আঠারো বছর বয়সে অনেক তরুণ-তরুণী প্রথমবারের মতো পরিবারের নিরাপত্তা ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখে এবং নিজ দায়িত্বে অর্থ ব্যয় করতে শেখে। বর্তমানে খরচ, ঋণ ও বিনিয়োগ সহজলভ্য হলেও, এই আর্থিক সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার মতো বিচক্ষণতা ও দক্ষতা তাদের অনেকেরই নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চলা তরুণ প্রজন্মের কাছে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনগুলো জীবনের নতুন অধ্যায় উন্মোচনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে। অনেকেই তাদের প্রিয় এলাকা ও পরিবার ছেড়ে বড় শহরে পা রাখে, যেখানে তাদের স্বপ্ন ও জীবনের প্রয়োজনের তাগিদ নতুন রূপ পায়। আবার কেউ কেউ বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে নতুন ভাষা, সংস্কৃতি এবং উন্নত দেশের আর্থিক ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হওয়া অনেকের জন্যই বিস্ময়কর হতে পারে।
আরও পড়ুন: শিক্ষায় ভবিষ্যৎ: আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি
অবস্থা যাই হোক না কেন, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী এই তরুণদের জন্য এটি জীবন পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ। তারা প্রথমবারের মতো স্বাধীনভাবে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। এই তরুণ প্রজন্মের জন্য আর্থিক সাক্ষরতা অপরিহার্য।
পরিবারের দেওয়া সীমিত হাতখরচে তাদের টিউশন ফি, বাড়ি ভাড়া, খাবার ও দৈনন্দিন খরচ সামলাতে হয়। সেই সাথে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, ডিজিটাল ওয়ালেট কিংবা বাড়তি উপার্জনের জন্য বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলো তাদের আর্থিক দক্ষতার পরীক্ষায় ফেলে দেয়, যা অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে শেখার সুযোগ পায়নি।

Above তরুণ প্রজন্মের জন্য আর্থিক সাক্ষরতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা কেন গুরুত্বপূর্ণ তা এই নিবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, অনেক দেশে আর্থিক সাক্ষরতা বা আর্থিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভিয়েতনামের প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ২০-২৫ শতাংশের আর্থিক বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান রয়েছে। অনেক তরুণ শিক্ষার্থীই আজ পর্যন্ত কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেনি বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেনি। তাদের জন্য এটি এক বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ নতুন পরিবেশে কোনো পরিচিত সমর্থন ব্যবস্থা ছাড়াই তাদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় নির্বাহ করতে হয়।
আরও পড়ুন: অভিজাত বিনিয়োগকারীরা কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার চিন্তাধারা তৈরি করছেন?
আর্থিক সেবা এখন তরুণ প্রজন্মের জন্য অনেক বেশি সহজলভ্য
বর্তমানে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো তরুণ তাদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দ্রুত অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ওয়ালেট খুলতে পারে। অনেকে আবার স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগেও আগ্রহী। ব্যাংকিং অ্যাপ এবং ফিনটেক সেবার কল্যাণে শিক্ষার্থীরা এখন অনেক সহজে তথ্য ও আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রেডিট কার্ডের লিমিট পাওয়া এখন বেশ সহজ, যদিও এটি আর্থিক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে সঠিক আর্থিক সাক্ষরতার অভাবে অনেক তরুণই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। “বাই নাউ, পে লেটার” (এখন কিনুন, পরে পরিশোধ করুন)-এর মতো প্রলোভন কিংবা বন্ধুদের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ করার প্রবণতা তাদের আর্থিক চাপে ফেলে দেয়। অনলাইনে ভুল পরামর্শ মেনে বিনিয়োগ করতে গিয়ে অনেকে অর্থ হারায়, এমনকি তারা প্রতারণারও শিকার হয়। সহজলভ্য আর্থিক সেবার এই যুগে তরুণ প্রজন্ম যদি সচেতন না হয়, তবে তাদের আর্থিক স্বাধীনতার বদলে ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

Above স্মার্টফোন অ্যাপ এবং ফিনটেক সেবা ব্যবহার করার সময় তরুণ প্রজন্মের অধিক সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আর্থিক সাক্ষরতা এবং সুস্থ আর্থিক অভ্যাসের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যারা আর্থিক বিষয়ে সচেতন, তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আর্থিক জ্ঞান কম থাকলে মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকে।
যদিও আর্থিক সাক্ষরতা মানেই ধনী হওয়া নয়, তবে এটি একজন মানুষকে ভালো বাজেট করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। এই ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন আর্থিক পণ্যের ভিড়ে আর্থিক সাক্ষরতা তরুণ প্রজন্মের জন্য তাদের জীবন নিয়ন্ত্রণের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করে।
শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের আর্থিক চ্যালেঞ্জ
তরুণ শিক্ষার্থী যারা গ্রাম থেকে শহরে পড়াশোনার জন্য এসেছে, তাদের জন্য আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হো চি মিন সিটির মতো শহরে একটি কক্ষের ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৬ থেকে ১০ মিলিয়ন ডং খরচ হতে পারে। তাই বাজেট প্রণয়ন ও অর্থ ব্যবস্থাপনার শিক্ষা তাদের জন্য কতটা জরুরি, তা সহজেই অনুমেয়।

Above আবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক আর্থিক পরিকল্পনার প্রয়োজন।
তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক দক্ষতা
গবেষণায় দেখা গেছে যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আর্থিক বিষয়গুলো জানার প্রবল আগ্রহ রয়েছে। তাদের শুধুমাত্র সঞ্চয় বা বাজেট নয়, বরং কর, আইনি পরিভাষা, বিনিয়োগ এবং আধুনিক ফিনটেক টুলস সম্পর্কেও জ্ঞান রাখা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাক্ষরতা প্রদান করা গেলে তারা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।
এই ধরণের শিক্ষার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেওয়া, যাতে তারা জীবনের জটিল আর্থিক সিদ্ধান্তগুলো নিজে নিতে পারে। সঠিক আর্থিক শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের চাপ কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে তারা দেশের অর্থনীতির জন্য একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।

Above তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা এবং দক্ষতা তাদের আর্থিক স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিতে পারে।




