A wide shot of the transplanted neighbourhood against Jurassic canopy. It's a deadend for the family.
Cover ওক স্ট্রিট থেকে স্থানান্তরিত এক ভয়াল জঙ্গল। পরিবারের জন্য ওক স্ট্রিট যেন এক শেষ গন্তব্য (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস।)
A wide shot of the transplanted neighbourhood against Jurassic canopy. It's a deadend for the family.

ওক স্ট্রিট নামের এক শহরতলি যখন জুরাসিক যুগে হারিয়ে যায়, তখন সেখানে এক দম্পতির সম্পর্কের টানাপোড়েনও যেন সেই অতল গহ্বরে তলিয়ে যায়। ডেভিড রবার্ট মিচেলের এই অ্যাডভেঞ্চার সিনেমাটি সূক্ষ্মতার চেয়ে স্কেল এবং কৃত্রিম ডাইনোসরের বদলে আধুনিক রূপের উপর বেশি জোর দেয়, যা দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা উপহার দেয়।

একটি চলচ্চিত্র যখন নিজের গল্পের ওপর বিশ্বাস রেখে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই এগিয়ে চলে, তখন তা দেখার আনন্দই আলাদা। “দ্য এন্ড অফ ওক স্ট্রিট” ঠিক তাই করে। সিনেমার শুরুতেই দেখা যায়, ওক স্ট্রিট নামের একটি শান্ত শহরতলি রহস্যময় পোর্টালের মাধ্যমে হঠাৎ জুরাসিক যুগের এক ঘন জঙ্গলে গিয়ে পড়ে। কোনো দীর্ঘ ভূমিকা ছাড়াই সিনেমাটি সরাসরি পরিস্থিতির গভীরে প্রবেশ করে। এটি ৯০-এর দশকের সেই অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার সিনেমার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে ঝা চকচকে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের চেয়ে গল্পের গতি এবং রোমাঞ্চই বেশি গুরুত্ব পেত। ওক স্ট্রিট যেভাবে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, তা দর্শকদের শুরু থেকেই এক অনিশ্চিত যাত্রায় শামিল করে।

আপনি যদি মিস করে থাকেন: ‘দ্য ওডিসি’—ক্রিস্টোফার নোলানের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এই ছবিটি কি তার সেরা কাজ?

Tatler Asia
Ewan McGregor and Anne Hathaway in 'The End of Oak Street'.
Above ইওয়ান ম্যাকগ্রেগর এবং অ্যান হ্যাথাওয়ে “দ্য এন্ড অফ ওক স্ট্রিট”-এ (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস। ওক স্ট্রিট ঘেরা এই অ্যাডভেঞ্চারে তাদের সংগ্রাম দেখার মতো।)
Ewan McGregor and Anne Hathaway in 'The End of Oak Street'.
Tatler Asia
The family takes shelter as the jungle closes in
Above জঙ্গল ঘিরে ফেলার সময় পরিবারের সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস। ওক স্ট্রিট এখন তাদের জন্য এক নতুন পৃথিবী।)
Tatler Asia
Ewan McGregor in 'Oak Street'.
Above ওক স্ট্রিট-এ ইওয়ান ম্যাকগ্রেগর (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস। এই পরিবেশে তিনি যেন সত্যিই ওক স্ট্রিট থেকে আসা এক আতঙ্কিত মানুষ।)
The family takes shelter as the jungle closes in
Ewan McGregor in 'Oak Street'.

পরিচালক ডেভিড রবার্ট মিচেল, যিনি মূলত হরর সিনেমার জন্য পরিচিত, এখানে এক ভিন্ন ধরণের দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি পোর্টাল বা বিজ্ঞানের জটিল ব্যাখ্যায় না গিয়ে ক্যামেরাকে মূলত মানুষের ওপর নিবদ্ধ রেখেছেন। ফলে সিনেমাটি দ্রুত উত্তেজনা এবং নীরবতার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে। ওক স্ট্রিট-এর এই অ্যাডভেঞ্চারে যেমন ছোটরা রোমাঞ্চ খুঁজে পাবে, তেমনি বড়রাও নিজেদের জীবনের সাথে এক ধরনের মিল খুঁজে পাবেন।

Tatler Asia
Anne Hathaway gives a heartwarming performance as a mother ready to defend her family against all odds.
Above অ্যান হ্যাথাওয়ে এক মায়ের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন, যিনি সব বাধা পেরিয়ে পরিবারকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস। ওক স্ট্রিট ও তার অদম্য সাহস এই চরিত্রের মূল ভিত্তি।)
Anne Hathaway gives a heartwarming performance as a mother ready to defend her family against all odds.
Tatler Asia
A normal day at Oak Street.
Above ওক স্ট্রিট-এ একটি সাধারণ দিন (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস। ওক স্ট্রিট যেন তখন স্বর্গসুখ।)
Tatler Asia
Oak Street before the chaos.
Above বিপর্যয়ের ঠিক আগের মুহূর্তের ওক স্ট্রিট (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস। ওক স্ট্রিট যে এভাবে বদলে যাবে কে জানত।)
A normal day at Oak Street.
Oak Street before the chaos.

সিনেমার আবেগপূর্ণ দিকটি অ্যান হ্যাথাওয়ে এবং ইওয়ান ম্যাকগ্রেগরের অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। ওক স্ট্রিট দম্পতি হিসেবে তাদের সম্পর্কের দূরত্ব এবং পরিস্থিতির চাপে একে অপরের ওপর নির্ভরতা দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাদের অভিনয় কৃত্রিম মনে হয় না, বরং বাস্তব মনে হয়। আর ওক স্ট্রিট-এর মতো একটি শহরতলির পরিবেশকে প্রাগৈতিহাসিক জঙ্গলে স্থাপন করে ছবির প্রোডাকশন ডিজাইন অত্যন্ত কার্যকরভাবে ফুটে উঠেছে। মেইলবক্স বা বাগানের হোস পাইপ যখন ডাইনোসর কবলিত জঙ্গলের মধ্যে দেখা যায়, তখন তা ওক স্ট্রিট-এর স্বাভাবিক জীবনের সাথে এক চরম বৈপরীত্য তৈরি করে।

আরও পড়ুন: ২০২৬ সালে পড়ার মতো ১০টি নতুন সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস

Tatler Asia
A proto-feathered predator stalks the Oak Street cul-de-sac
Above একটি পালকযুক্ত শিকারী ডাইনোসর ওক স্ট্রিট-এর গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস। ওক স্ট্রিট এখন এক ভয়ার্ত শিকারের মাঠ।)
A proto-feathered predator stalks the Oak Street cul-de-sac

সিনেমার ডাইনোসর ডিজাইন আধুনিক জীবাশ্ম বিজ্ঞানের সাথে সংগতিপূর্ণ। পালকযুক্ত থেরোপড ডাইনোসরগুলো দেখতে বিশাল পাখির মতো, যা আগের সিনেমাগুলোর তুলনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওক স্ট্রিট-এর এই শিকারের দৃশ্যগুলো এ কারণেই অনেক বেশি জীবন্ত এবং রোমাঞ্চকর মনে হয়। এটি কেবল প্রযুক্তিগত উন্নতি নয়, বরং পরিচালকের শৈল্পিক দূরদর্শিতারও পরিচয়।

আরও পড়ুন: অ্যান হ্যাথাওয়ের বছর: ২০২৬ সালে তার মুক্তি পেতে যাওয়া সিনেমার ঝলক

Tatler Asia
A challenge like no other for two doting parents.
Above দুই যত্নশীল অভিভাবকের জন্য ওক স্ট্রিট-এর এই চ্যালেঞ্জ অতুলনীয় (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস। ওক স্ট্রিট থেকে মুক্তির লড়াই।)
A challenge like no other for two doting parents.
Tatler Asia
A juvenile dinosaur spotted foraging near the Oak Street perimeter
Above ওক স্ট্রিট-এর সীমানায় খাবারের সন্ধানে ঘোরা এক ডাইনোসর (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস। ওক স্ট্রিট ও তার বাসিন্দাদের জন্য বিপদের হাতছানি।)
A juvenile dinosaur spotted foraging near the Oak Street perimeter

সিনেমাটোগ্রাফি ওক স্ট্রিট-এর এই অ্যাডভেঞ্চারকে আরও বড় আকার দিয়েছে। IMAX পর্দায় এর বিশালতা এবং শব্দের নিখুঁত বিন্যাস দর্শকদের এক অসাধারণ অভিজ্ঞতায় নিয়ে যায়। ওক স্ট্রিট-এর এই কাহিনী প্রথাগত পারিবারিক সিনেমার ধাঁচে তৈরি হলেও, এর নির্মাণশৈলী একে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সিনেমার মানবিক টানাপোড়েন এবং রোমাঞ্চের ভারসাম্য একে এক অনন্য চলচ্চিত্র করে তুলেছে।

আরও পড়ুন: দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২ (২০২৬)-এর একটি সৎ রিভিউ

Tatler Asia
A family tries to survive the Jurassic era.
Above একটি পরিবার যারা জুরাসিক যুগে টিকে থাকার লড়াই করছে (ছবি: ওয়ার্নার ব্রোস। ওক স্ট্রিট থেকে আসা তাদের এই জীবনযুদ্ধ অবিশ্বাস্য।)
A family tries to survive the Jurassic era.

উপসংহারে বলা যায়, “দ্য এন্ড অফ ওক স্ট্রিট” কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা। এর কারুকার্য, অভিনয় এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি একে সাধারণ অ্যাডভেঞ্চার থেকে আলাদা করে। যারা ওক স্ট্রিট-এর মতো একটি কাল্পনিক শহরতলির রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই দর্শনীয়।

Credits

Images: Warner Bros.

Topics

ডোয়ি উন্টিভেরো
ডিজিটাল পরিচালক ও সম্পাদক, Tatler Philippines
Tatler Asia
Dowee Untivero

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অভিজ্ঞ একজন সৃজনশীল গল্পকার, দৌয়ী ২০১৬ সাল থেকে ট্যাটলারের সাথে যুক্ত আছেন এবং বর্তমানে ব্র্যান্ডটির ডিজিটাল অঙ্গনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন—অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তি, মুহূর্ত এবং অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরে এমন সব গল্প নিয়ে কাজ করছেন। তিনি দে লা সাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সৃজনশীল লেখায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলিপিনো সাহিত্য ও সমাজ বিষয়ে পিএইচডি করছেন। তিনি ‘তাফতিক’ নামক লেখক গোষ্ঠীরও একজন সদস্য, যা সৃজনশীল সাহিত্যের ক্ষেত্রে তরুণ লেখকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

গল্পের সূত্র, সহযোগিতা বা অনুসন্ধানের জন্য dowee@tatlerphilippines.com অথবা info@tatlerphilippines.com-এ যোগাযোগ করুন।