AAD-এর অসাধারণ নকশায় তৈরি এই আধুনিক “বাড়ি”, যা অ্যালুমিনিয়াম ফাসাদের মাধ্যমে শব্দ ও তাপ নিয়ন্ত্রণ করে এলাকাবাসীর সঙ্গে এক নিবিড় সংযোগ গড়ে তুলেছে।
চোনবুরি প্রদেশের সাত্তাহিব শহরের পুরোনো বাণিজ্যিক এলাকার কথা বলতে গেলে প্রথমেই মনে পড়ে প্রাণবন্ত সব কাঠের তৈরি দোতলা ভবন আর সেখানকার সহজ-সরল জীবনধারার কথা। এই ক্লাসিক আবহাওয়ার মাঝে “সেলিয়েন্ট হাউস” (Salient House) তার আধুনিক স্থাপত্যশৈলী নিয়ে এক নতুন ল্যান্ডমার্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। Ayutt and Associates design (AAD)-এর তৈরি এই “বাড়ি”টি বাইরে থেকে আধুনিক মনে হলেও, এটি কোনোভাবেই তার আশপাশের পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
এই সামঞ্জস্যের পেছনে রয়েছে সেখানকার ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে সম্মান জানানোর এক গভীর দর্শন। স্থপতিরা পুরোনো সাত্তাহিবের প্রাণচাঞ্চল্যকে আধুনিক রূপ দিয়েছেন। ঘরের ভেতরে ঢুকলেই মালিকের আসল জীবনযাত্রার ছাপ পাওয়া যায়, যেখানে ব্যবসার অংশ হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানের পাশাপাশি রয়েছে কবুতর পোষা কিংবা বক্সিং রিংয়ের মতো চমৎকার সব শখ।
আরও পড়ুন: হোম ট্যুর: মিরিন হাউস, আলো ও ছায়ার এক অনন্য নাট্যশালা

Above সেলিয়েন্ট হাউসের সামনের অংশে নিচতলার প্রশস্ত ও নমনীয় বিন্যাস স্থানীয় কার্যকলাপকে স্বাগত জানায়। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)

Above অ্যালুমিনিয়ামের ছিদ্রযুক্ত ফাসাদ দূষণ ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে, যা প্রকৃতির সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক বজায় রাখে। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এই আধুনিক “বাড়ি”-র মাঝে কীভাবে প্রথাগত জীবনধারা বজায় রাখা যায়। AAD-এর প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি আয়ুত মাহাসোম ব্যাখ্যা করেন, “স্থানীয় সত্তা স্থাপত্যের বাহ্যিক রূপে নয়, বরং পরিবেশ ও জীবনযাত্রায় নিহিত থাকে। বাড়ির মালিক আধুনিকতা চেয়েছিলেন কিন্তু ঐতিহ্যবাহী আনন্দও ত্যাগ করতে চাননি। আমাদের কাজ ছিল এই দ্বন্দ্বের মাঝে একটি সুন্দর সামঞ্জস্য তৈরি করা।”
এর ফলস্বরূপ এমন এক স্থাপত্য সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে সৌন্দর্য ও স্থানীয় ঐতিহ্যের এক দারুণ সমন্বয় দেখা যায়।

Above অ্যালুমিনিয়ামের ফাসাদের নিচে ছোট একটি বক্সিং রিং। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)

Above কালো কংক্রিটের কার্নিশ এবং অ্যালুমিনিয়ামের ফাসাদ, যার নিচে চলছে বক্সিংয়ের প্রশিক্ষণ। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)
সেন্সরি ফিল্টার ও আধুনিক বাড়ি
ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় বাস করার চ্যালেঞ্জ হলো দূষণ ও জলবায়ুর প্রতিকূলতা। তাই স্থপতিরা “জিগ-জ্যাগ” অ্যালুমিনিয়াম ফাসাদ ব্যবহার করেছেন। এটি একটি স্মার্ট ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, যা শব্দ দূষণ ও উপকূলীয় তাপ থেকে এই “বাড়ি”কে রক্ষা করে শহরের বুকে এক শান্ত মরূদ্যান তৈরি করে।
ফাসাদের ছিদ্রগুলো প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের পথ তৈরি করে। বর্ষায় এই ফাসাদ বৃষ্টিকে বাধা দিলেও বাইরের সোঁদা গন্ধ বা বৃষ্টির আমেজ পেতে জানালা খোলার সুযোগ রাখে, যা এই ব্যস্ত শহরে বিরল এক অভিজ্ঞতা।

Above জিগ-জ্যাগ অ্যালুমিনিয়াম ফাসাদ ও গাছপালার মেলবন্ধন যা রোদ ও শব্দ থেকে রক্ষা করে এই বাড়িটিকে। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)

Above উপরতলার এই বাড়ি-র বিশ্রাম এলাকাটি ফাসাদের মাধ্যমে আলো ও বাতাস নিয়ন্ত্রণ করে মালিকের শখ পূরণে দারুণ কার্যকর। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)
স্থানীয় স্থাপত্যের নতুন সংজ্ঞা
বর্তমান যুগে থাই স্থাপত্যের চেহারা কেমন? এই “বাড়ি”-র নিচতলাটি অনেকটা পুরোনো দিনের বাড়ির “নিচতলার ফাঁকা জায়গার” (ใต้ถุนบ้าน) মতো ডিজাইন করা হয়েছে। এটি ব্যবসার কাজ ছাড়াও উৎসবে সবার বসার জায়গা হিসেবে কাজ করে, যা সামাজিক বিনিময়ের সেই পুরোনো চেতনাকে টিকিয়ে রেখেছে।

Above বাইরের ব্যস্ত পরিবেশ থেকে বাড়ির অন্দরের শান্ত আবহের এক চমৎকার রূপান্তর। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)
বাড়ির পেছনে গ্লাস ব্লকের ব্যবহার এক অসাধারণ গিমিক। রাতে এই “বাড়ি”-র ভেতরের আলো বাইরে পড়ে এলাকার রাস্তা আলোকিত করে, যা প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি বাড়ায়।
আরও পড়ুন: হোম ট্যুর: বান বানজব, প্রজন্মের দূরত্ব কমানোর স্থাপত্য

Above সবুজ বাগান ও পোষা প্রাণী এই বাড়ি-র আধুনিক নকশাকে আরও জীবন্ত করে তোলে। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)

Above প্রকৃতি ও জীবনধারা যখন আধুনিক নকশার এই বাড়ি-র ভেতর মিশে যায়। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)

Above গ্লাস ব্লকের এই দেয়াল বাড়ির ভেতরের আলো বাইরের পথে ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিবেশীদের নিরাপত্তায় সাহায্য করে। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)
ভৌগোলিক গভীরতা ও বাড়ি
সেলিয়েন্ট হাউসের উপকরণ নির্বাচনে কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং স্থায়িত্বকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সল্ট এয়ার বা লোনা বাতাস থেকে সুরক্ষা পেতে অ্যালুমিনিয়াম ফাসাদ এখানে বেশ কার্যকর। এছাড়া পুরোনো কাঠের বাড়ির এলাকা হওয়ায় এই কংক্রিট ও ইস্পাতের কাঠামো অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ারওয়ালের মতো কাজ করে সুরক্ষা দেয়। স্থপতির উদ্দেশ্য ছিল, এই “বাড়ি” কেবল একজন নয়, বরং পুরো এলাকার উপকারে আসবে।

Above জিগ-জ্যাগ অ্যালুমিনিয়াম ফাসাদের বিস্তারিত নকশা এই বাড়ি-র সৌন্দর্য বাড়ায়। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)

Above জিগ-জ্যাগ অ্যালুমিনিয়াম ফাসাদের বিস্তারিত নকশা এই বাড়ি-র সৌন্দর্য বাড়ায়। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)

Above আধুনিক ও শৈল্পিক এই বাড়ি-র বাইরের অংশের বিস্তারিত দৃশ্য। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)
কংক্রিট ব্লকের ব্যবহারে তৈরি প্রবেশপথ দিনের বিভিন্ন সময়ে আলো ও ছায়ার এক চমৎকার খেলা তৈরি করে, যা প্রমাণ করে সাধারণ উপাদানেও অসাধারণ বিলাসিতা সম্ভব।

Above কংক্রিট ব্লকের দেয়ালের ওপর আলো ও ছায়ার এক অপূর্ব খেলা। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)

Above কংক্রিট ব্লকের এই আধুনিক বিন্যাস এই বাড়ি-কে আরও সমসাময়িক করে তুলেছে। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)
চরম চ্যালেঞ্জ ও বাড়ি
বিলাসবহুল জীবনযাপন, ব্যবসা এবং নিরাপত্তার সমন্বয় করাই ছিল এই প্রজেক্টের প্রধান চ্যালেঞ্জ। কংক্রিটের লম্বা কার্নিশগুলো অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের জন্য পথ তৈরি করে, যা নিরাপত্তার সাথে নান্দনিকতার এক অসাধারণ মেলবন্ধন।

Above কংক্রিটের লম্বা কার্নিশগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের জন্য চলাচলের পথ হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)

Above কংক্রিটের লম্বা কার্নিশগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের জন্য চলাচলের পথ হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)
দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার বারান্দাগুলো থেকে বাইরের গাছপালা ও দিগন্ত দেখার এক অনন্য সুবিধা পাওয়া যায়। স্থপতিরা প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা এমনভাবে পরিকল্পনা করেছেন যে বাড়ির বাসিন্দারা আশপাশের প্রতিবেশীদের দেয়াল না দেখে প্রকৃতির সাথে মিশে থাকতে পারেন। এই “বাড়ি”-র প্রতিটি বারান্দা ও খোলা জায়গা যেন সাত্তাহিবের আকাশের সাথে একাত্ম হতে শেখায়, যা স্থাপত্যের প্রকৃত সার্থকতা।

Above সন্ধ্যায় আলোকজ্জ্বল সেলিয়েন্ট হাউস তার চারপাশের পরিবেশকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। (ছবি: Chalermwat Wongchompoo | Sofography)
Topics


















