Yayoi Kusama-এর প্রস্থান কেবল একজন কিংবদন্তি শিল্পীকে হারানো নয়, এটি সমসাময়িক শিল্প ইতিহাসের অন্যতম সাহসী এবং বর্ণময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। Yayoi Kusama এমন এক সৃষ্টিশীলতার ধারা রেখে গেছেন, যা পৃথিবী চিরকাল মনে রাখবে।
শৈশবের বিভ্রম থেকে জন্ম নেওয়া বিন্দু বা পোলকা ডটস থেকে শুরু করে অসীম দর্পণ কক্ষ (Infinity Mirror Room) এবং হলুদ কুমড়োর ভাস্কর্য—Yayoi Kusama রাস্তাঘাট, ফ্যাশন হাউজ এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে তাঁর শিল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছেন। প্রায় এক শতাব্দী ধরে Yayoi Kusama প্রমাণ করেছেন যে, ব্যক্তিগত আচ্ছন্নতা কীভাবে একটি সার্বজনীন ভাষায় রূপান্তরিত হতে পারে।
২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট টোকিও-র এক হাসপাতালে ৯৭ বছর বয়সে চিরবিদায় নেন Yayoi Kusama। ২৭ আগস্ট তাঁর স্টুডিও এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ছবি এঁকে গেছেন, “কখনোই তুলি নিচে রাখেননি” এবং নিরন্তর খুঁজে গেছেন চিরন্তন প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার অর্থ।
১৯২৯ সালে মাতসুমোতো শহরে জন্ম নেওয়া এক নারীর জীবনাবসান হলো, যিনি এশীয় নারীদের জন্য নিষিদ্ধ এক শিল্প জগতে নিজের জায়গা করে নিতে নিউ ইয়র্ক পাড়ি দিয়েছিলেন। Yayoi Kusama-এর সাফল্য কেবল তাঁর জনপ্রিয় কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি বারবার নিজের সময়ের চেয়েও এগিয়ে ছিলেন।
এখানে ৮টি গল্প রয়েছে, যেখানে Yayoi Kusama সমসাময়িক শিল্প ইতিহাসে রঙের ছোঁয়া ও নতুন ধারার সূচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: ডলি পার্টনের কালজয়ী সঙ্গীত ঐতিহ্য
Above Yayoi Kusama-এর ২০১৫ সালের এক সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি শিল্পী হিসেবে পথ চলায় পরিবারের বাধার কথা এবং নিজের কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
১. মানসিক ক্ষতকে রূপান্তর করেছেন ‘সেলফ-অবলিটারেশন’ বা আত্ম-বিলোপের মহাবিশ্বে
আজ হলুদ পৃষ্ঠের ওপর কালো বিন্দু বা অসংখ্য রঙের বিন্দু দেখলে Yayoi Kusama-এর কথা মনে পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে তাঁর কাছে বিন্দু কখনো শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির মাধ্যম ছিল না।
Kusama জানিয়েছেন, শৈশব থেকেই তিনি হ্যালুসিনেশন বা অদ্ভুত সব দৃশ্য দেখতেন, যেখানে ফুল বা নকশাগুলো ক্রমাগত সংখ্যায় বাড়তে থাকে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় তাঁর শিল্প দর্শনের মূল ভিত্তি ‘সেলফ-অবলিটারেশন’, যেখানে ব্যক্তি সত্তা পরিবেশের সাথে মিশে যায়। Yayoi Kusama কেবল বিন্দুকে জনপ্রিয় করেননি, বরং তাঁর ব্যক্তিগত মনের অবস্থাকে লক্ষ লক্ষ মানুষের সাথে সংযোগের প্রতীকে পরিণত করেছেন।
তাঁর মতে, পৃথিবী হলো মহাবিশ্বের কোটি কোটি তারার মাঝে একটিমাত্র বিন্দু। বিন্দু ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি আমাদের ক্ষুদ্র অস্তিত্বকে এক অনন্ত পরিবেশের অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। Yayoi Kusama-এর প্রতিটি বিন্দুর মধ্যে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য থাকে, যত বেশি বিন্দু বাড়বে, ততই আমাদের অহং ছোট হয়ে আসে।
আমাদের পৃথিবী হলো মহাবিশ্বের কোটি কোটি তারার মাঝে একটিমাত্র বিন্দুর মতো
২. ‘ইনফিনিটি নেটস’ (Infinity Nets): যখন পুনরাবৃত্তি শিল্পের নতুন ভাষা হয়ে ওঠে
১৯৫৮ সালে নিউ ইয়র্কে আসার পর Yayoi Kusama তাঁর বিখ্যাত Infinity Nets সিরিজ শুরু করেন। বিশাল ক্যানভাসে অগণিত ছোট ছোট বৃত্তাকার রেখা একে তিনি জালের মতো কাঠামো তৈরি করেন। ১৯৫৯ সালের অক্টোবরে নিউ ইয়র্কের ব্রাটা গ্যালারিতে নিজের প্রথম একক প্রদর্শনীতে তিনি এই সিরিজটি নিয়ে আসেন।
সেখানে পাঁচটি বিশাল সাদা রঙের একরঙা (monochromatic) পেইন্টিং প্রদর্শিত হয়, যা হাজার হাজার ছোট আর্চ বা অর্ধবৃত্তাকার তুলির আঁচড়ে তৈরি। এই জটিল জালিকা দর্শকদের এক অসীম বিস্তৃতির ভ্রম তৈরি করে। Yayoi Kusama-এর এই বারবার তুলি চালানোর ধরনটি তাঁর শৈশবের হ্যালুসিনেশন এবং মানসিক অবস্থা থেকেই অনুপ্রাণিত ছিল।

Above ১৯৬১ সালে নিউ ইয়র্কের স্টুডিওতে নিজের ‘ইনফিনিটি নেটস’ সিরিজের কাজের সাথে Yayoi Kusama (ছবি: YAYOI KUSAMA INC. © YAYOI KUSAMA)
প্রখ্যাত শিল্পী ও শিল্প সমালোচক ডোনাল্ড জাড ARTnews-এ তাঁর এই কাজের প্রশংসা করে Yayoi Kusama-কে এক অনন্য প্রতিভা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি প্রদর্শনী থেকে একটি সাদা Infinity Net ক্যানভাস ব্যক্তিগতভাবে কিনেও নেন। এই প্রদর্শনীটিই Yayoi Kusama-কে নিউ ইয়র্কের অ্যাভান-গার্ড বা অগ্রসর শিল্পীদের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয় এবং ‘ইনফিনিটি নেটস’ তাঁর চিরস্থায়ী পরিচিতি হয়ে ওঠে।
৩. সাধারণ চেয়ারকে পরিণত করেছেন পুরুষতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ জানানো ‘সফট স্কাল্পচার’-এ
Yayoi Kusama-এর ১৯৬২ সালের শিল্পকর্ম Accumulation No. 1 আধুনিক শিল্প ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক।
একটি সাধারণ আরমচেয়ারকে তিনি শত শত কাপড় দিয়ে তৈরি নলাকার বস্তু দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন, যা দেখতে অনেকটা পুরুষাঙ্গের মতো। Yayoi Kusama নিজের হাতে এগুলো সেলাই করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি একাধারে নারীবাদী শিল্পের (feminist art) গোড়াপত্তন করেছিলেন এবং পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার প্রতীককে তুচ্ছ করার এক অনন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।
এই কাজটি তাঁর নিজের মানসিক চিকিৎসার অংশও ছিল। শৈশবের যৌন সম্পর্কের ভয়কে জয় করার জন্য তিনি এই কাজটি বারবার করতেন। আজও Accumulation No. 1 নিউ ইয়র্কের MoMA-তে সংরক্ষিত আছে, যা Yayoi Kusama-এর মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা ও শিল্পের শক্তিকে তুলে ধরে।

Above নারীবাদী শিল্পের অগ্রদূত হিসেবে Yayoi Kusama-এর কালজয়ী ‘Accumulation No. 1’ ভাস্কর্যটি (ছবি: MoMA)
এটি তৎকালীন পপ আর্ট আন্দোলনের শুরুর দিকের প্রদর্শনীগুলোর অন্যতম এক উদাহরণ ছিল। Yayoi Kusama-এর এই অসামান্য সৃষ্টি আজও তাঁর বিশেষ শৈলী ও পুনরাবৃত্তিমূলক শিল্পশৈলীর এক অনন্য স্বাক্ষর বহন করে চলেছে।
৪. ‘ইনফিনিটি মিরর রুম’ (Infinity Mirror Room): দর্শককে শিল্পের অংশ বানিয়ে নেওয়া
১৯৬৫ সালের Infinity Mirror Room—Phalli’s Field শিল্পকলার সংজ্ঞা চিরতরে বদলে দিয়েছে। এটি Yayoi Kusama-এর বিখ্যাত দর্পণ কক্ষ সিরিজের প্রথম কাজ, যেখানে তিনি দর্শকদের কেবল দর্শক হিসেবে না রেখে শিল্পের ভেতরে টেনে নেন।
এই কক্ষের ভেতরে শত শত সাদা ও লাল বিন্দুর ভাস্কর্য দর্পণের প্রতিফলনের মাধ্যমে অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত মনে হয়। এখানে Yayoi Kusama কেবল কোনো শিল্পকর্ম তৈরি করেননি, বরং আমাদের অনুভূতিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন।

Above ১৯৬৫ সালে নিউ ইয়র্কের ক্যাস্টেলান গ্যালারিতে ‘ইনফিনিটি মিরর রুম—ফ্যালিস ফিল্ড’-এর সাথে Yayoi Kusama (ছবি: Eikoh Hosoe, © Yayoi Kusama)
এই কাজের গভীরে লুকিয়ে আছে Yayoi Kusama-এর মানসিক লড়াই ও নিজের ভয়ের মুখোমুখি হওয়ার গল্প। আয়নাগুলো ব্যবহার করে তিনি নিজের সত্তা ও দর্শককে একাকার করে দিয়েছেন, যা আমাদের অবচেতন মনের গভীরতাকে ছুঁয়ে যায়।
৫. ‘নার্সিসাস গার্ডেন’ (Narcissus Garden): ভেনিস বিয়েনালে-তে শিল্পের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা
১৯৬৬ সালের Narcissus Garden শিল্প জগতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। হাজার হাজার রুপালি গোলকের প্রতিফলন আমাদের নিজেদের অহং বা Narcissus-এর পৌরাণিক গল্প মনে করিয়ে দেয়।
Yayoi Kusama ভেনিস বিয়েনালে-তে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রিত না হওয়া সত্ত্বেও নিজের উদ্যোগে সেখানে গিয়ে এই কাজ প্রদর্শন করেন। তিনি কিমোনো পরে দুই ডলারে এই গোলকগুলো বিক্রি করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, “আপনার অহংকার বিক্রির জন্য প্রস্তুত?” এই প্রতিবাদী ভূমিকা তৎকালীন শিল্প জগতের পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে সরাসরি আঘাত করেছিল।

Above ১৯৬৬ সালের ভেনিস বিয়েনালে-তে Yayoi Kusama-এর ‘নার্সিসাস গার্ডেন’ প্রদর্শনীটি এক অবিস্মরণীয় প্রতিবাদ হয়ে আছে (ছবি: smarthistory.org, © YAYOI KUSAMA)
আজ Yayoi Kusama বিশ্বের অন্যতম দামি শিল্পী, যা তাঁর এই প্রতিবাদের একটি বড় irony। ২০২৪ সালে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ বিক্রিত সমসাময়িক শিল্পী হিসেবে শীর্ষ স্থান দখল করেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৯ মিলিয়ন ডলার।
৬. পারফরম্যান্স আর্টকে গ্যালারির চার দেয়াল থেকে রাস্তায় নিয়ে আসা
১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে Yayoi Kusama গ্যালারির দেয়াল ভেঙে শিল্পকে রাজপথে নামিয়ে আনেন। তিনি নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক ও ব্রুকলিন ব্রিজে জনসমক্ষে পারফরম্যান্স আর্ট বা ‘হ্যাফেনিংস’ আয়োজন করেন।
ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও তৎকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে তিনি নিজের শরীরে ও মানুষের শরীরে বিন্দু এঁকে শান্তির ডাক দেন। Yayoi Kusama বিশ্বাস করতেন যে, শিল্পের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই; শরীর ও প্রকৃতিই হলো ক্যানভাস। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপ সমসাময়িক শিল্প ও পারফরম্যান্স আর্টকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।

Above ১৯৬৭ সালে নিউ ইয়র্কের উডস্টক অরণ্যে নিজের শরীর ও ঘোড়াকে বিন্দুর সাজে সাজিয়ে ‘হর্স প্লে’ পরিবেশন করছিলেন Yayoi Kusama (ছবি: avantarte.com)
এই কাজের মাধ্যমেই তিনি নিজের ভয় ও আত্ম-সচেতনতাকে বিশ্বের সাথে ভাগ করে নিয়েছিলেন। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা, যা আজও শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগায়।
৭. ‘কুমড়ো’ বা পাম্পকিনকে সমসাময়িক শিল্পের আইকনে রূপান্তর
Yayoi Kusama-এর কাছে কুমড়ো কেবল সবজি নয়, বরং জীবনের শক্তির প্রতীক। ছোটবেলা থেকেই তাঁর হ্যালুসিনেশনের মাঝে কুমড়োই ছিল একমাত্র শান্তি ও বন্ধু। কুমড়োর অদ্ভুত আকৃতি ও তার মাঝে লুকিয়ে থাকা অদ্ভুত মানবিক বৈশিষ্ট্যে Yayoi Kusama খুঁজে পেতেন এক অনন্য ভালোবাসা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে কুমড়োই ছিল তাঁদের পরিবারের বেঁচে থাকার শক্তি। Yayoi Kusama-এর শিল্পের গভীরে তাই কুমড়ো এক অসীম শক্তির আধার। তিনি কুমড়োর গায়ে বিন্দু এঁকে নিজের অস্তিত্বকে সেখানে মিশিয়ে দিতেন, যা তাঁর কাছে এক ধরনের আত্ম-নিরাময় ছিল।

Above জাপানের নাওশিমা দ্বীপে Yayoi Kusama-এর কালজয়ী ‘ইয়েলো পাম্পকিন’ ভাস্কর্য (ছবি: Education Images/Universal Images Group via Getty Images)
বর্তমানে জাপানের নাওশিমায় অবস্থিত হলুদ রঙের কুমড়ো ভাস্কর্যটি বিশ্বের অন্যতম পর্যটন ও শিল্প কেন্দ্র। Yayoi Kusama-এর এই কুমড়ো প্রীতি তাঁর জীবনের গভীর ক্ষতগুলোকে এক অপার ভালোবাসায় রূপান্তর করার এক চমৎকার উদাহরণ।
৮. চারুকলা, ফ্যাশন এবং পপ সংস্কৃতির মাঝে দেয়াল ভেঙে দেওয়া
Yayoi Kusama বিশ্বাস করতেন শিল্প কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে পারে না। ১৯৬৮ সালে তিনি নিজেই ফ্যাশন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।
পরবর্তীতে লুই ভিতোঁ-র (Louis Vuitton) সাথে ২০১২ ও ২০২৩ সালে তাঁর কোলাবরেশন শিল্প ও ফ্যাশনের মধ্যে এক অবিশ্বাস্য সেতু তৈরি করে। তাঁর বিন্দু ও কুমড়োর ডিজাইন বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন প্রেমীদের মাঝে এক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। Yayoi Kusama-এর শিল্প কেবল গ্যালারিতে নয়, ব্যাগ, পোশাক এবং রাজপথেও সমানভাবে উজ্জ্বল।
আরও পড়ুন: লুই ভিতোঁ ওসাকা: Yayoi Kusama-এর বিন্দুমাখা শিল্পের এক রঙিন সফর

Above ২০২৩ সালে প্যারিসের শঁজেলিজে-তে লুই ভিতোঁ স্টোরে Yayoi Kusama-এর বিশাল ভাস্কর্য প্রদর্শিত হয়েছিল (ছবি: Edward Berthelot/Getty Images)

Above ২০২৬ সালের কোপেনহেগেন ফ্যাশন উইকে লুই ভিতোঁ ও Yayoi Kusama-এর কোলাবরেশন করা সাদা ও রঙিন বিন্দুর স্কয়ার ব্যাগ হাতে দর্শনার্থী (ছবি: Moritz Scholz/Getty Images)
Yayoi Kusama-এর হাত ধরেই আধুনিক ফ্যাশন আজ শিল্পের এক নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে প্রতিটি পোশাকই একেকটি চলন্ত ভাস্কর্য।
অ্যাভান-গার্ড থেকে এমন এক শিল্পী যার জন্য বিশ্ব অপেক্ষায় থাকে
২০২৪-২৫ সালে ন্যাশনাল গ্যালারি অফ ভিক্টোরিয়া (NGV)-তে Yayoi Kusama-এর প্রদর্শনীতে প্রায় ৫৭ লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল, যা এক ঐতিহাসিক রেকর্ড।
Above ন্যাশনাল গ্যালারি অফ ভিক্টোরিয়াতে Yayoi Kusama-এর ১৮০টিরও বেশি শিল্পকর্ম নিয়ে বিশাল প্রদর্শনীর এক দৃশ্যপট।
একজন জাপানি নারী যিনি নিউ ইয়র্কে এসে বারবার বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, আজ তিনি বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষের অনুপ্রেরণা। Yayoi Kusama কেবল বিন্দু বা দর্পণের শিল্পী নন, তিনি আমাদের অবচেতন মনের এক নিরাময়কারী।
তাঁর জীবন এক অসীম ক্যানভাস, যেখানে ভয় ও ভালোবাসা মিশে তৈরি করেছে এক নতুন পৃথিবী। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মানুষ কেবল টিকে থাকার জন্য নয়, বরং নিজের ভেতরকার অসীম জগতকে বহিঃপ্রকাশ করার জন্যই সৃষ্টি হয়।
মৃত্যুর আগে Yayoi Kusama বলেছিলেন, তিনি জানতেন না মানুষ তাঁকে কীভাবে মনে রাখবে, কিন্তু একজন বাইরের মানুষ বা ‘আউটসাইডার’ হয়ে থাকাটাই তাঁর কাছে তৃপ্তিদায়ক ছিল। তিনি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিতে বিশ্বাস করতেন না, বরং নিজের এক স্বতন্ত্র পৃথিবী তৈরি করেছিলেন।
আজ সেই জগতের স্রষ্টা না থাকলেও, Yayoi Kusama-এর শিল্প আমাদের মধ্যে অনন্ত হয়ে বেঁচে থাকবে।
আমি জানি না মানুষ আমাকে কীভাবে মনে রাখবে, তবে একজন বাইরের মানুষ হয়ে থাকাটাও বেশ তৃপ্তিদায়ক।




