Cover গুডউফ (Goodwoof) যুক্তরাজ্যের অন্যতম অভিজাত সোশ্যাল ইভেন্ট যা গুডউড এস্টেটের আভিজাত্য ও কুকুরের প্রতি ভালোবাসাকে তুলে ধরে (ছবি: গুডউড)

গুডউফ (Goodwoof) কেবল একটি সপ্তাহান্তের ইভেন্ট নয়, বরং এটি পোষা প্রাণী কেন্দ্রিক অর্থনীতির এক অনন্য প্রতিফলন, যা আমাদের দেখায় যে ভবিষ্যতে পোষা প্রাণীদের জগৎ কত দূর এগিয়ে যাবে।

একটি কুকুরদের কার্নিভ্যাল ঠিক কতটা জমকালো হতে পারে? যুক্তরাজ্যের গুডউড (Goodwood) এস্টেটে আয়োজিত “গুডউফ” (Goodwoof) এর উত্তর হলো: স্পেস-থিমযুক্ত ডিজাইনার ডগহাউস নিলাম, প্রিমিয়াম শ্যাম্পেন বার, বিখ্যাত ব্যক্তিদের দ্বারা পাঠ এবং এমন এক্সক্লুসিভ প্লাশ টয় যার জন্য ভক্তরা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়ায়। পঞ্চম বছরে পা রাখা এই ইভেন্টটি স্থাপত্য ও বিলাসদ্রব্য শিল্পকে একত্রিত করেছে এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আর এবার এর মূল আকর্ষণে রয়েছে একদল উদ্ধারকারী কুকুর।

২০২৬ সালের গুডউফ ইভেন্টে মাত্র এক সপ্তাহান্তে ৫০টিরও বেশি কার্যকলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৫০ মিটার ড্যাশ স্প্রিন্ট, স্লেজ ডগ থেকে অনুপ্রাণিত ক্যানিক্রস দৌড়, এবং牧羊犬 ও গানডগদের ট্র্যাকিং দক্ষতা প্রদর্শনী।

গুডউফ-এর পরিবেশে আভিজাত্য এনেছে এর জীবনধারা সংক্রান্ত বিভিন্ন আয়োজন। সেরা পোশাক পরিহিত কুকুরের ফ্যাশন শো ‘চিয়েন শারমন্ট’ (Chien Charmant) ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া কুকুরদের পুল ও সাথে থাকা টাটেঞ্জার (Taittinger) শ্যাম্পেন বার মালিকদেরও বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে।

এই সবকিছুর বড় অংশই সাধারণ টিকিটের আওতাভুক্ত ছিল, এমনকি কুকুর ও ১২ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশ ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। গুডউফ এখন গুডউড এস্টেটের বার্ষিক সামাজিক ইভেন্ট হিসেবে “ফেস্টিভাল অফ স্পিড” এর সমান মর্যাদা পায়।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে পোষা প্রাণীর বাজার বাড়ছে; ২০৩০ সালে ৫০০ বিলিয়ন ডলার! কিভাবে তারা পরিবারের অংশ হয়ে উঠল?

৩০০ বছরের পুরোনো ম্যানরের ঐতিহ্য ও গুডউফ (Goodwoof)

Tatler Asia
Above গুডউফ (Goodwoof) হলো একটি নতুন উদ্যোগ যা ২০২২ সালে ডিউক কর্তৃক শুরু হয়, এটি এস্টেটের ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি পোষা প্রাণীর সাথে মানুষের বন্ধন উদযাপন করে (ছবি: গুডউড)

গুডউডের এই বিলাসিতার পেছনের ইতিহাসটি বেশ প্রাচীন। ১৬৯৭ সালে প্রথম রিচমন্ড ডিউক গুডউড এস্টেট ক্রয় করেন। ১৭৮৭ সালে তৃতীয় ডিউক জেমস ওয়াটকে দিয়ে একটি বিশেষ ডগহাউস তৈরি করান, যা তৎকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় হিটিং সিস্টেমের সুবিধা পেত। বলা হয়ে থাকে, “গুডউডে কুকুররা মানুষের চেয়েও ভালো থাকে”। বর্তমানে সেই ডগহাউসটি একটি প্রাইভেট ক্লাব এবং গুডউফ ইভেন্টের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

গুডউফ ইভেন্টটি আধুনিক যুগের চাহিদা অনুযায়ী পোষা প্রাণীদের সাথে মানুষের আবেগপূর্ণ সম্পর্কের এক চমৎকার প্রতিফলন।

রক্তের কৌলিন্যই বিলাসিতা নয়

Tatler Asia
Above গুডউফ (Goodwoof) আয়োজকরা প্রতি বছর একটি বিশেষ কুকুর প্রজাতিকে ফোকাসে রাখেন, তবে ২০২৬ সালে তারা উদ্ধারকারী কুকুরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন (ছবি: গুডউড)

আগে গুডউফ (Goodwoof) নির্দিষ্ট জাতের কুকুরের ওপর ফোকাস করলেও, ২০২৬ সালে তারা “উদ্ধারকারী কুকুর বছর” (Year of the Rescue Dog) পালন করেছে। তারা ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম-এর সাথে অংশীদারিত্ব করেছে।

গুডউফ দেখিয়েছে যে আভিজাত্য মানে কেবল দুর্লভ রক্তধারা নয়, বরং সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। এছাড়া犬瑜伽 (ডগ ইয়োগা) বা ফরেস্ট বাথিং-এর মতো পরিষেবাগুলো বর্তমান পোষা প্রাণীর বিলাসিতার ট্রেন্ডকে নির্দেশ করে। উদ্ধারকারী কুকুরের গুরুত্ব ব্রিটিশ রাজপরিবারেও স্বীকৃত; ক্যামিলা রানি ব্যাটারসি থেকে কুকুর দত্তক নিয়েছিলেন।

শিল্প ও স্থাপত্যের সমন্বয়ে গুডউফ (Goodwoof)

Tatler Asia
Above ২০২৬ সালের গুডউফ (Goodwoof) থিম ছিল “ডগস ইন স্পেস” বা মহাকাশে কুকুর, যার বিচারক ছিলেন নভোচারী টিম পিক (ছবি: গুডউড)

গুডউফ (Goodwoof) এর অন্যতম আকর্ষণ হলো “বার্কিটেকচার” (Barkitecture) ডগহাউস ডিজাইন প্রতিযোগিতা। বিশ্বের বড় বড় আর্কিটেকচার ফার্ম ও লেগো (Lego) এতে অংশ নিয়েছে। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাটারসি হোম-কে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়।

এছাড়া সাহিত্য কর্নারে বিখ্যাত লেখক ও অভিনেতারা কুকুর বিষয়ক গল্প পাঠ করেন। আর্কিটেকচার থেকে সাহিত্য, এমন বহুমুখী তারার সমাবেশ গুডউফ (Goodwoof) ইভেন্টটিকে অনন্য করে তুলেছে।

পোষা প্রাণীর অর্থনীতির প্রতিফলন

Tatler Asia
Above পোষা প্রাণীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা বাড়ছে এবং মানুষ তাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে এখন আরও বেশি খরচ করতে প্রস্তুত (ছবি: গুডউড)

গুডউফ (Goodwoof) ব্যবসায়িক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। জেলিহ্যাট (Jellycat) ও অন্যান্য ব্র্যান্ড এখানে প্রিমিয়াম পণ্য সরবরাহ করেছে। গুডউফ (Goodwoof) কেবল একটি উৎসব নয়, এটি পোষা প্রাণীর অর্থনীতির একটি আয়না। কুকুর এখন আর কেবল পোষা প্রাণী নয়, বরং পরিবারের একজন।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, পোষা প্রাণীর শিল্প এখন পণ্যের চেয়ে বেশি আবেগ ও জীবনধারাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।