজারিয়াননতের দূরদর্শী আলোচনা ভবিষ্যতে থাইল্যান্ডের এই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) ধারাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা প্রদান করেছে।
Above ড. ইয়োসচানান ওংসাওয়াত যে নวัตกรรม (উদ্ভাবন) বা কৌশলটির ওপর জোর দিয়েছেন, তা হলো চিকিৎসা খাতে থাইল্যান্ডের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করা (ছবি: গ্লোবাল মেডিকেল এআই সামিট ২০২৬)।
স্বাস্থ্যসেবা থেকে বিশ্বমানের গবেষণার কেন্দ্রে রূপান্তর
ড. ইয়োসচানান ওংসাওয়াত থাইল্যান্ডকে কেবল একটি স্বাস্থ্যসেবা বা পর্যটন গন্তব্য হিসেবে না রেখে, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও নวัตกรรม (উদ্ভাবন) সৃষ্টিকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন।
এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ট্রপিক্যাল মেডিসিন বা ক্রান্তীয় রোগ, ক্যান্সার চিকিৎসা এবং স্ট্রোকের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় করা।
আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামছি না, কারণ আমাদের নিজস্ব শক্তিমত্তা ও বিশেষ ক্ষেত্র রয়েছে। আমার ভিশন হলো, থাইল্যান্ড কেবল সেবার কেন্দ্র থাকবে না, এটি একটি গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত হবে, যা এই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) প্রক্রিয়ার প্রাণ।
ভবিষ্যতে মাল্টিমোডাল এআই (Multimodal AI) ব্যবহারের মাধ্যমে থাইল্যান্ড জেনোমিক্স ও বিভিন্ন জৈব-প্রযুক্তিগত গবেষণায় বড় সাফল্য অর্জনের পথে রয়েছে। ৫০ বছরের বেশি সময়ের আর্কাইভড চিকিৎসা তথ্য ব্যবহার করে এআই মডেলগুলো আরও নির্ভুল করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
গবেষণাকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হোল্ডিং কনসোর্টিয়াম গঠন করা হয়েছে, যা স্টার্টআপগুলোকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সুযোগ ও বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) গতিধারা থাইল্যান্ডের জিডিপি বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
আরও পড়ুন: ট্যাটলার জেন.টি সামিট ২০২৬-এ সমকালীন নেতাদের কণ্ঠস্বর।

Above ইউনিভার্সিটি হোল্ডিং কনসোর্টিয়াম ও ১ বিলিয়ন বাথের প্রাইভেট ইক্যুইটি ট্রাস্ট গঠন, যা থাইল্যান্ডের এই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) ও গভীর প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের একটি অংশ (ছবি: mhesi.go.th)।
গ্লোবাল লঞ্চপ্যাড: থাইল্যান্ডের নতুন উদ্ভাবনী সম্ভাবনা
ড. সুফাচাই পাজারিয়াননত বা “ডক্টর কিড” মনে করেন, এআই-এর ক্ষেত্রে কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনই যথেষ্ট নয়, বরং সেই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) বাস্তব জীবনে কতটুকু প্রভাব ফেলছে সেটিই আসল।
আপনার কি মনে হয় যে দেশ এআই মডেল বানায়, তারাই সবচেয়ে ভালো ফলাফল পায়? আসলে আমাদের মতো এশীয় দেশগুলোতে নวัตกรรม (উদ্ভাবন) প্রয়োগের মাধ্যমেই রোগীদের জীবন মান উন্নয়ন করাই হবে আসল নেতৃত্ব।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল জনসমষ্টি থাইল্যান্ডকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও উদ্ভাবন পরীক্ষার জন্য আদর্শ কেন্দ্রে পরিণত করেছে। স্যান ফ্রান্সিসকোর স্টার্টআপগুলো এখন থাইল্যান্ডের এই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সুবিধার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
রিজে (RISE) এবং সি-এক্স ভেঞ্চারস মিলে সাউথ-ইস্ট এশিয়া হেলথ ইনোভেশন হাব (SAHIH) তৈরি করেছে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে ১০ কোটি রোগীর কাছে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে।
Above ড. সুফাচাই পাজারিয়াননত থাইল্যান্ডের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এআই-এর সঠিক প্রয়োগ ও নวัตกรรม (উদ্ভাবন) বিষয়ে আলোকপাত করছেন (ছবি: গ্লোবাল মেডিকেল এআই সামিট ২০২৬)।
জীবনমান উন্নয়ন ও নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত
এই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) কেবল বিজ্ঞানের জয়গান নয়, এটি একটি নতুন অর্থনীতির চালিকাশক্তিও বটে। উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে থাইল্যান্ডের এই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) প্রক্রিয়া জিডিপি ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে।
প্রযুক্তি চিকিৎসককে প্রতিস্থাপন করবে না, বরং তাদের হাতে বাড়তি সময় তুলে দেবে যেন তারা রোগীদের আরও বেশি যত্ন নিয়ে সেবা দিতে পারেন। এভাবেই নวัตกรรม (উদ্ভাবন) ও মানবিক সেবার মেলবন্ধনে থাইল্যান্ড ভবিষ্যতে বিশ্বের চিকিৎসা উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে।

Above SEA Health Innovation Hub বা SEA HI Hub-এর যাত্রা, যা থাইল্যান্ডকে বিশ্বের হেলথকেয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নวัตกรรม (উদ্ভাবন) কেন্দ্রে রূপ দেবে (ছবি: riseaccel.com)।



