(L-R): Jessie, Buzz Lightyear, and Woody in Disney and Pixar's TOY STORY 5. Photo courtesy of Pixar. © 2026 Disney/Pixar. All Rights Reserved.
Cover পিক্সারের “টয় স্টোরি ৫” দর্শকদের নিয়ে খেলনা ও মানুষের সম্পর্কের এক নতুন অভিজ্ঞতায়।
(L-R): Jessie, Buzz Lightyear, and Woody in Disney and Pixar's TOY STORY 5. Photo courtesy of Pixar. © 2026 Disney/Pixar. All Rights Reserved.

৩০ বছর পার করে “টয় স্টোরি ৫” কীভাবে একটি কালজয়ী “খেলনা ও শৈশবের গল্প” হিসেবে আমাদের জীবনের প্রতিফলন ঘটায়?

১৯৯৫ সালে প্রথম “টয় স্টোরি” (Toy Story) মুক্তির পর থেকে পিক্সারের এই অ্যানিমেশন সিরিজটি অজান্তেই সারা বিশ্বের দর্শকদের সঙ্গে তিরিশটি বছর কাটিয়ে ফেলেছে। ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয় পর্বের পর দীর্ঘ ১১ বছরের বিরতি ছিল। এরপর ২০১০ সালে তৃতীয় পর্ব মুক্তি পায়, যেখানে অ্যান্ডি বড় হয়ে তার খেলনাগুলো বনিকে দিয়ে দেয়। এই আবেগঘন সমাপ্তি অনেকের শৈশবের গল্পের সুন্দর ইতি টেনেছিল। তবে প্রশ্ন জাগে, তৃতীয় পর্বের বিদায় যখন এত মর্মস্পর্শী ছিল, তবে চতুর্থ পর্ব এবং তিরিশ বছর পর এই “টয় স্টোরি ৫” কেন?

এর উত্তর সম্ভবত খেলনার ভাগ্য আর মালিকের বেড়ে ওঠার অবিচ্ছেদ্য চক্রে নিহিত। চতুর্থ পর্বে উডি “অধীনস্থ” থাকার গণ্ডি পেরিয়ে নিজের স্বাধীনতার সন্ধান করেছিল। আর এই নতুন “টয় স্টোরি ৫”-এ আমরা মুখোমুখি হচ্ছি আধুনিক ডিজিটাল যুগের সংকটের—যেখানে সনাতন খেলনা বনাম আধুনিক প্রযুক্তির সংঘাত স্পষ্ট। ৩০ বছর আগে যারা “টয় স্টোরি” দেখেছিল, তারা হয়তো আজ অ্যান্ডির মতো নিজেদের স্বপ্নগুলোকে আগলে রাখছে। আজ এই সিনেমাটি কেবল শিশুদের বিনোদন নয়, বরং সময়ের এক দর্পণ। প্রেক্ষাগৃহের ম্লান আলোয় আমরা নিজেদের জীবনের সঙ্গে সময়ের সম্পর্কটি নতুন করে অনুভব করতে পারি। এই বয়সটি হলো নিজেকে চিনে নেওয়া এবং পুরোনো শৈশবের সাথে আপস করার সময়।

আরও পড়ুন: কোরিয়ান ড্রামার আড়ালে: “বেটার লেট দ্যান সিঙ্গেল” আমাকে প্রেমের যে বাস্তবতা দেখালো

Tatler Asia
(L-R): Buzz Lightyear (voiced by Tim Allen) and Woody (voiced by Tom Hanks) in Disney and Pixar's TOY STORY 5. Photo courtesy of Disney/Pixar. © 2025 Disney/Pixar. All Rights Reserved.
Above উডি ও বাজ লাইটইয়ারের মতো ক্লাসিক চরিত্রগুলো চিরসবুজ হলেও, যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের লড়াইগুলোও বদলেছে। (ছবি: ডিজনি)
(L-R): Buzz Lightyear (voiced by Tim Allen) and Woody (voiced by Tom Hanks) in Disney and Pixar's TOY STORY 5. Photo courtesy of Disney/Pixar. © 2025 Disney/Pixar. All Rights Reserved.

সময়ের সাথে স্মৃতির সংযোগ

প্রথম পর্ব থেকে এই “টয় স্টোরি ৫” পর্যন্ত, পর্দার খেলনাগুলো একই থাকলেও পর্দার পেছনের আমরা জীবনের ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছি। ৩০ বছর আগে যখন প্রথম ছবিটি মুক্তি পায়, তখন এর মূল দর্শক ছিল শিশুরা, যারা কেবল বন্ধুত্ব ও রোমাঞ্চ দেখত। কিন্তু তৃতীয় পর্বের সময় সেই শিশুরা যখন কর্মজীবনে পা রাখল, তখন অ্যান্ডির বিদায়ের দৃশ্য দেখে তাদের দীর্ঘশ্বাস ছিল যৌবনকে হারানোর বেদনা।

জীবনের ভিন্ন পর্যায়ে এই সিরিজটি দেখার অনুভূতিও ভিন্ন। যৌবনে আমরা বাজ লাইটইয়ারের মতো অজানাকে জয় করতে চেয়েছি, আর মধ্যবয়সে এসে আমরা উডির বিচ্ছেদের যন্ত্রণা বুঝতে পেরেছি। আজ যারা “টয় স্টোরি ৫” দেখছেন, তাদের অনেকেই হয়তো এখন অভিভাবক। এই সিনেমাটি যেন একটি টাইম ক্যাপসুল, যা বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শককে তাদের জীবনের নানা মোড়ে এক গভীর অনুভূতির সাথে মিলিয়ে দেয়।

Tatler Asia
(L-R): Bullseye, Jessie, and Lilypad in Disney and Pixar's TOY STORY 5. Photo courtesy of Pixar. © 2026 Disney/Pixar. All Rights Reserved.
Above নতুন চরিত্র “লিলি প্যাড”-এর আগমন ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাবে শৈশবের পরিবর্তনের প্রতীক। (ছবি: ডিজনি)
(L-R): Bullseye, Jessie, and Lilypad in Disney and Pixar's TOY STORY 5. Photo courtesy of Pixar. © 2026 Disney/Pixar. All Rights Reserved.

ডিজিটাল যুগে শৈশব

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের শিশুদের কাছে খেলনার সংজ্ঞাও বদলেছে। “টয় স্টোরি ৫”-এর গল্পে বনির ঘরে হাজির হয়েছে এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ—স্মার্ট ট্যাবলেট “লিলি প্যাড”। এর ডিজিটাল গেমস ও সোশ্যাল মিডিয়া ফিচারগুলো বনির মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে, যা সনাতন খেলনাগুলোর অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে।

লিলি প্যাড ঠিক খলনায়ক নয়, বরং এটি আজকের ডিজিটাল যুগের প্রতিচ্ছবি। অ্যালগরিদম আর ভার্চুয়াল বন্ধুত্বের মাধ্যমে এটি সমাধান দিতে চায় নিঃসঙ্গতার। এখান থেকেই আমাদের ভাবার সময় এসেছে: স্ক্রিনের আধিক্যের এই যুগে সনাতন খেলনা বা “টয় স্টোরি ৫” কি এখনো প্রাসঙ্গিক?

আরও পড়ুন: চিরসবুজ সোলবয়: খলিল ফং-এর ৭টি গান যা তার সঙ্গীতযাত্রার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল

Tatler Asia
(Center): Bonnie in Disney and Pixar's TOY STORY 5. Photo courtesy of Pixar. © 2026 Disney/Pixar. All Rights Reserved.
Above যারা অ্যান্ডির সাথে বড় হয়েছে, “টয় স্টোরি ৫” দেখার সময় তারা চরিত্রগুলোর পরিপক্কতা আরও গভীরভাবে অনুভব করতে পারবে। (ছবি: ডিজনি)
(Center): Bonnie in Disney and Pixar's TOY STORY 5. Photo courtesy of Pixar. © 2026 Disney/Pixar. All Rights Reserved.

স্মৃতির স্থায়ী সংরক্ষাগার

যৌবন চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু যেসব খেলনা আমাদের শৈশবের দিনগুলোয় পাশে ছিল, তা ফিরে তাকালে এখনো এক উষ্ণতা বা আবেগের জন্ম দেয়। ছবিতে জেসি যখন নিজের ফেলে আসা পুরনো স্মৃতিচিহ্নের দেখা পায়, তখন সেই আবেগ বাস্তব জীবনেও আমরা বিভিন্ন পুরনো খেলনার মাঝে খুঁজি। যেমন সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা রেট্রো খেলনা বা গেমস।

এই নস্টালজিয়া শুধু ব্যবসার খাতিরে নয়, বরং অনিশ্চিত ডিজিটাল যুগে মানুষের মানসিক শান্তির এক মাধ্যম। আমরা আমাদের সেই হারিয়ে যাওয়া নিষ্পাপ সময়টিই পুনরায় পেতে চাইছি। সময় হয়তো আমাদের শৈশব কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু এই খেলনাগুলো আমাদের বড়দের ব্যস্ত জীবনেও সেই পুরোনো সত্তার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।

Topics