Cover বেঞ্জামিন আলিরে সায়েনজ (Sáenz) কথাসাহিত্যে PEN/Faulkner পুরস্কার প্রাপ্ত এক অসামান্য লেখক

বেঞ্জামিন আলিরে সায়েনজ (Sáenz) প্রথম ল্যাটিনো লেখক যিনি কথাসাহিত্যে মর্যাদাপূর্ণ PEN/Faulkner পুরস্কার জিতেছেন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস “অ্যারিস্টটল অ্যান্ড দান্তে ডিসকভার দ্য সিক্রেটস অফ দ্য ইউনিভার্স” তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়, যা Stonewall বুক অ্যাওয়ার্ড ও Lambda লিটারেরি অ্যাওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে।

২৮ জুলাই ২০২৬, সায়েনজ (Sáenz) টেক্সাসের এল পাসোতে ৭১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন এক অসামান্য সাহিত্যিক।

ভিয়েতনামি পাঠকদের কাছে তিনি অ্যারিস্টটল মেন্ডোজা ও দান্তে কুইন্টানা সিরিজের জন্য সুপরিচিত। তাঁর লেখনীর মূল উপজীব্য ছিল একটাই—একজন ব্যক্তি কীভাবে নিজের “নিজস্বতা” বা অস্তিত্বের শিকড় খুঁজে পায়। সায়েনজ-এর এই অন্বেষণ পাঠকদের আজও অনুপ্রাণিত করে।

আরও পড়ুন: অগণিত উত্তরের যুগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখা

যে শহরে লেখক খুঁজে পেলেন নিজেকে

১৯৫৪ সালে নিউ মেক্সিকোতে জন্মগ্রহণ করা সায়েনজ (Sáenz) তাঁর জীবনের একটি বড় অংশ এল পাসোতে কাটিয়েছেন। ধর্মতত্ত্ব পড়া ও যাজক হিসেবে কাজ করার পর তিনি সাহিত্য সৃজন ও অধ্যাপনায় ফিরে আসেন।

এল পাসো শহরটি তাঁর কল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তিনি প্রায়ই বলতেন, এই প্রিয় শহরেই তিনি নিজেকে হারিয়ে আবার নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন। সায়েনজ-এর লেখনীতে এই শহরের প্রভাব অপরিসীম।

Tatler Asia
Above বেঞ্জামিন আলিরে সায়েনজ (Sáenz)-এর ভিয়েতনামি ভাষায় অনূদিত সাহিত্যকর্মসমূহ

মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তের এল পাসোতে ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জীবন্ত। সায়েনজ (Sáenz)-এর কাছে সীমানা কেবল ভৌগোলিক কোনো রেখা ছিল না, এটি ছিল মানুষের অস্তিত্বের লড়াই। কে কোথায় বিলং করে বা কাকে আমরা আপন বলি—এই প্রশ্নগুলো তাঁর লেখায় বারবার ফুটে উঠেছে।

৫০ বছর বয়সে সায়েনজ (Sáenz) প্রকাশ্যে নিজের সমকামী পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি জানিয়েছিলেন, অ্যারিস্টটল ও দান্তের চরিত্রগুলো তাঁর নিজেরই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। নিজের সত্তাকে গ্রহণ করার পরই তিনি তাঁর সেরা সাহিত্যগুলো সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন।

Tatler Asia
Above জ্যাক ফ্রগ দ্বারা অনূদিত অ্যারিস্টটল অ্যান্ড দান্তে ডিসকভার দ্য সিক্রেটস অফ দ্য ইউনিভার্স

সায়েনজ (Sáenz)-এর সাহিত্যে এলজিবিটি (LGBT) ইস্যুগুলো লজ্জা, নীরবতা ও পারিবারিক ভালোবাসার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: Tatler ফ্রন্ট অ্যান্ড ফিমেল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু

মহাবিশ্বের রহস্য শুরু হয় নিজের ভেতর থেকেই

তাঁর উপন্যাসে অ্যারিস্টটল (আরি) নিজেকে বুঝতে না পারার দ্বিধায় বন্দী এক কিশোর। তার পরিবারে লুকানো অতীতের ক্ষত এবং পুরুষত্বের চিরাচরিত ধারণাগুলোর সঙ্গে তার সংঘাত লেখক চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

Tatler Asia
Above বেঞ্জামিন আলিরে সায়েনজ (Sáenz)-এর অ্যারিস্টটল ও দান্তে সিরিজ পাঠকদের কাছে সমান জনপ্রিয়

দান্তে কুইন্টানা চরিত্রটি আড়ির জীবনে আসে এক সাধারণ সাঁতারের প্রস্তাব নিয়ে। তাদের এই বন্ধুত্ব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মহাবিশ্বের রহস্য সন্ধানের গল্পে রূপ নেয়। তবে তাদের এই মহাবিশ্ব ছিল মূলত তাদের পরিবার ও নিজেদের হৃদয়ের অনুভূতি।

সায়েনজ (Sáenz)-এর মতে, পরিণত হওয়ার অর্থ হলো নিজের চারপাশের মানুষের কষ্ট এবং তাদের লুকানো ইতিহাসকে বোঝার ক্ষমতা অর্জন করা।

মানচিত্রে নিজের নাম লেখার অধিকার কার?

তাঁর সিরিজের দ্বিতীয় অংশে আড়ি এবং দান্তে এমন এক পৃথিবীতে বাঁচার চেষ্টা করে যেখানে তাদের মতো মানুষদের মানচিত্রে জায়গা দেওয়া হতো না। সায়েনজ (Sáenz) সেই আটের দশকের আমেরিকার প্রেক্ষাপটে এইডস মহামারীর ভয় ও সমকামীদের প্রতি সামাজিক অবজ্ঞা তুলে ধরেছেন।

Tatler Asia
Above আইচ আলবার্তোর পরিচালনায় ২০২২ সালে নির্মিত অ্যারিস্টটল অ্যান্ড দান্তে চলচ্চিত্র

এই উপন্যাসে লেখক দেখিয়েছেন যে, অধিকার আদায়ের লড়াই কেবল নিজের জন্য নয়, বরং অন্যের অস্তিত্বকে স্বীকার করে নেওয়ার মধ্যেও নিহিত। সায়েনজ (Sáenz)-এর চরিত্ররা নিজেরাই নিজেদের সংজ্ঞা তৈরি করে, যা পাঠকদের নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য করে।

নিজস্বতার ভূমি বা Belonging

সায়েনজ (Sáenz)-এর পুরো সাহিত্য জুড়ে “নিজস্বতা” বা Belonging-এর খোঁজ বারবার ফিরে আসে। তাঁর চরিত্ররা ঘৃণা ও হিংসার পুরনো মানচিত্র ছিঁড়ে ফেলে নতুন এক ভালোবাসার পৃথিবী গড়তে চায়।

শেষ পর্যন্ত আড়ি এবং দান্তের খোঁজ ছিল একটি নিরাপদ আশ্রয়ের—এমন একটি সমাজ যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি নিজেকে বিসর্জন না দিয়েই নিজ সত্তায় বেঁচে থাকতে পারে।

Tatler Asia
Above বেঞ্জামিন আলিরে সায়েনজ (Sáenz) তাঁর সমসাময়িক সাহিত্যে এলজিবিটি অধিকারের এক সাহসী কণ্ঠস্বর

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সায়েনজ (Sáenz) লিখে গেছেন। তাঁর সর্বশেষ কাজগুলোতেও একই মানবিক প্রশ্ন ও সংগ্রামের সুর ছিল। তিনি ছিলেন এমন একজন লেখক, যিনি সীমান্তের মানুষের কথা বলে তাদের বিশ্বসাহিত্যের মানচিত্রে স্থান দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

এশিয়ান দেশগুলো আইনি ক্ষেত্রে এআই-এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের মানদণ্ড তৈরিতে তৎপর

কার্তিয়েরের ভিশন ও সৃজনশীলতার আড়ালে পিয়েরে রেইনেরো

নেতৃত্বের আসল অস্ত্র হলো সশরীরে পাশে থাকা

ল্যাং মিন
সিনিয়র সম্পাদক, Tatler Vietnam
Tatler Asia

ল্যাং মিন