২০০২ সালে ওকল্যান্ডের এক ছোট কফি কার্ট থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত “Blue Bottle” কফি ব্র্যান্ড তৈরির নেপথ্যে রয়েছে জেমস ফ্রিম্যানের কিশাতেঁ (Kissaten) দর্শন।
আধুনিক জীবনধারা এবং সূক্ষ্ম রুচির প্রতীক হিসেবে কোনো কফি ব্র্যান্ডের কথা ভাবলে সাদা কাপের ওপর নীল বোতলের সেই সাধারণ লোগোটিই সবার আগে মনে পড়ে। “Blue Bottle” কেবল একটি কফি শপ নয়, এটি “থার্ড ওয়েভ কফি” আন্দোলনের অগ্রদূত, যা কফি পানের অভ্যাসকে এক শিল্পে রূপান্তর করেছে।
২০০২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে এই যাত্রার সূচনা করেন জেমস ফ্রিম্যান, যিনি একসময় পেশাদার ক্লারিনেট বাদক ছিলেন। তৎকালীন কমার্শিয়াল কফির ভিড়ে ফ্রিম্যান তাজা কফির স্বাদ ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। তিনি মাত্র ১৭ বর্গমিটারের একটি জায়গা নিয়ে তার মাইক্রো-ব্যাচ রোস্টিং শুরু করেন এবং প্রতিজ্ঞা করেন যে, ৪৮ ঘণ্টার বেশি পুরোনো কফি তিনি বিক্রি করবেন না। এরপর ওকল্যান্ডের ফার্মার্স মার্কেটে কফি কার্ট নিয়ে শুরু হয় তার পথচলা, যা ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে “Blue Bottle” নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

Above সান ফ্রান্সিসকোর হেইস ভ্যালি কিওস্কে ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া “Blue Bottle”-এর প্রথম আউটলেট। (ছবি: Blue Bottle Coffee)
“Blue Bottle” নামটি ১৭শ শতাব্দীর ভিয়েনার ঐতিহাসিক কফি শপের সম্মানে রাখা হয়েছে। সাধারণ চেইন শপ থেকে এই ব্র্যান্ডটি আলাদা, কারণ এর পেছনে রয়েছে জাপানি “কিশাতেঁ” (Kissaten) দর্শনের গভীর প্রভাব। টোকিওতে কফি পানের সেই শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফ্রিম্যানকে মুগ্ধ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তিনি প্রতিটি কাপ কফি অত্যন্ত যত্নের সাথে শপে পরিবেশন করার ধারা চালু করেন।
স্বাদের পাশাপাশি “Blue Bottle”-এর স্থাপত্য ও ডিজাইনও অত্যন্ত আধুনিক। তাদের প্রতিটি স্টোর এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন তা মিমালিস্টিক এবং খোলামেলা হয়, যেখানে গ্রাহকরা কফির প্রতিটি নোটের পূর্ণ স্বাদ নিতে পারেন।

Above ওকল্যান্ডে অবস্থিত “Blue Bottle”-এর রোস্টারি এবং প্রধান কার্যালয়। (ছবি: Blue Bottle Coffee)
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে সান ফ্রান্সিসকো ও নিউ ইয়র্কের মতো বড় শহরগুলোতে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর, ২০১৫ সালে টোকিওতে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক শাখা খোলে “Blue Bottle”। সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করেছিল যে, গুণগত কফির চাহিদা কতটা প্রবল।
২০১৭ সালে বহুজাতিক খাদ্য সংস্থা নেসলে (Nestlé) ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এই ব্র্যান্ডের ৬৮ শতাংশ মালিকানা কিনে নেয়। তবে তারা “Blue Bottle”-এর স্বকীয়তা ও কফির মানের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।

Above “Blue Bottle”-এর প্রতিষ্ঠাতা জেমস ফ্রিম্যান। (ছবি: Blue Bottle Coffee)
২০২৬ সালে নেসলে এই ব্র্যান্ডের খুচরা ব্যবসার স্বত্ব বিক্রি করে দেয়, যা ব্র্যান্ডটির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বর্তমানে সাংহাই, হংকং, সিউল ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরে “Blue Bottle” তার উপস্থিতিকে আরও দৃঢ় করেছে। খুব শিগগিরই থাইল্যান্ডের দুসিত সেন্ট্রাল পার্ক ও এমকোয়ার্টিয়ারে নতুন শাখা খোলার মাধ্যমে “Blue Bottle” আবারও প্রমাণ করতে চলেছে কেন তারা স্পেশালটি কফি বিশ্বের এক অপরাজেয় নাম।





