Cover নতুন রাডো ইন্টিগ্রাল কালেকশন ১৯৮৬ সালের মূল নকশার এক বিশ্বস্ত পুনর্নির্মাণ

রাডো তাদের ইন্টিগ্রাল ঘড়িটির ৪০ বছর পূর্তিতে হাই-টেক সিরামিকের নিপুণ কারুকার্যের এক নতুন রূপ তুলে ধরছে

একটি ঘড়ি পরার জন্যই তৈরি হয়, কিন্তু নিত্যদিনের ব্যবহার এতে অনেক দাগ বা স্ক্র্যাচ ফেলে দেয়। ঘড়ির কেস বা বেজেলে ছোটখাটো আঁচড় পড়ে তার ঔজ্জ্বল্য কমতে থাকে। সৌন্দর্য হয়তো চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু রাডো (Rado) সময়ের এই ক্ষয় রোধ করার একটি অনন্য উপায় খুঁজে পেয়েছে।

১৯৬২ সালে রাডো তাদের ডায়াস্টার (DiaStar) ঘড়ি বাজারে এনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, যা মূলত এর স্ক্র্যাচ-রেজিস্ট্যান্ট হার্ডমেটাল কেসের জন্য বিখ্যাত। ১৯৮৬ সাল নাগাদ, স্থায়িত্বের প্রতি ব্র্যান্ডটির এই অনুরাগ হাই-টেক সিরামিক দিয়ে তৈরি ঘড়িতে রূপ নেয়। রাডো বিশ্বের প্রথম ঘড়ি প্রস্তুতকারক হিসেবে এই বিপ্লবী উপাদানটির ব্যাপক উৎপাদন শুরু করে।

আরও পড়ুন: জি চ্যাং-উক এবং তাঁর নামাঙ্কিত রাডো ঘড়ির গল্প

arrow left arrow left
arrow right arrow right
Photo 1 of 2 রাডো ইন্টিগ্রাল ৪০ বছর পূর্তির বিশেষ সংস্করণ ঘড়ি
Photo 2 of 2 রাডো ইন্টিগ্রাল ৪০ বছর পূর্তির ঘড়ির কেস-ব্যাকে বিশেষ উৎকীর্ণ লিপি

উল্লেখ্য যে, হাই-টেক সিরামিক গৃহস্থালির সিরামিক সামগ্রী থেকে ভিন্ন। এটি অত্যন্ত বিশুদ্ধ জিরকোনিয়াম অক্সাইডের সাথে বাইন্ডিং এজেন্ট মিশিয়ে তৈরি করা হয়। রাডো এই উপাদানটিকে অতি সূক্ষ্মভাবে আকার দেওয়ার পর প্রচণ্ড তাপে পুড়িয়ে (sintering) শক্ত করে। এই প্রক্রিয়ায় উপাদানটি সংকুচিত ও ঘন হয়ে ওঠে, যা ভিকার্স স্কেলে ১,২৫০ পর্যন্ত কঠোরতা অর্জন করে।

এরপর ডায়মন্ড টুলের মাধ্যমে ঘড়িটিতে একটি মসৃণ ও উজ্জ্বল ফিনিশ আনা হয়। উপাদানটি হাইপোঅ্যালার্জেনিক হওয়ায় সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী।

এটি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়। রাডো ঘড়িগুলো কবজিতে পরলে আলাদা এক আরাম অনুভূত হয়। স্টিলের বিপরীতে, এটি দ্রুত শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। এর মসৃণতা অতুলনীয় এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারেও এতে সহজে কোনো দাগ পড়ে না।

Tatler Asia
Above হিরে খচিত রাডো ইন্টিগ্রাল জুবিলি সংস্করণ

মজার বিষয় হলো, ঘড়িটির জন্মের কয়েক বছর পর এর নাম হয় “ইন্টিগ্রাল”। ১৯৮৬ সালের মূল মডেলটি বাজারে এসেছিল ডায়াস্টার অ্যানাটম নামে, যা ১৯৮৮ সালে ইন্টিগ্রাল নাম পায়। এর আয়তাকার নকশা এবং কালো ও সোনালী রঙের সংমিশ্রণ সেই সময়ে বেশ আধুনিক মনে হতো, যেখানে কেস ও ব্রেসলেট মিলে একীভূত আকার ধারণ করেছিল।

তবে তখন পুরো ঘড়িটি সিরামিকের ছিল না—শুধুমাত্র ব্রেসলেটের মাঝের অংশগুলো হাই-টেক সিরামিক দিয়ে তৈরি ছিল, যাতে সময়ের সঙ্গে এর উজ্জ্বলতা অটুট থাকে।

পুরোপুরি সিরামিক দিয়ে তৈরি ঘড়ি বাজারে আসে ১৯৯০ সালে, সিরামিকা মডেলের হাত ধরে। এরপর ১৯৯২ সালে কোপোল (Coupole) মডেলটি সাদা সিরামিক ব্যবহারের সূচনা করে।

আরও দেখুন: রাডো কীভাবে হাই-টেক সিরামিক ঘড়ি তৈরিতে নতুন পথ দেখাল

রাডো এরপরেও উদ্ভাবনী যাত্রায় অবিচল ছিল। প্লাজমা সিরামিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ধাতব উজ্জ্বলতা যোগ করে, যা ম্যাট থেকে পলিশড ফিনিশ পর্যন্ত সব ধরণের শৈলী তৈরিতে সাহায্য করেছে।

এছাড়াও এসেছে সেরামোস, যা সিরামিক এবং মেটাল অ্যালয়-এর মিশ্রণে রোজ গোল্ড ও ইয়েলো গোল্ডের মতো ধাতব আভা তৈরি করে।

রাডো এরপর বর্ণিল সিরামিক নিয়ে কাজ শুরু করে। হাই-টেক সিরামিক এখন কেবল একটি উপাদান নয়, বরং রাডোর ডিজাইন দর্শনের প্রধান অংশ হয়ে উঠেছে।

Tatler Asia
Above মাদার-অফ-পার্ল ডায়াল সমৃদ্ধ রাডো ইন্টিগ্রাল ঘড়ি

এই বছর, রাডো তাদের হাই-টেক সিরামিকের ৪০ বছর পূর্তিতে বাজারে এনেছে ইন্টিগ্রাল ৪০-ইয়ার অ্যানিভার্সারি সংস্করণ। এক নজরেই বোঝা যায় এটি ৮০-এর দশকের সেই ঐতিহ্যবাহী নকশা থেকে অনুপ্রাণিত। এই সংস্করণটি কালো হাই-টেক সিরামিকের বেজেল এবং সোনালী রঙের অ্যাকসেন্টের মাধ্যমে এক অপূর্ব বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে।

ঘড়িটির বিস্তারিত দিকগুলো সত্যিই চমৎকার। উল্লম্বভাবে ব্রাশ করা কালো ডায়াল এবং ছয়টার ঘরে ডেট উইন্ডো ঘড়িটিকে এক পরিশীলিত রূপ দেয়। মূল ঘড়ির মতোই, এই সংস্করণেও স্টেইনলেস স্টিল কেস ব্যবহৃত হয়েছে, তবে আকারটি এখন ২৮মিমি x ৩৯.৮মিমি x ৭.৩মিমি। এর ওপর রয়েছে বাঁকানো স্যাফায়ার ক্রিস্টাল।

ঘড়ির পেছনে লেখা রয়েছে, “সিন্স ১৯৮৬, অ্যানিভার্সারি এডিশন”। ভেতরে রয়েছে প্রিসাইড্রাইভ প্রযুক্তির আর২৭৯ কোয়ার্টজ ক্যালিবার। ঘড়িটি ৫০ মিটার পর্যন্ত জলরোধী।

ইন্টিগ্রাল সিরিজ আরও অভিজাত রূপে ধরা দেয় তাদের জুবিলি সংস্করণে, যেখানে রয়েছে কালো অ্যাভেঞ্চুরিন ডায়াল এবং ৫৬টি ওয়েসেলটন হিরে খচিত বেজেল।

আরও পড়ুন: সাদা সিরামিকের নতুন মোনাকো ঘড়িতে চমক দিল ট্যাগ হিউয়ার

Tatler Asia
Above রাডো তাদের সিরামিক ফ্যাসিলিটি কোমাডুরে ইন্টিগ্রাল ৪০ বছর পূর্তির নৈশভোজের আয়োজন করেছিল

ইন্টিগ্রাল ঘড়ির মাধ্যমে রাডো প্রমাণ করেছে যে, গুণমান ও শৈলী ঠিক থাকলে সময় কোনো দাগ ফেলতে পারে না। ব্র্যান্ডটির চার দশকের লক্ষ্য ছিল এমন কিছু তৈরি করা যা আরও সুন্দর ও সুনির্দিষ্ট, যা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং ঘড়ির মূল কার্যকারিতা বজায় রাখে।

ইন্টিগ্রাল ৪০-ইয়ার অ্যানিভার্সারি সংস্করণটি সেই দর্শনের এক আধুনিক বিবর্তন। বিলাসবহুল কোনো বস্তু যদি চিরস্থায়ী না হয়, তবে তার প্রকৃত অর্থ থাকে না—এই ঘড়িটি সেই সত্যই তুলে ধরে।

আরও পড়ুন

বিলাসবহুল ঘড়ি এবং গহনার নতুন বুটিকের খোঁজ

ওমেগা স্পিডমাস্টারের অবিশ্বাস্য গল্প

অডেমারস পিগুয়েট ও সোয়াচ-এর নতুন ঘড়ি কেন অনন্য, তার ৫টি কারণ

Topics