১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখটি Apple-এর ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে, কারণ এদিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো “টার্নাস যুগ”। টিম কুক সিইও পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর দায়িত্ব তুলে দিলেন জন টার্নাসের হাতে, যিনি ২৫ বছর ধরে কোম্পানির হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাণ হিসেবে কাজ করেছেন।
যদি স্টিভ জবস হন “দ্য ভিশনারি” যিনি ডিজাইনের মাধ্যমে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছিলেন, আর টিম কুক হন “দ্য মাস্টার অফ অপারেশন্স” যিনি ব্যবসার শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তবে জন টার্নাস হলেন “দ্য মাস্টার অফ ইঞ্জিনিয়ারিং” যিনি আধুনিক যুগের নতুন চাহিদাকে পূরণ করবেন। জন টার্নাস কোম্পানির ভেতর থেকেই উঠে আসা একজন দক্ষ নেতৃত্ব।
কোম্পানির ডিএনএতে মিশে থাকা এই নতুন সিইও-কে নিয়োগ দেওয়ার অর্থই হলো, Apple পুনরায় তাদের হার্ডওয়্যার উদ্ভাবনের মূল শক্তিতে ফিরে যাচ্ছে। জেনারেটিভ এআই এবং স্পেশিয়াল কম্পিউটিংয়ের যুগে, হার্ডওয়্যারের সাথে এআই-এর সমন্বয়ে জন টার্নাস Apple-কে এক বিশাল উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। সেই লক্ষ্য হলো Apple-এর বাজারমূল্য ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের উপরে নিয়ে যাওয়া।
আরও পড়ুন: Apple-এর ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের আয়ের নতুন রেকর্ড

Above টিম কুক এবং জন টার্নাস ২০২৬ সালের অ্যালেন অ্যান্ড কোং সান ভ্যালি কনফারেন্সে, যা ধনকুবেরদের গ্রীষ্মকালীন মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত। ৭ জুলাই ২০২৬-এ জন টার্নাসকে টিম কুকের পরবর্তী সিইও হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। (ছবি: কেভিন ডিয়েটশ/গেটি ইমেজ)
CAD স্ক্রিন থেকে সিইও পদ পর্যন্ত: জন টার্নাস যিনি প্রকৃত অর্থেই “মেড অ্যাট Apple”
অন্যান্য কোম্পানির মতো বাইরে থেকে নিয়োগ না দিয়ে, Apple জন টার্নাস-কে বেছে নিয়েছে কারণ তিনি কোম্পানির ভেতরেই তৈরি হয়েছেন। ২০০১ সালে তিনি প্রোডাক্ট ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন, যখন Apple মূলত ম্যাক কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
গত ২৫ বছরে তিনি পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছেন। প্রথম আইপ্যাড, এয়ারপডস-এর ডিজাইন থেকে শুরু করে Apple সিলিকনে রূপান্তরের মতো জটিল কাজে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইন্টেল চিপ বাদ দিয়ে নিজস্ব এম-সিরিজ চিপে ম্যাক লাইনআপকে নিয়ে আসা ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য। জন টার্নাস তার স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার জন্য বোর্ডের কাছে সবসময় আস্থাভাজন ছিলেন।
নতুন “টার্নাস যুগ” শুরু: ইঞ্জিনিয়ার যখন হাল ধরেন
জন টার্নাসের অধীনে Apple-এর কৌশল আরও গভীর প্রযুক্তি বা ডিপ-টেকমুখী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার নেতৃত্বে যা হতে পারে:
১. নতুন হার্ডওয়্যার বিপ্লব: একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে, জন টার্নাস অ্যাপলের পণ্যগুলোকে নতুন ফর্মে নিয়ে আসবেন। আমরা আইফোন বা ফোল্ডেবল ডিভাইসের নতুন ডিজাইন এবং অ্যাপল ওয়াচের আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি দেখার আশা করতে পারি।
২. Apple ইন্টেলিজেন্স ও সিলিকন: জন টার্নাস এআই-কে সফটওয়্যারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজস্ব চিপ (নিউর্যাল ইঞ্জিন) ডিজাইনের মাধ্যমে ডিভাইসের ভেতর আরও শক্তিশালী এবং নিরাপদ এআই অভিজ্ঞতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
৩. স্পেশিয়াল কম্পিউটিং: ভিশন প্রো-এর দাম ও আকার কমিয়ে জন টার্নাস এটিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য এআর গ্লাসে পরিণত করার দায়িত্ব পালন করবেন।

Above চীনে Apple স্টোরে ক্রেতাদের ভিড়। নতুন আইফোন লঞ্চ এবং এআই প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে জন টার্নাসের নেতৃত্বে কোম্পানিটি বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। (ছবি: চেং শিন/গেটি ইমেজ)
৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার পথে জন টার্নাস
টিম কুকের বিদায়ের সময় শেয়ার বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিলেও, Apple-এর ভবিষ্যৎ এখন জন টার্নাসের হাতে। টিম কুক তার ১৫ বছরের শাসনামলে কোম্পানির বাজারমূল্য বিশাল উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। এখন জন টার্নাসের কাজ হলো অ্যাপলের সার্ভিসেস বিজনেস টিকিয়ে রাখা এবং স্মার্ট হোম ও হেলথ টেক প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা।
তদুপরি, চীন থেকে সরে এসে এশিয়া ও ভারতে সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করাটাও জন টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জন টার্নাস যদি সঠিক ভারসাম্য রাখতে পারেন, তবেই Apple ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে।

Above টিম কুকের অবসরের ঘোষণার পর Apple-এর শেয়ার বাজারের পরিস্থিতি। জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার ধীরে ধীরে নতুন নেতৃত্বে আস্থা রাখছে। (ছবি: ইয়াহু ফিন্যান্স)
পরীক্ষার মুখোমুখি জন টার্নাস
৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য Apple ইভেন্ট হবে জন টার্নাসের প্রথম বড় পরীক্ষা। সিইও হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি। টিম কুকের ভাষায়, “জন টার্নাস একজন ইঞ্জিনিয়ারের বুদ্ধি এবং উদ্ভাবকের হৃদয় নিয়ে বেড়ে ওঠা নেতা।”
২৫ বছর আগের সেই তরুণ ইঞ্জিনিয়ার আজ অ্যাপলের হাল ধরেছেন। এখন দেখার বিষয়, জন টার্নাস কি সত্যিই Apple-কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন? অ্যাপলের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।
এমন কিছু তৈরি করুন যা আপনাকে আগ্রহী করে, যা আপনাকে উত্তেজিত করে, কিন্তু সর্বোপরি আপনার মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্টিভ জবস যেমন বলেছিলেন, পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার জন্য এগিয়ে যান এবং আপনার সময়কে কাজে লাগান।





