প্রথমবারের মতো আয়োজিত “Tatler Best India 2026” অ্যাওয়ার্ডে ভারতের সবচেয়ে অসাধারণ বারগুলো শীর্ষ সম্মান অর্জন করেছে
ভারতের পানীয় সংস্কৃতি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশজুড়ে এমন এক নতুন বার সংস্কৃতি গড়ে উঠছে যেখানে ফেনী বা মহুয়ার মতো স্থানীয় স্পিরিটের পাশাপাশি বিশ্বমানের ককটেল পরিবেশন করা হচ্ছে। গোয়ার সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে দিল্লি বা বেঙ্গালুরুর আড্ডার ঠেকগুলো পর্যন্ত, এই বছরের বিজয়ীরা এমন এক ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে যা আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল এবং গর্বিতভাবে ভারতীয়। এমন এক পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি বার তার অনন্য স্বকীয়তা তুলে ধরছে।
এই স্থানগুলোতে ককটেলের মাধ্যমে গল্প বলা হয়, যেখানে প্রাকৃতিক উপাদান ও গাঁজন প্রক্রিয়ার নিখুঁত সমন্বয় ঘটে। প্রতিটি বারের নেপথ্যে থাকে এমন এক দল, যারা কারুশিল্প ও আতিথেয়তায় আপসহীন। তাদের হাত ধরেই এই বিলাসবহুল বারগুলো ভারতের পানীয় সংস্কৃতির নতুন ধারার সূচনা করছে।
সেরা ডিজাইন: বার সামা (Bar Sama)

Above বার সামার চমৎকার ডিজাইন প্রমাণ করে যে নান্দনিকতার পাশাপাশি পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ
বার সামা (Bar Sama) তার বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের জন্য পরিচিত। ৫০ আসনের এই লাউঞ্জটি চারকোল থেকে ইলেকট্রিক নীল এবং বোটানিক্যাল ম্যুরাল থেকে ওচার মেঝেতে রূপান্তরিত হয়। এর ভাস্কর্যসম আলোকসজ্জা সন্ধ্যার প্রতিটি মুহূর্তে মেজাজ বদলে দেয়। নকশাটি এমনভাবে করা হয়েছে যাতে দিন থেকে রাত পর্যন্ত সব সময় এটি মানানসই থাকে। আরামদায়ক আসন এবং বার থেকে লাউঞ্জের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা এই বারটিকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে। বিলাসবহুল এই বারের শান্ত অথচ সুরুচিসম্পন্ন ডিজাইন এটিকে আভিজাত্যের প্রতীক করে তুলেছে।
সেরা পরিষেবা: জেডএলবি২৩ (ZLB23)

Above বেঙ্গালুরুর জেডএলবি২৩ বারে দক্ষ নারী কর্মীরা অতিথিদের অত্যন্ত আন্তরিক ও সূক্ষ্ম পরিষেবা প্রদান করেন
জেডএলবি২৩ (ZLB23) হলো দ্য লীলা প্যালেস বেঙ্গালুরুর ভেতরে অবস্থিত কিয়োটো-অনুপ্রাণিত এক স্পিকইজি বার। জাপানি প্রভাব এবং নিষিদ্ধ যুগের ছোঁয়ায় গড়া এই বারের সেরা বৈশিষ্ট্য হলো এর পরিষেবা। মূলত নারী কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত এই দল এমনভাবে অতিথিদের প্রয়োজন বুঝতে পারে যে, সবাই নিজেকে বিশেষ অনুভব করেন। এশীয় ককটেল ও উন্নত স্পিরিটের স্বাদ নেওয়া অতিথিদের জন্য এটি এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা, যা তাদের আতিথেয়তার মানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
রাইজিং স্টার: গ্রেসী চাউরে, সোকা (Soka)

Above সোকার বারটেন্ডার গ্রেসী চাউরে তার দক্ষতা ও পানীয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দিয়ে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন
গ্রেসী চাউরে বেঙ্গালুরুর সোকা (Soka) বারে কর্মরত। পুরুষ-শাসিত এই শিল্পে তিনি তার দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে নিজের এক আলাদা স্থান তৈরি করেছেন। তিনি ভালোভাবেই জানেন যে, কেবল ভালো পানীয় নয়, অতিথিদের সন্তুষ্টিই একটি বারকে সফল করে তোলে। তার নিরলস প্রচেষ্টা এবং শেখার আগ্রহ তাকে এই শিল্পের একজন উদীয়মান তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সেরা নতুন বার এবং সেরা উদ্ভাবন: বারবেট অ্যান্ড পালস (Barbet & Pals)

Above বারবেট অ্যান্ড পালস তাদের স্মৃতি ও স্থানভিত্তিক ককটেলের মাধ্যমে দিল্লির পানীয় জগতে নতুন চমক এনেছে
বারবেট অ্যান্ড পালস (Barbet & Pals) তার নিজস্ব উদ্ভাবনী ধারার জন্য সুপরিচিত। প্রতিষ্ঠাতা কেশব সুরি এবং হিমাংশু কৌশিক হিমালয়ের পাদদেশে নিজেদের শৈশবের স্মৃতিগুলোকে পানীয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের প্রতিটি ককটেল যেন এক একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি, যেখানে প্রতিটি পানীয় কোনো বিশেষ স্থান বা স্মৃতির সাথে জড়িত। উদ্ভাবন বলতে তারা সংযমকে বেছে নিয়েছেন, যা তাদের বারকে করেছে অনন্য। স্থানীয় উপাদান এবং ব্যক্তিগত গল্পের সমন্বয়ে তৈরি তাদের এই বারটি বর্তমানে দিল্লির অন্যতম সেরা বার।
বার অফ দ্য ইয়ার: বয়লারমেকার (Boilermaker)

Above বয়লারমেকার বারের প্রাণবন্ত পরিবেশ ও আড্ডার মেজাজ গোয়ার সংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরে
বয়লারমেকার (Boilermaker) গোয়ার পানীয় সংস্কৃতিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। ক্রাফট বিয়ার বিশেষজ্ঞ নকুল ভোঁসলে এবং মিক্সোলজিস্ট পঙ্কজ বলচন্দ্রনের এই উদ্যোগে বারটি যেন এক শিল্পকর্ম। এখানে বিয়ার ও শটের উৎসব চলে এবং প্রতিটি অর্ডার যেন এক গানের সুরের সাথে পরিবেশন করা হয়। গোয়ার এই সহজ ও সামাজিক আড্ডার কেন্দ্রটি মূলত মানুষের অংশগ্রহণের জন্য তৈরি, যা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন। তাদের এই বারটি আধুনিক এবং ঐতিহ্যবাহী পানীয়ের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।




