Cover আধুনিক যুগের “桃花源” বা স্বর্গের সন্ধানে এই বিশেষ অভিজ্ঞতা (ছবি: টাটলার)

জীবনের দ্রুত গতিতে ক্লান্ত না হয়ে সময়কে নিজের মতো সাজানোই সমৃদ্ধি। টাটলার (Tatler), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, বিএমডব্লিউ এবং পোইউয়েনজি (POUYUENJI) একত্রে তাও ইউয়ানমিং-এর “桃花源” বা ‘পিচ ব্লসম স্প্রিং’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এক বিশেষ নিমজ্জিত ও নিরিবিলি অভিজ্ঞতার আয়োজন করেছে।

“অবসরের স্বাধীনতা” আসলে কী? এটি হয়তো কেবল বেশি সময় থাকা নয়, বরং নিজের সময় কোথায় ব্যয় করবেন সেই ক্ষমতা থাকা। চা পান করা, নাটক দেখা, মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া কিংবা একটি বাগানে পুরো বিকেল কাটানো—এটাই আসল বিলাসিতা। টাটলার (Tatler), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, বিএমডব্লিউ এবং পোইউয়েনজি (POUYUENJI) তাও ইউয়ানমিং-এর “桃花源” থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘খালি সময়’ বা অবসর নিয়ে এক দারুণ অভিজ্ঞতার আয়োজন করেছে। আলোচনা, অপেরা,书法 (ক্যালিগ্রাফি), চা-চক্র, গাড়ি টেস্ট-ড্রাইভ এবং রাতের ভোজের মাধ্যমে এই আয়োজনটি এমন এক স্মৃতি তৈরি করেছে যা সময় ও জীবনের গুরুত্ব পুনরায় উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। এই “桃花源” বা আধুনিক স্বর্গ এখন আর বিমূর্ত নয়, বরং এক বাস্তব ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

আরও পড়ুন: পোইউয়েনজি (POUYUENJI)-এর জেনারেল ম্যানেজার সাই মিং-লুন বলেন: “নিজে চেষ্টা না করলে আপনি কখনোই ফলাফল জানতে পারবেন না।”

অবসর থাকলে সময়কে সাজানো যায় নিজের মতো

এই “桃花源” বা স্বর্গীয় অভিজ্ঞতায় আমরা অতিথিদের নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম এই বিষয়টির সন্ধানে যে, সময়কে নিজের মতো সাজানোর ক্ষমতা আসলে কী। টাটলার-এর এডিটর-ইন-চিফ ব্লুস, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান ও পোইউয়েনজি-র জেনারেল ম্যানেজার সাই মিং-লুন সম্পদের সঞ্চয় এবং জীবনের সার্থকতা নিয়ে আলোচনা করেন। ব্লুস উল্লেখ করেন, “আপনার যখন নিজের সময়কে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তখন কীভাবে সেই সম্পদকে আরও মূল্যবান করে তুলবেন?” ব্যাংক এখন কেবল আর্থিক ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং গ্রাহকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও সহায়তা করছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এই ইভেন্টে তাদের ‘বিয়ন্ড ওয়ার্ল্ড এলিট কার্ড’ ঘোষণা করেছে, যা আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সকে ভ্রমণ ও ডাইনিং-এর মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছে।

Tatler Asia
Above টাটলার-এর এডিটর ব্লুস “桃花源” অভিজ্ঞতার মাহাত্ম্য নিয়ে আলোচনা করছেন (ছবি: টাটলার)

এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল না কেবল ‘সম্পদ’ বা সমৃদ্ধিকে সংজ্ঞায়িত করা, বরং অতিথিদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করানো যে, যদি নিজের সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে আপনি কীভাবে তা ব্যয় করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই আয়োজিত হয়েছে নাটক ও শিল্পকলার প্রদর্শনী, যা এই “桃花源” বা স্বর্গীয় অনুভূতিকে আরও গভীর করেছে।

এই বাগান দেখে টাটলারের মনে পড়েছে হলুদ অপেরা

Tatler Asia
Above টাটলার ২৫ বছরের বেশি পুরনো ইয়ুনকিং অপেরা ট্রুপকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে (ছবি: টাটলার)

টাটলার টিম যখন প্রথম পোইউয়েনজি হিলস-এ পৌঁছাল, সেখানকার ছোট ব্রিজ, ঝরনা এবং বাগান দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল যেন তারা কোনো古典 (ধ্রুপদী) মঞ্চে এসে উপস্থিত হয়েছে। আর তাই এই বাগানকে ঘিরেই মঞ্চস্থ হলো ‘হুয়াংমেই অপেরা’। ২৫ বছরের পুরনো ইয়ুনকিং অপেরা ট্রুপ তাদের অসাধারণ পরিবেশনায় সবাইকে বিমোহিত করে। তারা দর্শকদের মাঝে গিয়ে তাদের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে এবং এই “桃花源” বা স্বর্গীয় আবেশকে জীবন্ত করে তোলে।

Tatler Asia
Above অপেরা শিল্পী ও দর্শকদের মিথস্ক্রিয়া ও আনন্দঘন পরিবেশ (ছবি: টাটলার)

বিএমডব্লিউ (BMW), এই স্বর্গীয় গল্পের সফরকে আরও দূরে নিয়ে যায়

Tatler Asia
Above অতিথিদের জন্য বিএমডব্লিউ টেস্ট-ড্রাইভের আয়োজন (ছবি: টাটলার)

অপেরার পর বিএমডব্লিউ-এর মাধ্যমে যাত্রা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। অতিথিরা বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ, ৭ সিরিজ, এক্স৫, এক্স৭ এবং ইলেকট্রিক আইএক্স চালিয়ে পাহাড়ি রাস্তায় চায়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছিলেন। গাড়ির ডিজাইন থেকে শুরু করে রাস্তার বাঁকে প্রতিটি মোড় বিএমডব্লিউ-এর সাথে এক অনন্য অভিজ্ঞতা দিয়েছে। ফেরার পথে পোইউয়েনজি হিলস-এ বিএমডব্লিউ ৪ সিরিজ কনভার্টিবল গাড়ির প্রদর্শনী ও পোলারয়েড ছবি তোলার ব্যবস্থা ছিল, যা এই “桃花源” বা স্বর্গীয় মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

একটি প্রাচীন কবিতা এবং আধুনিক পথপ্রদর্শক

Tatler Asia
Above আধুনিক যুগের “桃花源” বা স্বর্গের সন্ধানে অতিথিরা (ছবি: টাটলার)

যদিও ইভেন্টটি “桃花源” বা স্বর্গ থেকে নেওয়া, তবে টাটলার এখানে যোগ করেছে এক আধুনিক ছোঁয়া। অভিনেতা মাও মাওকে ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। এছাড়া আধুনিক ক্যালিগ্রাফার জিয়ান বো-ইউ যখন現場書法 বা ক্যালিগ্রাফি করছেন, তখন মনে হচ্ছিল যেন শিল্পকলা জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

Tatler Asia
Above আধুনিক ক্যালিগ্রাফার জিয়ান বো-ইউর সৃজনশীল কাজ (ছবি: টাটলার)
Tatler Asia
Above ইভেন্ট শেষে প্রত্যেক অতিথির জন্য একটি বিশেষ ফ্যান বা পাখা (ছবি: টাটলার)

জিয়ান বো-ইউ রাষ্ট্রপতি ভবনে তার কাজের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি প্রতিটি অতিথির পাখা বা ফ্যানের ওপর স্বর্ণলিপি ও কালি দিয়ে যে নকশা করেছেন, তা এই “桃花源” অভিজ্ঞতার এক চমৎকার উপহার। এই ফ্যানটি কেবল একটি উপহার নয়, বরং এটি তাদের এই স্বর্গীয় যাত্রার এক অংশ হয়ে রইল।

চা পান এবং হৃদয়ের কথা লেখা

Tatler Asia
Above পোইউয়েনজি হিলস-এ আয়োজিত বিশেষ চা-চক্র (ছবি: টাটলার)
Tatler Asia
Above অবসর মানেই জটিলতাহীন জীবন, চা পান ও ক্যালিগ্রাফি (ছবি: টাটলার)

চা-চক্রের সময় জাপানি মিউজিশিয়ান জং ইউ-রুই-এর সুর এক দারুণ পরিবেশ তৈরি করেছিল। বাওজং, ওরিয়েন্টাল বিউটি এবং পুয়ের চা পানের সময় অতিথিদের অনুরোধ করা হয়েছিল তাদের ‘প্রাথমিক মন’ বা ‘初心’ নিয়ে একটি শব্দ লিখতে। অবসর মানেই হলো এই ছোট মুহূর্তগুলো নিজের জন্য রাখা, যেখানে কোনো জটিলতা নেই।

কিয়োটোর স্বাদ পাহাড়ে

Tatler Asia
Above অপ্রকাশিত “অ্যাংকু বাই পোইউয়েনজি হিলস” রেস্তোরাঁ পরিদর্শন (ছবি: টাটলার)
Tatler Asia
Above অপ্রকাশিত “অ্যাংকু বাই পোইউয়েনজি হিলস” রেস্তোরাঁ পরিদর্শন (ছবি: টাটলার)

সবশেষে ছিল “অ্যাংকু বাই পোইউয়েনজি হিলস” রেস্তোরাঁর অনন্য স্বাদ গ্রহণ। শেফ ইয়োজো উয়েদা কিয়োটোতে তার মিচেলিন স্টার প্রাপ্ত রেস্তোরাঁর স্বাদ নিয়ে এসেছিলেন এই পাহাড়ে। এই “桃花源” অভিজ্ঞতাকে পূর্ণতা দিতেই শেফ ও তার পুরো টিম কিয়োটো থেকে এসেছিল, যা অতিথিদের জন্য এক বিরল সুযোগ ছিল।

আরো অবাক করার মতো চমক

Tatler Asia
Above অতিথিদের জন্য উপহার হিসেবে তাদের লেখা লণ্ঠন (ছবি: টাটলার)

রাতের ভোজের শেষে যখন অতিথিরা তাদের হাতে লণ্ঠন পেলেন, দেখলেন তাতে তাদের কয়েক ঘণ্টা আগে লেখা সেই ‘初心’ বা প্রাথমিক শব্দগুলি ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই এই “桃花源” বা স্বর্গীয় ইভেন্টকে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত করেছে।

একদিনের এই স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা

Tatler Asia
Above আধুনিক যুগের “桃花源” বা স্বর্গের সন্ধানে অতিথিরা (ছবি: টাটলার)

“桃花源” বা স্বর্গ গল্পটি হাজার বছর ধরে চলে আসছে কারণ প্রতিটি যুগই এর একটি নিজস্ব অর্থ খুঁজে পায়। টাটলারের এই আয়োজনটি কেবল একটি প্রাচীন দৃশ্য নয়, বরং “অবসরের স্বাধীনতা” বা নিজের সময়কে নিজের মতো সাজানোর ক্ষমতার আধুনিক প্রতিফলন।

হয়তো, আসল “桃花源” বা স্বর্গ কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নয়, বরং এটি একটি মানসিক অবস্থা। যখন আপনার কাছে নিজের সময়কে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তখনই আপনি সম্পদ ও জীবনের আসল স্বাদ উপভোগ করতে পারেন। এই সুযোগটিই আসল সমৃদ্ধি।