อัสนีและวสันต์​ โชติกุล สองพี่น้องที่มีสไตล์ดนตรีเป็นเอกลักษณ์ เตรียมอำลาเวทีด้วยคอนเสิร์ต FAREWELL CONCERT อัสนีและวสันต์ “อยากจะย้ำชัดๆ ครั้งสุดท้าย” เพื่อฉลองครบรอบสีทศวรรษ โดยกีตาร์หอบฟางที่วางอยู่มุมขวาด้านหลังจะเป็นของที่ระลึกสุดเอ็กซ์คลูซีฟชิ้นเดียวในโลก (ภาพ: Neekrung Connect)
Cover অসনী-ওয়াসান্ত জোতিকুল তাদের ৪০ বছরের সংগীত ক্যারিয়ারের শেষ কনসার্টে অংশ নিতে প্রস্তুত। তাদের এই অনন্য সংগীতের স্টাইল ও আভিজাত্য আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ছবিতে তাদের সেই ঐতিহাসিক গিটারের দৃশ্যটি তুলে ধরা হয়েছে (ছবি: নীক্রুং কানেক্ট)।
อัสนีและวสันต์​ โชติกุล สองพี่น้องที่มีสไตล์ดนตรีเป็นเอกลักษณ์ เตรียมอำลาเวทีด้วยคอนเสิร์ต FAREWELL CONCERT อัสนีและวสันต์ “อยากจะย้ำชัดๆ ครั้งสุดท้าย” เพื่อฉลองครบรอบสีทศวรรษ โดยกีตาร์หอบฟางที่วางอยู่มุมขวาด้านหลังจะเป็นของที่ระลึกสุดเอ็กซ์คลูซีฟชิ้นเดียวในโลก (ภาพ: Neekrung Connect)

দুই ভাই অসনী ও ওয়াসান্ত জোতিকুল-এর ৪০ বছরের সংগীত জীবনের এই চূড়ান্ত বিদায়ী কনসার্টে স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো উপভোগের জন্য প্রস্তুত হোন, যা ২-৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি তাদের শেষ সংগীতযাত্রা, যাকে বলা হচ্ছে “অসনী-ওয়াসান্ত”-এর চূড়ান্ত পরিবেশনা।

FAREWELL CONCERT: অসনী ও ওয়াসান্ত “ইয়াক জা ইয়াম চা চাত ক্রাং সুত থাই” (সবচেয়ে স্পষ্টভাবে শেষবারের মতো বলতে চাই) শীর্ষক কনসার্টের পাঁচটি শো ২, ৩, ৫, ৬ এবং ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। থাই সংগীত জগতে এটি একটি বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এটি কেবল সাধারণ কোনো কনসার্ট নয়, বরং দুই ভাই ও থাই পপ-রক সংগীতের প্রতীকের মঞ্চে এটিই শেষবারের মতো সংগীতযাত্রা। অরিজিনাল থাই সংগীতে “অসনী-ওয়াসান্ত” এক অনন্য নাম।

গত চার দশক ধরে পম অসনী জোতিকুল এবং তো ওয়াসান্ত জোতিকুল নামটি কেবল শিল্পী হিসেবে নয়, বরং থাই সমসাময়িক সংগীতের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ডলি পার্টনের চিরন্তন সংগীতের উত্তরাধিকার

Tatler Asia
อัลบั้ม ‘บ้าหอบฟาง’ แม้จะไม่เปรี้ยงปร้างในแง่ยอดขายทันทีในตอนแรก แต่ถือเป็นหมุดหมายสำคัญที่ปฏิวัติวงการเพลงร็อกไทยและสร้างรากฐานความสำเร็จให้อัสนี-วสันต์ในอัลบั้มต่อๆ มา
Above অসনী-ওয়াসান্ত-এর ‘বা হব ফাং’ অ্যালবামটি থাই রক সংগীতের ইতিহাসে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিল এবং পরবর্তী সাফল্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। বিলাসবহুল ঘড়ি কিংবা বিরল মিউজিক অ্যালবাম, তাদের এই সংগ্রহ আভিজাত্যের প্রতীক।
อัลบั้ม ‘บ้าหอบฟาง’ แม้จะไม่เปรี้ยงปร้างในแง่ยอดขายทันทีในตอนแรก แต่ถือเป็นหมุดหมายสำคัญที่ปฏิวัติวงการเพลงร็อกไทยและสร้างรากฐานความสำเร็จให้อัสนี-วสันต์ในอัลบั้มต่อๆ มา

‘বা হব ফাং’: থাই রক সংগীতের নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী বিলাসবহুল ঘড়ি এবং সংগীতের মেলবন্ধন

লোয়েই প্রদেশ থেকে উঠে আসা এই দুই ভাইয়ের যাত্রা কেবল ভাগ্যের জোরে নয়, বরং ছিল সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি। ১৯৮৬ সালে, যখন থাই সংগীত ছিল প্রথাগত, তখন তাদের প্রথম অ্যালবাম বা হব ফাং মুক্তি পায়। এই সংগীত যাত্রার সময় তারা ছিলেন স্বাধীন।

বা হব ফাং অ্যালবামটিকে থাই সংগীতের একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হয়। এটি প্রমাণ করেছিল যে, থাই ভাষার রক সংগীতও হতে পারে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের, যা একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতির শিকড় ধরে রাখে।

আরও পড়ুন: NOWZ ব্যান্ডের ডিস্কো-ফাঙ্ক জাঁকজমক এবং সংগীতের অনন্য স্বাদ

Above ‘বা হব ফাং’ কনসার্টে অসনী-ওয়াসান্ত-এর ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের দৃশ্য।

এই কাজটিতে রক অ্যান্ড রোল এবং সিনথ-রক এর এক চমৎকার সংমিশ্রণ ছিল। বিদ্যুৎ গিটারের সুরের সাথে থাই বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি হয় “অসনী-ওয়াসান্ত স্টাইল”। তারা জনপ্রিয় গানগুলোকে নতুন আবহে উপস্থাপন করেন, যা তাদের অনন্য করে তোলে। এই কনসার্ট যেন সংগীতের এক বিলাসবহুল সফর।

পরবর্তীকালে গ্র্যামি-তে যোগ দিয়ে ফাক চি রোই না (১৯৮৭) অ্যালবামটি মুক্তি পায়, যা মূলধারার সংগীতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তাদের গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে, যা তাদের সংগীতে এক চিরন্তন আভিজাত্য এনে দেয়।

Above ওয়াসান্ত জোতিকুল, ‘নুয়েং মিত্ত চিদ কাই’ গানটির মিউজিক ভিডিওতে অনবদ্য।

“অসনী-ওয়াসান্ত” সংগীতের কালোত্তীর্ণ ঐশ্বর্য

অসনী-ওয়াসান্ত-এর ৯টি প্রধান স্টুডিও অ্যালবাম রয়েছে। তাদের সংগীত দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে টিকে থাকার কারণ কেবল কারিগরি শ্রেষ্ঠত্ব নয়, বরং এর বিশাল গ্রহণযোগ্যতা।

  • সাউন্ডের অনন্য ভারসাম্য: অসনী-এর দৃঢ় কণ্ঠস্বর এবং ওয়াসান্ত-এর নমনীয় কণ্ঠের সংমিশ্রণ ইয়িন ও ইয়াংয়ের মতো নিখুঁত।
  • কালোত্তীর্ণ সুর: তাদের সুর ও মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট অত্যন্ত উন্নত, যার ফলে সময়ের সাথে সাথে গানগুলো পুরনো হয় না।
  • সাহিত্যের ছোঁয়া: দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কথাগুলোকে তারা চমৎকার সাহিত্যিক গাম্ভীর্যে উপস্থাপন করেছেন।

“অসনী-ওয়াসান্ত” এর আবেগঘন সংগীতের ভাষা

অসনী-ওয়াসান্ত-এর গানগুলো যেন জীবনের সাউন্ডট্র্যাক। তাদের কথা ও সুরের মাধ্যমে তারা হৃদয়ের ব্যথা এবং আনন্দকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলেন, তা অতুলনীয়। তাদের কনসার্টে বাবা-মা থেকে শুরু করে সন্তান—সবাই একসঙ্গে গান গায়, যা এক অভাবনীয় দৃশ্য।

তাদের গানগুলো আজও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তুমুল জনপ্রিয়, যা তাদের সংগীতের চিরস্থায়ী আবেদন নিশ্চিত করে।

Above ২০০৭ সালের ‘অসনী-ওয়াসান্ত রাম রাই’ কনসার্টের বর্ণিল দৃশ্য সংকলন।

সাফল্যের প্রতীক: সব টিকিট বিক্রি হওয়ার অভূতপূর্ব দৃশ্য

কনসার্ট ঘোষণার সাথে সাথেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে অসনী-ওয়াসান্ত-এর প্রতি মানুষের অগাধ ভালোবাসা। তাদের এই শেষ যাত্রা সংগীত ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সংগীত পিপাসু ভক্তরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

Tatler Asia
โปสเตอร์ประชาสัมพันธ์คอนเสิร์ตเพื่อการอำลา (ภาพ: Neekrung Connect)
Above অসনী-ওয়াসান্ত বিদায়ী কনসার্টের মূল আকর্ষণীয় পোস্টার (ছবি: নীক্রুং কানেক্ট)
โปสเตอร์ประชาสัมพันธ์คอนเสิร์ตเพื่อการอำลา (ภาพ: Neekrung Connect)

“শেষবারের মতো” কথাটি তাদের জন্য কেবল একটি প্রচারণামূলক বাক্য নয়, বরং এক ইতিহাসের ইতি টানা। এই বিশেষ শো-তে ভক্তরা তাদের প্রিয় শিল্পীর সাথে সবশেষ গান গাওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • স্মৃতির অংশীদার হওয়ার অনন্য সুযোগ: এমন অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি আর কখনোই সম্ভব হবে না।
  • ৪০ বছরের অভিজ্ঞতার ফসল: তাদের এই শেষ শো হতে যাচ্ছে সংগীতের এক অসাধারণ মাস্টারপিস।
  • আবেগঘন পরিবেশ: এটি ভক্তদের জন্য এক আনন্দ ও বিদায়ের মিশ্র অনুভূতি।
Above ‘লা কর্ন’ (বিদায়) গানটি বিদায় এবং বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার এক অনন্য সুর, যা এই কনসার্টের মূল আকর্ষণ।

অসনী-ওয়াসান্ত-এর মঞ্চের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাদের পিক্স গিটার ছুঁড়ে দেওয়ার সংস্কৃতি। এই পিক্সগুলো কেবল বস্তু নয়, বরং শিল্পীর সঙ্গে ভক্তদের দীর্ঘ ৪০ বছরের প্রেমের প্রতীক।

এই সংগীত যাত্রার শেষ প্রহরে, তাদের সুর ও সুরের জাদু সব ভক্তের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।

গিটারের পিক্স ছুড়ে দেওয়া মানেই ভালোবাসা ও শক্তি বিনিময় করা। ভক্তদের এই আনন্দই একজন সংগীতশিল্পীর জীবনের চূড়ান্ত সার্থকতা।

- অসনী জোতিকুল -

Topics

উসানিসা ওংমংকলরিত
সহকারী সম্পাদক, পাওয়ার অ্যান্ড পারপাস, Tatler Thailand
Tatler Asia

উসানিসা ওংমংকলরিত, যিনি অর্থ, বিনিয়োগ এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ একজন কন্টেন্ট ম্যানেজার, তিনি সম্পদের পরিধিকে সিনেমা দেখা, গান শোনা বা বই পড়ার মতো আনন্দের ক্ষেত্রগুলো পর্যন্ত প্রসারিত করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই আনন্দ বিদ্যমান এবং তা মানুষের জন্য অফুরন্ত নতুন শক্তি সৃষ্টি করতে পারে।