Woman with sunspots on face
Cover অনেক অ্যান্টি-এজিং পণ্যের চেয়ে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতার পেছনে বেশি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। তবে একটি ভালো সানস্ক্রিন কেবল এসপিএফ-এর ওপর নির্ভর করে না। (ছবি: গেটি ইমেজেস)
Woman with sunspots on face

অনেক বার্ধক্যরোধী পণ্য বা অ্যান্টি-এজিং ব্রেকথ্রু হিসেবে যা বিক্রি হয়, তার চেয়ে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতার পেছনে অনেক শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু এটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বোতলের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ এসপিএফ (SPF) নম্বর দেখলেই হবে না।

ত্বকের যত্ন বা স্কিনকেয়ারের পদ্ধতি এখন অনেক বেশি প্রযুক্তিগত হয়ে উঠেছে। রেটিনয়েডস, পেপটাইড, গ্রোথ ফ্যাক্টর, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস থেকে শুরু করে লেজার পর্যন্ত এমন অনেক পণ্য ও চিকিৎসা এখন বাজারে রয়েছে যা কোলাজেন বাড়ানো, ত্বকের পিগমেন্টেশন দূর করা বা কোষ মেরামতের প্রতিশ্রুতি দেয়। সানস্ক্রিনকেও এখন অনেক সময় সাধারণ মনে হতে পারে, যার ফলে এটিকে আর গুরুত্বসহকারে অ্যান্টি-এজিং স্কিনকেয়ারের তালিকায় রাখতে মানুষ চায় না।

অথচ এই ধারণার মূল সত্যটি আজও বদলায়নি। অকাল বার্ধক্য রোধ করার জন্য সানস্ক্রিন বা কার্যকর সূর্য সুরক্ষা আজও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। তাহলে প্রশ্ন জাগে, এত শক্তিশালী প্রমাণ থাকার পরেও দৈনন্দিন জীবনে সানস্ক্রিন কেন এখনও অবহেলিত?

যদি আপনি মিস করে থাকেন: এসপিএফ ডিকোডেড: আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক সানস্ক্রিন কীভাবে বেছে নেবেন

সানস্ক্রিন কি সত্যিই কার্যকর?

সানস্ক্রিন নিয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী সরাসরি প্রমাণ পাওয়া গেছে অস্ট্রেলিয়ার “ন্যামবোর স্কিন ক্যান্সার প্রিভেনশন ট্রায়াল” থেকে, যা দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার অন্যতম একটি। সেখানে ৯টি তিন বছর বয়সী ৯ শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে সাড়ে চার বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। এক দলকে বলা হয়েছিল প্রতিদিন সকালে মুখ, ঘাড়, হাত ও বাহুতে ব্রড-স্পেকট্রাম এসপিএফ ১৫-এর বেশি সানস্ক্রিন লাগাতে।

পরীক্ষার শেষে দেখা যায়, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারকারীদের ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ পড়েনি এবং তাদের ত্বকের বার্ধক্য বৃদ্ধির হার অন্য দলের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম ছিল।

২০১৩ সালে মারিয়া সেলিয়া হিউজেস এবং তাঁর দলের গবেষণায় প্রাপ্ত এই তথ্য স্কিনকেয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী বেশ শক্তিশালী। তবে সানস্ক্রিন বা এই বিলাসবহুল সানস্ক্রিন কি বর্তমানের লেজার চিকিৎসার মতো দ্রুত ফল দেবে? না, এটি মূলত সূর্যরশ্মি থেকে আরও ক্ষতি হওয়া রোধ করে। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে এটি দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের বার্ধক্য বা ফটোএজিংকে ধীর করে দেয়।

অর্থাৎ, এখনই সানস্ক্রিনকে একমাত্র ও সর্বশক্তিমান অ্যান্টি-এজিং পণ্য বলা না গেলেও, নিয়মিত এর ব্যবহার ত্বকের সুরক্ষায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

এশীয় ত্বকের ওপর গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

অস্ট্রেলিয়ার ট্রায়ালটি সবচেয়ে বড় হলেও, কোরিয়া, চীন, জাপান ও ভারতের মানুষদের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফটোএজিং ত্বকের ধরনভেদে ভিন্ন হয়। সিউলের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, কোরিয়ানদের ক্ষেত্রে পিগমেন্টেশনের পাশাপাশি বলিরেখা বা রিঙ্কেলস বার্ধক্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

মিস করবেন না: এশিয়ায় দীর্ঘায়ুর সংজ্ঞা যেভাবে বদলে যাচ্ছে

গুয়াংজুতে ৩০০ জন চীনা নারীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ছাতা, টুপি বা সানস্ক্রিনের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষা দিতেন, তাদের ত্বকে বলিরেখা ও ঝুলে যাওয়া ভাব অনেক কম। দিল্লিতে করা আরেকটি পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০ এবং এসপিএফ ১৯ উভয়ই পিগমেন্টেশনের উন্নতি ঘটাতে সহায়তা করেছে। এটিই প্রমাণ করে যে, সানস্ক্রিন ব্যবহার সব এশীয় জনগোষ্ঠীর ত্বকের সুরক্ষায় বলিরেখা ও পিগমেন্টেশন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আমরা কি সানস্ক্রিন কম ব্যবহার করছি?

সানস্ক্রিনের কম ব্যবহার কেবল ব্যবহারের অভাব নয়, এটি পরিমাণের ওপরও নির্ভর করে। সাধারণ মানুষ খুব পাতলা স্তরে সানস্ক্রিন লাগায়, যা গবেষণাগারের পরীক্ষার মানদণ্ডের চেয়ে অনেক কম। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ২২ শতাংশ চীনা, ১৩ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ান এবং ৩ শতাংশ জাপানি নাগরিক সুরক্ষার সব নিয়ম (যেমন টুপি, ছাতা ও সানস্ক্রিন) মেনে চলেন। অর্থাৎ, বোতলে যে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা থাকে, বাস্তবে ত্বকে তার চেয়ে কম সুরক্ষাই পৌঁছায়।

কোন সানস্ক্রিন আসলে কার্যকর?

সব ধরনের মুখ, জলবায়ু বা কাজের জন্য একটি সানস্ক্রিন উপযুক্ত নয়। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া জরুরি যা ইউভিএ (UVA) এবং ইউভিবি (UVB) উভয় রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়। ইউভিএ বার্ধক্য বাড়ায় আর ইউভিবি পোড়া বা ট্যানিংয়ের কারণ হয়।

প্রতিদিনের জন্য অন্তত এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি উপযুক্ত। টেক্সচার বা গঠনের দিকেও নজর দিন, কারণ যদি এটি ব্যবহার করতে আরামদায়ক না হয়, তবে আপনি নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগাবেন না। একটি আরামদায়ক সানস্ক্রিন যা নিয়মিত ব্যবহার করা যায়, তা খুব শক্তিশালী কিন্তু অসুবিধাজনক সানস্ক্রিনের চেয়ে ঢের ভালো।

Tatler Asia
Sunscreen being applied out of a squeeze tube
Above সানস্ক্রিন ফ্লুইড, জেল, মিল্ক বা ক্রিমের আকারে পাওয়া যায়—আপনার ত্বকের জন্য সেরা সানস্ক্রিন নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Sunscreen being applied out of a squeeze tube

দীর্ঘক্ষণ বাইরের কাজের জন্য ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট সানস্ক্রিন

বাইরের দীর্ঘসময়ের কাজের জন্য এমন সানস্ক্রিন বাছুন যা ওয়াটার-রেজিস্ট্যান্ট বা ঘাম-প্রতিরোধী। এগুলো ঘাম বা জলে সহজে ধুয়ে যায় না। তবে মনে রাখবেন, এগুলোও নিয়ম মেনে বারবার রি-অ্যাপ্লাই বা পুনরায় লাগাতে হয়।

পিগমেন্টেশনের জন্য টিন্টেড সানস্ক্রিন

যাদের মেলাজমা বা হাইপারপিগমেন্টেশন আছে, তাদের জন্য আয়রন অক্সাইডযুক্ত টিন্টেড সানস্ক্রিন অনেক বেশি কার্যকর। এটি সাধারণ সানস্ক্রিনের চেয়ে দৃশ্যমান আলোকে আরও ভালোভাবে আটকাতে সাহায্য করে।

মিনারেল বনাম অর্গানিক সানস্ক্রিন

মিনারেল বা কেমিক্যাল সানস্ক্রিনের লড়াইটি আসলে ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর নির্ভর করে। মিনারেল সানস্ক্রিন (জিঙ্ক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাই অক্সাইড) অনেকের ত্বকে মানায় না, বিশেষ করে গাঢ় ত্বকে এটি সাদা আস্তরণ তৈরি করে। অন্যদিকে অর্গানিক বা হাইব্রিড ফর্মুলা হালকা ও স্বচ্ছ হতে পারে। প্রধান লক্ষ্য হলো সানস্ক্রিনটি এমন হতে হবে যা আপনি নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন।

সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চারাইজার

অনেকে ময়েশ্চারাইজারের সাথে এসপিএফ থাকলে আলাদা সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না। কিন্তু পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে পণ্য ব্যবহার করতে হবে, যা কেবল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে করলে ত্বকে অতিরিক্ত মনে হতে পারে। তাই সানস্ক্রিন আলাদা রাখাই সবচেয়ে ভালো।

মেকআপে এসপিএফ

ফাউন্ডেশন বা কুশন মেকআপে এসপিএফ থাকা ভালো, তবে এগুলোকে মূল সানস্ক্রিন হিসেবে গণ্য করবেন না। কারণ মেকআপের ক্ষেত্রে আমরা যতটুকু পরিমাণ পণ্য ব্যবহার করি, তা এসপিএফ পরীক্ষার মানদণ্ড পূরণ করার জন্য যথেষ্ট নয়। মেকআপকে কেবল বাড়তি সুরক্ষা হিসেবে ভাবুন।

স্টিক, স্প্রে এবং পাউডার ফরম্যাট

এগুলো বারবার ব্যবহারের জন্য খুব সুবিধাজনক। কিন্তু এগুলো ব্যবহারের সময় অনেক জায়গায় পণ্য পৌঁছায় না। তাই স্প্রে করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং সমানভাবে ত্বকে ছড়িয়ে দিতে হবে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ক্রিমের মতো সানস্ক্রিনই মূল সুরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

সানস্ক্রিনই সব নয়

সানস্ক্রিন একা সব সুরক্ষা দিতে পারে না। এর পাশাপাশি টুপি, রোদচশমা এবং ছায়া ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে কেবল সানস্ক্রিনের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। আমাদের সানস্ক্রিন ব্যবহারের রুটিনটি সহজ, তবে কার্যকর হতে হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

হ্যাঁ, সানস্ক্রিন এখনও সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টি-এজিং পণ্য যদি আপনার লক্ষ্য হয় ভবিষ্যতে ত্বকের বার্ধক্য বা ফটোএজিং প্রতিরোধ করা। গবেষণায় প্রমাণিত যে, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি কমে। সবশেষে, আপনার ত্বকের জন্য সেরা সানস্ক্রিন সেটিই যা আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিদিন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন। এটি রাতারাতি ম্যাজিক দেখাবে না, তবে বছরের পর বছর আপনার ত্বককে রাখবে সুরক্ষিত ও তারুণ্যদীপ্ত।

Topics

ক্রিস্টিন ফোনাশিয়ার
সহযোগী লেখক, Tatler Asia
Tatler Asia

ক্রিস্টিন ফোনাশিয়ার একজন বহুল প্রকাশিত সাংবাদিক ও লেখিকা, যিনি জীবনধারা, ব্যবসা, রাজনীতি এবং ভ্রমণ বিষয়ে লেখেন। তিনি এস্কোয়ার এবং এন্টারপ্রেনার-এর ফিলিপাইন সংস্করণের প্রধান সম্পাদক এবং গ্রিড ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। ট্যাটলার-এ তিনি পূর্বে টি-ল্যাবস, পাওয়ার অ্যান্ড পারপাস এবং এশিয়াস মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল-এর আঞ্চলিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।