পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই অনন্য বিলাসবহুল বাড়ি “W House II” প্রকৃতির সাথে মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক নতুন জীবনধারা তৈরি করেছে
“আমি একটি একতলা বাড়ি চাই, কিন্তু পুরোনো বাড়ির ছাদের সেই দৃশ্য আমি মিস করতে চাই না। আর হ্যাঁ, আমার দুটি পোষা গরুর হাঁটাচলার জন্যও জায়গা চাই।” এই সাধারণ অনুরোধটিই ছিল নকশা তৈরির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্থপতি পি চেরাভেট হংসকুল, যিনি IDIN Architects-এর প্রতিষ্ঠাতা, তিনি এই বিলাসবহুল বাড়িটি তৈরির গল্প শোনান। নাখন রাতচাসিমা প্রদেশের খাও ইয়াতে অবস্থিত এই ৩০০ বর্গমিটারের বাড়িটি প্রকৃতির মাঝে এক অনন্য স্থাপত্যশৈলী।
এই বাড়ির গল্পটি মূলত তাদের পুরোনো সম্পর্কেরই একটি অংশ। এক দশক আগে তৈরি হওয়া প্রথম বাড়িটি ছিল তাদের রোমান্টিক ভ্রমণের সাক্ষী। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাদের জীবনধারায় পরিবর্তন এসেছে। এখন তারা পাহাড়ের পথে দৌড়ানো বা ট্রেইলে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।
আরও পড়ুন: হোম ট্যুর: মনসুন হাউসের শান্ত স্থাপত্যশৈলী

Above সাত মিটার উঁচুতে ভাসমান এই বিলাসবহুল বাড়ি প্রকৃতিকে তার নিজস্ব স্থানে ফিরিয়ে দেয় (ছবি: DOF Sky | Ground)
পরিবারের নতুন সদস্য, গরু ও ব্রাউনি, এই বাড়ি তৈরির পেছনের বড় অনুপ্রেরণা। তাদের এই বিলাসবহুল বাড়ি এখন পরিবারের সুখের নতুন কেন্দ্র। এই বাড়িটি তাদের জীবনযাত্রার এক নতুন সংজ্ঞায় রূপ নিয়েছে।

Above বাড়ির নিচের খোলা জায়গায় পোষা গরু দুটির অনায়াস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে (ছবি: DOF Sky | Ground)
এক অনন্য স্থাপত্য সমাধান
স্থপতিরা এমন এক ডিজাইন তৈরি করলেন যেখানে একতলা বাড়িতে থেকেই পাহাড়ের প্যানোরামিক দৃশ্য দেখা যাবে। সমাধানটি ছিল অসাধারণ: সম্পূর্ণ বাড়িটিকে সাত মিটার উঁচুতে তুলে ফেলা। এর ফলে পরিবারের সবাই একসাথে থাকতে পারছে এবং উঁচু থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছে। এই বিলাসবহুল বাড়ি তাই সবদিক থেকেই অনন্য।

Above সাত মিটার উঁচুতে ভাসমান বাড়ি, নিচে প্রকৃতির অবাধ বিচরণ (ছবি: DOF Sky | Ground)
নিচের খোলা অংশটি গরু দুটির জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে। এই নকশাটি ঐতিহ্যবাহী থাই স্থাপত্যের আধুনিক রূপ, যা বাতাস চলাচল ও ছায়া নিশ্চিত করে। বাড়িটি যেমন আধুনিক, তেমনই পরিবেশবান্ধব।

Above প্রকৃতির মাঝে বিলাসবহুল এই বাড়ির স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর (ছবি: DOF Sky | Ground)
কাঠামোগত জাদু
সাত মিটার উঁচুতে বিশাল এক কংক্রিট কাঠামো দাঁড় করিয়ে রাখা কোনো সাধারণ কাজ ছিল না। এখানে “শিয়ার ওয়াল” প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা পুরো বাড়ির ভার বহন করছে। রাস্তার মোড়ে অবস্থিত হওয়ায় দেয়ালগুলো বক্রাকার রাখা হয়েছে, যা বাড়ির সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব উভয়ই নিশ্চিত করে। এটিই সেরা বিলাসবহুল বাড়ি ডিজাইনের এক দৃষ্টান্ত।

Above শিয়ার ওয়াল দেয়ালগুলো গাছের ছায়াকে বাড়ির ক্যানভাসে রূপ দেয় (ছবি: DOF Sky | Ground)

Above কংক্রিটের দেয়াল ও লোহার সিঁড়ির আধুনিক সংযোগ (ছবি: DOF Sky | Ground)
বাড়ির স্থায়িত্বের জন্য “ওয়াফল স্ল্যাব” সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোনো পিলার ছাড়াই ১২ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত স্থান তৈরি করেছে। রাতের বেলায় এই কাঠামোর ফাঁক দিয়ে আসা আলো পুরো বাড়িটিকে এক জাদুকরী রূপ দেয়।
ডিজাইনের ভারসাম্য
বাড়ির ভেতরটা যেন বাইরের রুক্ষ কংক্রিটের ঠিক উল্টো। এখানে ম্যাপল কাঠের উষ্ণ ছোঁয়া এবং সবুজ ইন্ডিয়ান মার্বেলের ব্যবহার বাড়ির ভেতরে এক শান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। প্রতিটি কোণা খুব যত্নে ডিজাইন করা হয়েছে।
বাড়ির প্রাণকেন্দ্র হলো এল-আকৃতির হলঘর, যেখানে একটি সুবিশাল সোফা রাখা আছে। সোফাটির বিশেষত্ব হলো এটি যে কোনো দিকে ঘোরানো যায়, যাতে পরিবারের সবাই একসাথে সময় কাটাতে পারে। এই বিলাসবহুল বাড়িটি সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করে।

Above একই স্থানে সব কার্যক্রমের সমন্বয়ে তৈরি এই হলঘরটি অত্যন্ত আরামদায়ক (ছবি: DOF Sky | Ground)
প্রকৃতির কোল ঘেঁষে বসবাস
বারান্দা থেকে পাহাড়ের দৃশ্য দেখা এক দারুণ অভিজ্ঞতা। বাড়ির চারপাশে ১৫ মিটার লম্বা একটি পুল রয়েছে, যা একে এক ব্যক্তিগত রিসোর্টের মতো বিলাসবহুল করে তুলেছে।
বাইরের রোদ থেকে বাঁচার জন্য “ডাবল স্কিন” প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম ল্যাটিস রোদ আটকানোর পাশাপাশি গোপনীয়তাও বজায় রাখে।

Above বিলাসবহুল এই বাড়ির বাইরে রোদ আটকানোর বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে (ছবি: DOF Sky | Ground)

Above রাতে আলোর ঝলকানিতে বিলাসবহুল এই বাড়ি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে (ছবি: DOF Sky | Ground)
অনুরাগ থেকে স্থাপত্যের জন্ম
W House II কেবল একটি বাড়ি নয়, এটি মালিকের ইচ্ছাশক্তি ও অনুরাগের প্রতিফলন। এই বিলাসবহুল বাড়িটি প্রমাণ করে যে আবেগ ও সৃজনশীলতা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

Above বিলাসবহুল এই বাড়ির নকশা মালিকের ব্যক্তিত্বেরই বহিঃপ্রকাশ (ছবি: DOF Sky | Ground)











