বার্ধক্য রোধের অর্থ এখন শুধু “বলিরেখামুক্ত ত্বক” নয়; বরং অ্যাপল মাসল বা “অ্যাপল চিকস”-এর পূর্ণতা ও দৃঢ়তাই এখন তরুণ চেহারার নতুন মানদণ্ড, যেখানে অ্যাপল মাসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিএলপি-১ (GLP-1) ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তার ফলে দ্রুত ওজন হ্রাসের সঙ্গে মুখের চর্বি কমে যাওয়া, গালের গভীরতা বা “ফেসাল হলোয়িং” এবং ঝুলে যাওয়া ত্বক একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধারার সাথে তাল মিলিয়ে, Kiehl’s পাঁচ বছর পর তাদের নতুন অ্যান্টি-এজিং সিরিজ চালু করেছে। এর মধ্যে প্রথম পণ্যটি হলো “RHC+ কোলাজেন প্লাাম্পিং সিরাম”, যা “কোলাজেন পাম্পিং বোটল” নামে পরিচিত। এটি শুধুমাত্র বলিরেখা কমানো নয়, বরং অ্যাপল মাসল বা অ্যাপল চিকস-এর নমনীয়তা, মধ্যমুখের ভারসাম্য ও ত্বকের দৃঢ়তার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়। এবার আমরা তাইওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুই মে-ই (Cui Mei-yi)-কে আমন্ত্রণ জানিয়েছি, যিনি কোলাজেন ক্ষয়, ত্বকের বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং ওজন কমানোর পর চেহারার পরিবর্তনসহ বর্তমান সময়ের অ্যান্টি-এজিং বা বার্ধক্য রোধের নতুন প্রবণতাগুলো বিশ্লেষণ করবেন।
১. অ্যান্টি-এজিং মানে শুধু বলিরেখা নয়, ত্বকের গর্ত ও ঝুলে যাওয়াও বার্ধক্যের লক্ষণ, যেখানে অ্যাপল মাসল গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যান্টি-এজিং বা বার্ধক্য রোধ নিয়ে আলোচনার সময় আমরা সাধারণত বলিরেখার কথা ভাবি, তবে ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ত্বকের গর্ত, শিথিলতা এবং ঝুলে যাওয়ার প্রবণতা মানুষের বয়স বেশি ফুটিয়ে তোলে। এগুলো একটির সাথে আরেকটি জড়িত। যখন মুখের চর্বি এবং ত্বকের সাপোর্ট স্ট্রাকচার কমে যায়, তখন প্রথমে ত্বকে গর্ত তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা ঝুলে যেতে শুরু করে। এর মূল চাবিকাঠি হলো কোলাজেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মি এবং জীবনযাত্রার প্রভাবে কোলাজেনের গঠন ভেঙে যায়, যা ত্বকের মসৃণতা, টানটান ভাব এবং সাপোর্ট বা ভিত্তি কমিয়ে দেয়। তাই অ্যাপল মাসল বা গালের এই অংশে কোলাজেনের গুরুত্ব অপরিসীম।
২. কোলাজেন ধরে রাখতে সানস্ক্রিন বা রোদ থেকে সুরক্ষা অ্যাপল মাসল রক্ষায় সবচেয়ে বেশি জরুরি
অ্যান্টি-এজিং মানেই দামী চিকিৎসা নয়, এর ভিত্তি হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তন। নিয়মিত ঘুম ত্বকের মেরামত ও বিপাক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, আর প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ত্বকের আলোকজনিত বার্ধক্য রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিবেগুনি রশ্মি কোলাজেন ভেঙে ফেলে, যার ফলে বলিরেখা ও ত্বক ঝুলে যাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। তাই সমস্যা হওয়ার পর প্রতিকারের চেয়ে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং ভালো ঘুমের মাধ্যমে কোলাজেনের গঠনকে রক্ষা করা অনেক বেশি কার্যকর, যা অ্যাপল মাসল বা গালের টানটান ভাব বজায় রাখে।
৩. “ওয়েট লস ফেস” বা ওজন কমানোর কারণে চেহারায় পরিবর্তন এখন বার্ধক্য রোধের নতুন চ্যালেঞ্জ
জিএলপি-১ ওষুধের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে দ্রুত ওজন হ্রাসের পরবর্তী প্রভাবগুলো এখন সৌন্দর্য চর্চার নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যখন শরীরের ওজন এবং মুখের চর্বি দ্রুত কমে যায়, তখন মুখের গঠন ধরে রাখা চর্বির স্তরও কমে যায়, যার ফলে ত্বকের গর্ত বা অ্যাপল মাসল শুকিয়ে যাওয়া এবং ত্বক ঝুলে যাওয়ার সমস্যা স্পষ্ট হয়। যারা ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় আছেন, তাদের শুধু ওজন কমানোর দিকে নজর দিলে হবে না, বরং সঠিক পুষ্টি এবং ত্বকের অবস্থার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। দৈনন্দিন ত্বকের যত্ন আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
৪. কোলাজেন খাওয়া, লাগানো আর ইনজেকশন নেওয়া কি এক?
খাওয়ার কোলাজেন পরিপাকের পর সারা শরীরে ব্যবহৃত হয়, এটি সরাসরি মুখের অ্যাপল মাসল বা গালের নির্দিষ্ট অংশে যায় না। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে হাইড্রোলাইজড কোলাজেন পেপটাইড ত্বকের আর্দ্রতা বাড়াতে পারে, তবে এর কার্যকারিতা পণ্যের ফর্মুলা ও ডোজের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোলাজেন স্টিমুলেটর ত্বকের টিস্যুতে কাজ করে কোলাজেন তৈরি করতে সাহায্য করে, যার ঝুঁকি ও কার্যকারিতা চিকিৎসকের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। আর প্রসাধনীর ক্ষেত্রে বর্তমান প্রযুক্তিতে পেপটাইড বা ক্ষুদ্র অণুর কোলাজেন ফর্মুলা তৈরিতে জোর দেওয়া হচ্ছে, তাই শুধু “কোলাজেন” শব্দটি না দেখে উপাদান ও কার্যকারিতা দেখে বেছে নেওয়া উচিত।
৫. অ্যাপল মাসল বা অ্যাপল চিকস পূর্ণ থাকলে কেন তরুণ দেখায়?
ত্বকের যত্নে মুখের আসল দৈর্ঘ্য পরিবর্তন হয় না, তবে আমাদের মস্তিষ্ক轮廓 (কন্ট্যুর), আলোছায়া ও অনুপাত অনুযায়ী বয়স নির্ধারণ করে। যখন অ্যাপল মাসল বা অ্যাপল চিকস পূর্ণ, মসৃণ এবং উজ্জ্বল থাকে, তখন চোখের মনোযোগ উপরের দিকে সরে যায় এবং মুখকে টানটান ও ছোট দেখায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে眉心 (ভ্রুর মধ্যবর্তী স্থান) থেকে নাকের নিচ পর্যন্ত অংশকে মধ্যমুখ বা মিড-ফেস বলা হয়। অ্যাপল মাসল যখন স্বাভাবিকভাবে পূর্ণ থাকে, তখন দৃশ্যত এই মধ্যমুখের দৈর্ঘ্য কম মনে হয়, ফলে সামগ্রিকভাবে চেহারা অনেক বেশি নবীন বা “বেবি ফেস” দেখায়।
৬. স্কিনকেয়ার এবং মেডিকেল এস্থেটিকস বা চিকিৎসাসেবা একে অপরের পরিপূরক
যারা ইনজেকশন নিতে ভয় পান, তাদের জন্য প্রতিদিনের স্কিনকেয়ার রুটিন ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখার প্রধান ভিত্তি। অন্যদিকে, যারা লেজার বা কোলাজেন স্টিমুলেশন চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের জন্য স্কিনকেয়ার আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বকের সুরক্ষা স্তর বজায় রাখতে সহায়ক। তাই আসল কথা হলো, আপনার ত্বকের সমস্যা কোথা থেকে আসছে তা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া। অ্যাপল মাসল থেকে শুরু করে গভীর টিস্যুর সমস্যা পর্যন্ত সঠিক উপায় বেছে নিতে হবে।
৭. কোলাজেন সিরাম বা প্রসাধনী কীভাবে বেছে নেবেন? চিকিৎসকরা গুরুত্ব দেন শোষণ ক্ষমতা ও সঠিক ফর্মুলায়
ডাঃ সুই মে-ই উল্লেখ করেছেন যে, কোলাজেন সমৃদ্ধ প্রসাধনী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি: প্রথমটি শোষণ ক্ষমতা এবং দ্বিতীয়টি ফর্মুলার সম্পূর্ণতা। পুরনো পদ্ধতির কোলাজেন অণু বড় হওয়ার কারণে তা শুধু ত্বকের উপরিভাগে থাকে, তাই এখনকার প্রযুক্তি কার্যকর উপাদানগুলো ত্বকের গভীরে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
যেমন Kiehl’s RHC+ সিরামের ক্ষেত্রে, RHC মানে রিকম্বিন্যান্ট হিউম্যান কোলাজেন, যা বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে তৈরি। এটি প্রো-জাইলেন (Pro-Xylane) এবং ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ। প্রো-জাইলেন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে কাজ করে, আর বি১২ কোষের বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। চিকিৎসকরা একক উপাদানের চেয়ে এই সম্মিলিত ফর্মুলাকে বেশি গুরুত্ব দেন, যা ত্বকের অ্যাপল মাসল বা গালের গঠন ধরে রাখতে কার্যকর।
সম্পর্কিত নতুন পণ্য

Above Kiehl’s RHC+ কোলাজেন প্লাাম্পিং সিরাম ৩০ মিলি / NT$২,৪০০

Above Kiehl’s RHC+ কোলাজেন প্লাাম্পিং সিরাম ৩০ মিলি / NT$২,৪০০
Kiehl’s RHC+ কোলাজেন প্লাাম্পিং সিরাম ৩০ মিলি / NT$২,৪০০
Kiehl’s তাদের নতুন RHC+ কোলাজেন প্লাাম্পিং সিরাম বাজারে এনেছে, যা “কোলাজেন পাম্পিং বোটল” নামে পরিচিত। এটি অ্যাপল মাসল বা গালের অসম্পূর্ণতা, গালের নিচ দিক থেকে ঝুলে যাওয়া এবং চেহারার ক্লান্তি দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকর। এর প্রধান উদ্ভাবন হলো “সুই-হীন কোলাজেন প্রযুক্তি”, যা ত্বকের গভীরে সক্রিয় উপাদান পৌঁছে দেয়। ব্র্যান্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ব্যবহার করার ফলে ত্বকের真皮層 বা ডার্মাল স্তরে শোষণ ক্ষমতা ২৭% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
এই সিরামে RHC+ কোলাজেনের পাশাপাশি প্রো-জাইলেন এবং ভিটামিন বি১২ রয়েছে। প্রো-জাইলেন ত্বকের কোলাজেন পুনর্গঠনে ও আর্দ্রতা রক্ষায় কাজ করে, আর বি১২ ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে গোলাপি আভা আনে। Kiehl’s-এর এই নতুন সিরামটি ব্যবহারের ২ সপ্তাহের মধ্যে ৫৫ জন ব্যবহারকারীর ওপর করা পরীক্ষা অনুযায়ী চোখের নিচের গভীরতা ১৬%, অ্যাপল মাসল বা গালের পূর্ণতা ২০% এবং হাসির রেখা ২২% পর্যন্ত উন্নত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন





