Italian trailblazer Lella Lombardi made history at the 1975 Spanish Grand Prix, becoming the first and only woman to score World Championship points in Formula One history. (Photo: Getty Images)
Cover ইতালীয় পথপ্রদর্শক লেলা লোম্বার্দি ১৯৭৫ সালের স্প্যানিশ গ্র্যান্ড প্রিক্সে ইতিহাস গড়েন, ফর্মুলা ১-এর ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র নারী হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট অর্জন করেন। (ছবি: গেটি ইমেজস)
Italian trailblazer Lella Lombardi made history at the 1975 Spanish Grand Prix, becoming the first and only woman to score World Championship points in Formula One history. (Photo: Getty Images)

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নারীরা ফর্মুলা ১-এ পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের ধারণা চ্যালেঞ্জ করে বিশ্বের অন্যতম কঠিন এই খেলার রূপ বদলে দিয়েছেন

মোটরস্পোর্ট শিল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী হলেন নারী, যারা প্রকৌশল, কৌশল, নেতৃত্ব এবং ড্রাইভার উন্নয়নের মতো প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন। ফর্মুলা ১-এ আজ তাদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি হলো কয়েক দশক ধরে সেই সব নারী পথপ্রদর্শকদের নিরলস সংগ্রামের ফসল, যারা এই খেলার জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন।

ক্লেয়ার উইলিয়ামস, সুজি উলফ, লরা মুলার, হানা শ্মিটজ, বার্নি কলিন্স এবং মনীষা কালটেনবর্ন—এঁরা সেই সব মানুষ, যারা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ফর্মুলা ১-এ পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে, ফর্মুলা ১-এ অংশগ্রহণ লিঙ্গ বা শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি রেসিং এবং এর আনুষঙ্গিক সবকিছুর প্রতি গভীর আবেগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এর মাধ্যমে বিয়ানকা বুস্তামান্তে এবং অ্যাবি পুলিংয়ের মতো নতুন প্রজন্মের চালকদের জন্য মোটরস্পোর্টের শিখরে পৌঁছানোর পথ সুগম হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফর্মুলা ১ থেকে উইম্বলডন: খেলার জগতে সেরা সব লাক্সারি ব্র্যান্ড কোলাবরেশন

মারিয়া তেরেসা দে ফিলিপিস

Tatler Asia
In 1958, Italian trailblazer Maria Teresa de Filippis made history as the first woman to compete in a Formula 1 Grand Prix, piloting Maserati’s iconic 250F. (Photo: Getty Images)
Above ১৯৫৮ সালে, ইতালীয় পথপ্রদর্শক মারিয়া তেরেসা দে ফিলিপিস মসেরাটির আইকনিক ২৫০এফ মডেল চালিয়ে ফর্মুলা ১ গ্র্যান্ড প্রিক্সে অংশ নেওয়া প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন। (ছবি: গেটি ইমেজস)
Tatler Asia
Defying the harsh skeptics of her era, Maria Teresa de Filippis proved that women belonged at the highest level of motorsport, opening doors for future generations of female racers. (Photo: Getty Images)
Above সে যুগের কঠোর সমালোচকদের উপেক্ষা করে, দে ফিলিপিস প্রমাণ করেছিলেন যে ফর্মুলা ১-এর মতো উচ্চমানের মোটরস্পোর্টে নারীদেরও জায়গা আছে, যা ভবিষ্যৎ নারী চালকদের জন্য দরজা খুলে দেয়। (ছবি: গেটি ইমেজস)
In 1958, Italian trailblazer Maria Teresa de Filippis made history as the first woman to compete in a Formula 1 Grand Prix, piloting Maserati’s iconic 250F. (Photo: Getty Images)
Defying the harsh skeptics of her era, Maria Teresa de Filippis proved that women belonged at the highest level of motorsport, opening doors for future generations of female racers. (Photo: Getty Images)

নারীদের অংশগ্রহণের এই যাত্রা মূলত ১৯৫৮ সালে শুরু হয়, যখন ইতালীয় চালক মারিয়া তেরেসা দে ফিলিপিস প্রথম নারী হিসেবে ফর্মুলা ১ চ্যাম্পিয়নশিপ গ্র্যান্ড প্রিক্সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে সময় ফর্মুলা ১-কে একটি পুরুষশাসিত একান্ত জগৎ হিসেবে গণ্য করা হতো। মানুষের ধারণা ছিল, এই স্তরে গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি নারীদের নেই। এমনকি ১৯৫৮ সালের ফ্রেঞ্চ গ্র্যান্ড প্রিক্সের রেস ডিরেক্টর রেমন্ড রোশ স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন: “নারীদের জন্য চুল বাঁধার সময় যে হেলমেট প্রয়োজন, সেটিই যথেষ্ট।” কিন্তু এই মন্তব্য দে ফিলিপিসকে নিরাশ করার পরিবর্তে আরও অনুপ্রাণিত করেছিল।

দে ফিলিপিসের দৃঢ় সংকল্প তাঁর পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে ফুটে উঠেছে। নেপলসে জন্মগ্রহণকারী এই ইতালীয় নারী তাঁর ভাইদের সাথে একটি বাজি ধরে প্রথম রেসে অংশ নিয়েছিলেন, কারণ তাঁর ভাইয়েরা তাঁর গাড়ি চালানোর দক্ষতাকে তুচ্ছ করেছিল। তাদের ভুল প্রমাণ করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ১৯৪৮ সালে তিনি একটি ফিয়াট ৫০০ চালিয়ে প্রথম রেসে অংশ নেন এবং জিতে যান। খুব দ্রুত তাঁর প্রতিভা সবার নজরে আসে এবং ১৯৫৮ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ মসেরাটি ফর্মুলা ১ টিমে যোগদানের আমন্ত্রণ পান। তিনি সেই একই মসেরাটি ২৫০এফ চালিয়েছিলেন, যা আগের বছর জুয়ান ম্যানুয়েল ফ্যানজিওকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছিল।

তিনি মাত্র তিনটি গ্র্যান্ড প্রিক্সে শুরু করলেও, পুরুষ সহকর্মীদের শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অনেক মানুষ মনে করতেন নারীদের এই খেলার জগতে স্থান নেই, অথচ তিনি সাহস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করেছিলেন। যদিও তাঁর ফর্মুলা ১ ক্যারিয়ার মাত্র এক মৌসুম স্থায়ী হয়েছিল, তবুও তিনি যা অর্জন করেছিলেন তা ছিল অবিশ্বাস্য।

মোটরস্পোর্টে নারীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে তাঁর অবদান তাকে ১৯৯৭ সালে গ্র্যান্ড প্রিক্স ড্রাইভারস ক্লাবের সহ-সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। দে ফিলিপিসের সাহসিকতা প্রমাণ করেছিল যে নারীরাও এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেন এবং যারা তাদের শারীরিক বা মানসিকভাবে সক্ষম মনে করতেন না, তাদের সবার মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছিলেন তিনি।

লেলা লোম্বার্দি

Tatler Asia
Beyond her historic point-scoring finish, Lombardi started 16 Grands Prix and later launched her own racing team, establishing a vital benchmark for women in motorsport. (Photo: Getty Images)
Above ইতিহাস গড়া পয়েন্ট-স্কোরিং ফিনিশের বাইরেও, লোম্বার্দি ১৬টি গ্র্যান্ড প্রিক্সে অংশ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজের রেসিং টিম তৈরি করেন, যা ফর্মুলা ১-এ নারীদের জন্য এক মাইলফলক। (ছবি: গেটি ইমেজস)
Beyond her historic point-scoring finish, Lombardi started 16 Grands Prix and later launched her own racing team, establishing a vital benchmark for women in motorsport. (Photo: Getty Images)

দে ফিলিপিসের প্রথম গ্র্যান্ড প্রিক্সের ১৬ বছর পর, তাঁরই দেশীয় নারী লেলা লোম্বার্দি প্রমাণ করেন যে নারীরা কেবল অংশ নেওয়াই নয়, বরং পয়েন্ট অর্জন করার সক্ষমতাও রাখেন। ১৯৭৫ সালে মার্চ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হয়ে লোম্বার্দি ফর্মুলা ১-এ আত্মপ্রকাশ করেন, যেখানে তিনি মোট ১৬টি রেসে অংশ নিয়ে ৯টিতে সফলভাবে শেষ করেন। তাঁর দ্বিতীয় রেসেই তিনি ইতিহাস তৈরি করেন। ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে, স্প্যানিশ গ্র্যান্ড প্রিক্সে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে তিনি প্রথম এবং একমাত্র নারী হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট অর্জন করেন।

এই অর্জন খেলার সর্বোচ্চ স্তরে নারীদের পারফর্ম করার সক্ষমতা সম্পর্কে সব ধারণা বদলে দেয় এবং প্রমাণ করে যে প্রতিভা ও সাহসের সামনে লিঙ্গ কোনো বাধা নয়। যদিও তিনি আর সেই ফলাফল পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি, পরে জানা গিয়েছিল যে তাঁর গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল।

লোম্বার্দি ১৯৮৮ সালে তাঁর নিজের টিম, লেলা লোম্বার্দি অটোস্পোর্ট প্রতিষ্ঠা করেন। লোম্বার্টির অর্জন নারীদের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করে এবং আধুনিক প্রোগ্রামগুলোর মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, যা আজ নারীদের ফর্মুলা ১-এর জগতে সাহায্য করছে।

লোম্বার্টির এই অবদান কেবল স্টিয়ারিং হুইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীরা টিম ম্যানেজমেন্ট, রেস স্ট্র্যাটেজি এবং এরোডাইনামিক ডিজাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা ফর্মুলা ১-এর সামগ্রিক নেতৃত্ব ও প্রকৌশলগত রূপ বদলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: সিঙ্গাপুরের গার্ডেনস বাই দ্য বে-তে এশিয়ান অভিষেক ঘটাতে চলেছে ফর্মুলা ১ প্রদর্শনী

সুজি উলফ

সুজি উলফ ফর্মুলা ১-এ গাড়ি চালানো অষ্টম নারী হিসেবে পরিচিত। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উইলিয়ামস ডেভেলপমেন্ট ড্রাইভার হিসেবে তিনি চারটি ফ্রি প্র্যাকটিস সেশনে অংশ নিয়েছেন এবং সবকটিতেই দুর্দান্ত দক্ষতা দেখিয়েছেন। যদিও তিনি ফর্মুলা ১ রেসে মূল চালক হিসেবে সুযোগ পাননি, তবে ড্রাইভারের আসনের বাইরের তাঁর ভূমিকা আরও বিশাল প্রভাব ফেলেছে।

নারী চালকদের সংগ্রামের কথা কাছ থেকে দেখে তিনি প্রতিযোগিতার চেয়ে সুযোগ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোনিবেশ করেন। ২০১৬ সালে তিনি ‘ডেয়ার টু বি ডিফারেন্ট’ নামক একটি উদ্যোগ চালু করেন, যার লক্ষ্য ছিল মোটরস্পোর্টের প্রতিটি স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে নারীদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই, বরং সুযোগের অভাব আছে। জনসাধারণের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়ার পর এই প্রোগ্রামটি রেসিংয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরণের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছে।

Above সুজি উলফ ২০১৪ সালের ব্রিটিশ গ্র্যান্ড প্রিক্সে তাঁর ঐতিহাসিক যাত্রার তীব্র প্রস্তুতি ও উত্তেজনা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন, যেখানে তিনি ২২ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম নারী হিসেবে ফর্মুলা ১ রেস উইকেন্ডে গাড়ি চালিয়েছিলেন

উলফ পরবর্তীতে এই গতিকে কাজে লাগিয়ে এফ১ একাডেমি তৈরিতে সাহায্য করেছেন এবং বর্তমানে এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালে ফর্মুলা ওয়ান গ্রুপ কর্তৃক সৃষ্ট এই এফ১ একাডেমি একটি নারী-ভিত্তিক রেসিং সিরিজ, যা তরুণ নারী চালকদের গো-কার্ট থেকে ফর্মুলা ১-এর সিঙ্গল-সিটার গাড়ির জগতে উত্তরণের প্রশিক্ষণে সাহায্য করে। উলফ বরাবরই দাবি করেছেন যে শুধু পরিচিতি বৃদ্ধির চেয়ে বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। ফর্মুলা ১ টেস্ট ড্রাইভার এবং ফর্মুলা ই টিমের অধ্যক্ষ হিসেবে নিজের অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এই খেলার জগতে নারীদের জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও সমর্থন আদায় করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে এফ১ একাডেমি ১০টি ফর্মুলা ১ টিমেরই পূর্ণ সমর্থন পেয়েছে, যেখানে প্রতিটি টিম সরাসরি একজন নারী চালককে স্পন্সর করছে এবং তাদের গাড়ির লিভারি গ্রিডে প্রদর্শিত হচ্ছে। এর ফলে তরুণীরা এখন পেশাদার কোচিং, স্পনসরশিপ ও মিডিয়া প্রচারের অনেক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।

এফ১ একাডেমির প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হয়। প্রোগ্রামের ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন ডোরিয়ান পিন ২০২৬ সালের এপ্রিলে মার্সিডিসের হয়ে তাঁর প্রথম ফর্মুলা ১ টেস্ট সম্পন্ন করেন, যার মাধ্যমে তিনি প্রথম নারী হিসেবে মার্সিডিস ফর্মুলা ১ গাড়ি চালানোর গৌরব অর্জন করেন। তবে উলফ স্পষ্ট করে বলেছেন: “এফ১ একাডেমি কেবল একজন নারীকে ফর্মুলা ১-এ আনার জন্য কাজ করছে না।” বরং রেসিংয়ের পাশাপাশি তরুণীরা যাতে এই শিল্পের পুরো ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সেজন্য তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

লরা মুলার

২০২৫ মৌসুমের আগে, আমেরিকান মালিকানাধীন ফর্মুলা ১ টিম হাস (Haas), ফরাসি চালক এস্তেবান ওকনের রেস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে লরা মুলারকে নিয়োগ দেয়, যার মাধ্যমে তিনি ফর্মুলা ১-এর ইতিহাসে প্রথম পূর্ণকালীন নারী রেস ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠেন। রেস ইঞ্জিনিয়ার হলেন পিট ওয়ালের সাথে চালকের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম; তারা ডেটা বিশ্লেষণ করা, কৌশল তৈরি করা এবং চালককে নির্দেশনা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করেন। এটি ফর্মুলা ১-এর সবচেয়ে চাপের কাজগুলোর একটি।

বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর মুলার এই অবস্থানে পৌঁছান। ২০২২ সালে হাস টিমে পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে তিনি জুনিয়র ক্যাটাগরিতে কাজ করেছেন, যেখানে তিনি শান্ত যোগাযোগ, বিশ্লেষণী চিন্তাধারা এবং প্রযুক্তিগত নির্ভুলতার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। মুলারের নিয়োগ লিঙ্গের কারণে সংবাদ শিরোনাম হলেও এর প্রকৃত গুরুত্ব হলো, হাস তাকে তাদের সেরা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে নিয়োগ দিয়েছে, যা প্রমাণ করে যে ফর্মুলা ১-এ মেধার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হানা শ্মিটজ

একইভাবে, রেড বুলের স্ট্র্যাটেজি হেড হানা শ্মিটজ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টার্ন হিসেবে যাত্রা শুরু করে আজ পিট ওয়ালের সবচেয়ে সম্মানিত কৌশলবিদদের একজন হয়ে উঠেছেন। পিট ওয়ালে বসে শ্মিটজ প্রচুর লাইভ ডেটা বিশ্লেষণ করেন; তিনি কখন পিট স্টপ নিতে হবে, কোন টায়ার ব্যবহার করতে হবে কিংবা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে কীভাবে রেসপন্স করতে হবে তা নির্ধারণ করেন। এই মুহূর্তের সিদ্ধান্তগুলোই ফর্মুলা ১ গ্র্যান্ড প্রিক্সের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ম্যাক্স ভারস্ট্যাপেনের চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয় এবং রেড বুলের দুটি কনস্ট্রাক্টরস চ্যাম্পিয়নশিপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

শ্মিটজ প্রায়শই উল্লেখ করেছেন যে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি খুব কমসংখ্যক নারী প্রকৌশলী দেখেছেন। আজ তাঁর উপস্থিতি তরুণীদের স্টেম (STEM) ক্যারিয়ারের দিকে আগ্রহী হতে উদ্বুদ্ধ করছে।

Above নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘ফর্মুলা ১: দ্য একাডেমি’ ১৫ জন অভিজাত নারী চালকের তীব্র লড়াই ও জেদ তুলে ধরে, যারা প্রমাণ করতে চান যে ফর্মুলা ১ ও মোটরস্পোর্টে সফল হওয়ার যোগ্যতা তাদের আছে।

মারিয়া তেরেসা দে ফিলিপিস এমন সময়ে ফর্মুলা ১-এ প্রবেশ করেছিলেন যখন নারীদের সেখানে জায়গা হবে, তা কল্পনা করাও কঠিন ছিল। প্রায় ৭০ বছর পর, আজ এই শিল্পের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী নারী। যদিও পুরোপুরি সব বাধা দূর হয়নি, তবে মানসিকতা ও আলোচনার মোড় ঘুরেছে। আজকের নেতৃত্ব পুরনো পথিকৃৎদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছে এবং এটি নিশ্চিত করছে যে ফর্মুলা ১-এর জগতে নারীদের স্থায়ী ও অপরিহার্য স্থান রয়েছে।

Topics