সহযোগী অধ্যাপক ড. দোয়ান এনগক হাই-এর মতে, “Longevity” ইকোনমি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে নজর দেওয়া উচিত যেখানে প্রত্যেকে অবসর পরবর্তী ২০-৩০ বছরের জন্য নিজেদের সক্রিয়ভাবে প্রস্তুত করতে পারে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে বাঁচতে এবং সমাজে অবদান রাখতে পারে।
দীর্ঘায়ু বা “Longevity” নিয়ে কথা উঠলে অনেকেই অ্যান্টি-এজিং, সাপ্লিমেন্ট কিংবা নতুন প্রযুক্তির কথা ভাবেন। একজন জনস্বাস্থ্য, পেশাগত স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত বিশেষজ্ঞ হিসেবে আপনি একে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেন?
আমি কেবল দীর্ঘায়ু নয়, বরং ‘হেলথস্প্যান’ বা সুস্থ ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার বছরগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিই। ৯০ বছর পর্যন্ত বাঁচা একটি সাফল্য, তবে আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই বয়সেও নিজের যত্ন নেওয়া, মানসিক সজীবতা বজায় রাখা এবং সমাজে সক্রিয় থাকা।
আমি মনে করি, সুস্থ থাকার আসল রহস্য হাসপাতালের বাইরেই লুকিয়ে আছে। প্রতিদিনের সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম এবং সামাজিক সম্পর্কই দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। তাই “Longevity” বা দীর্ঘায়ু মানে এখন আর বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, বরং এটি একটি বিজ্ঞান ও শিল্প, যা আমাদের দীর্ঘ জীবনকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
আরও পড়ুন: জীবন যা কেবল গণিত নয়

Above সহযোগী অধ্যাপক ড. দোয়ান এনগক হাই, যিনি “Longevity” অর্থনীতি নিয়ে কাজ করছেন
স্বাস্থ্যের পেছনে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনটি আসল আর কোনটি কেবল বাড়াবাড়ি?
স্বাস্থ্য বিনিয়োগকে আমি একটি পিরামিডের মতো মনে করি। এর ভিত্তি হলো ধূমপান ত্যাগ, নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক পুষ্টি এবং মানসিক শান্তি। এরপর আসে নিয়মিত চেকআপ। প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন এআই বা ওয়্যারেবল ডিভাইস তখনই কার্যকর, যখন তা আমাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। যেমন, স্মার্টওয়াচ অনেক তথ্য দিতে পারে, কিন্তু তা আমাদের হাঁটার বিকল্প হতে পারে না।
বিশ্বজুড়ে “Longevity” ইকোনমি গড়ে উঠছে। আগামী ৫-১০ বছরে ভিয়েতনামে এর কী কী প্রয়োজন?
“Longevity” ইকোনমি মানে কেবল বয়স্কদের বাজার নয়, এটি এমন একটি ইকোসিস্টেম যা সবাইকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আগামীতে টেলিস্বাস্থ্য, গৃহভিত্তিক পরিচর্যা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার চাহিদা বাড়বে। বিশেষ করে ৬০-৬৫ বছর বয়সীদের জন্য এমন মডেল প্রয়োজন, যেখানে তারা নিজেদের বয়স্ক না ভেবে কর্মক্ষম হিসেবে বিবেচনা করে অবদান রাখতে পারেন।
আরও পড়ুন: State of Balance: একটি যাত্রা, অনেক জীবন

Above দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করছেন ড. দোয়ান এনগক হাই
অবসর গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য কি তাহলে “বার্ধক্য ভোগ” নয়?
ঠিক তাই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় বা ক্যারিয়ারের জন্য যতটা প্রস্তুতি নিই, অবসর পরবর্তী ২০-৩০ বছরের জন্য তেমন কোনো নকশা আমাদের থাকে না। আমি “অবসর পরবর্তী জীবন পুনর্গঠন” নামের একটি মডেল নিয়ে কাজ করছি, যা ব্যক্তিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।
এই মডেলটি ভিয়েতনামে সফল করতে কী কী প্রয়োজন?
এর জন্য সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং নীতিগত পরিবর্তন দরকার। বার্ধক্য মানেই হাসপাতালের শয্যা নয়, বরং এটি নতুন এক জীবন। আমাদের এমন কমিউনিটি সেন্টার ও পরিবেশ দরকার যেখানে বয়স্করা বিচ্ছিন্ন না থেকে সামাজিক কাজে যুক্ত থাকতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক ইকোসিস্টেম, যেখানে “Longevity” এর মাধ্যমে তারা সুস্থ ও স্বাধীন জীবন যাপন করবেন।

Above একটি সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবন কাটানোর জন্য পরিকল্পিত প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি
যারা তাদের জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আপনার বার্তা কী?
আমি এই জীবনযাত্রাকে বলি “থং দং” (Thong Dong) বা নিশ্চিন্ত ও সাবলীল জীবন। এর মানে কাজ ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং সচল থাকা। নতুন কিছু শেখা, শখের কাজ করা এবং অন্যের সাথে অভিজ্ঞতা শেয়ার করা। কেবল দীর্ঘায়ু হওয়া নয়, বরং জীবনকে উপভোগ করার প্রস্তুতি নিন। “Longevity” হোক এমন এক যাত্রা, যেখানে প্রতিটি দিন আপনি উপভোগ করতে পারেন।
ড. দোয়ান এনগক হাই জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার একজন বিশেষজ্ঞ। তিনি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ও অবসর পরবর্তী জীবন পুনর্গঠন নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
The Longevity Issue কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের গল্প নয়, এটি আমাদের জীবনবোধের গল্প। সুস্থতা এখন এক দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ, যা আমাদের প্রতিটি সকালকে আনন্দময় করে তোলে।




