গুচি থেকে রোলেক্স, বর্তমানের শীর্ষস্থানীয় বলিউড তারকারা কীভাবে ইউরোপীয় ফ্যাশন জগতের নতুন মুখ হয়ে উঠছেন তা দেখুন
আজকাল মুম্বাইয়ের অন্যতম সেরা অভিনেতাদের জন্য ফিল্ম সেট ছেড়ে প্যারিস ফ্যাশন উইকে যোগ দেওয়া, কোনো ইউরোপীয় ফ্যাশন হাউসের প্রচারণার মুখ হওয়া, অথবা সাধারণ মানুষের কল্পনাতীত দামি গয়না পরে কোনো অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
বছরের পর বছর ধরে, বলিউড তারকারা মূলত ভারতের বাজারের কথা ভেবেই ব্র্যান্ডের প্রচার করতেন। কিন্তু এখন, ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় নামগুলো বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফ্যাশন, গয়না এবং ঘড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হয়ে উঠছেন। তারকারা এখন শুধু ব্র্যান্ড পরেন না; বরং তারা এই বিলাসবহুল জগতের অংশ হয়ে উঠছেন। তারা ফ্যাশন হাউসগুলোর ঐতিহ্য ও শিল্পকুশলতাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছেন। বলিউড আমাদের একটি বিষয় শিখিয়েছে, তা হলো গ্ল্যামারের শক্তি অসীম।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস: বুলগারি এবং রোলেক্স
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস ফ্যাশন জগতে দুটি অত্যন্ত প্রভাবশালী বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ২০২১ সালে, ইতালীয় গয়না প্রতিষ্ঠান বুলগারি তাকে গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মনোনীত করে। এই ভূমিকায় তিনি অ্যান হ্যাথাওয়ে এবং জেন্ডায়ার মতো তারকাদের সঙ্গে বুলগারির হাই-জুয়েলারি ও সমাজসেবামূলক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন।
২০২৬ সালে, সুইস ঘড়ি নির্মাতা রোলেক্স তাকে গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও 'টেস্টিমোনি' হিসেবে নিযুক্ত করে। এটি একটি বিরল ঘটনা, কারণ সাধারণত বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো তাদের অ্যাম্বাসেডরদের প্রতিযোগী ঘড়ি নির্মাতাদের সঙ্গে চুক্তি করার অনুমতি দেয় না। এই দ্বৈত endorsement তার আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে তুলে ধরে, যা তিনি বলিউড ও হলিউড উভয় ক্ষেত্রেই গড়ে তুলেছেন। ইউনিসেফের সঙ্গে তাঁর পনেরো বছরের কাজের স্বীকৃতির পাশাপাশি তার শৈল্পিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে রোলেক্স এই অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেয়।
মিস করবেন না: জন্মদিনের মাসে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের সেরা লুকগুলো দেখুন
আলিয়া ভাট: গুচি
২০২৩ সালের মে মাসে, ইতালীয় ফ্যাশন হাউস গুচি আলিয়া ভাটকে তাদের প্রথম ভারতীয় গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঘোষণা করে। সিউলে গুচির 'ক্রুজ ২০২৪' রানওয়ে শোয়ের সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেন।
তরুণ ও বৈশ্বিক মানসিকতার গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে গুচি আলিয়া ভাটকে বেছে নিয়েছে। এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ইভেন্টে ব্র্যান্ডটির প্রতিনিধিত্ব করছেন, বৈশ্বিক বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছেন এবং মিলান ফ্যাশন উইকে যোগ দিয়েছেন। আলিয়ার উপস্থিতি বলিউড ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুচির স্থায়ী অবস্থান তৈরির কৌশলকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
দীপিকা পাডুকোন: লুই ভুইতোঁ এবং কার্টিয়ে
দীপিকা পাডুকোন দুটি বড় বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন: ফ্রেঞ্চ ট্রাঙ্ক নির্মাতা লুই ভুইতোঁ (Louis Vuitton) এবং গয়না নির্মাতা কার্টিয়ে। ২০২২ সালের মে মাসে, লুই ভুইতোঁ তাকে প্রথম ভারতীয় গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মনোনীত করে। এর আগে ২০২০ সালে তিনি ব্র্যান্ডটির জন্য প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন, তবে এই আনুষ্ঠানিক নিয়োগ তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে আরও সুসংহত করে।
লুই ভুইতোঁর দায়িত্ব পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই, ২০২২ সালের অক্টোবরে কার্টিয়ে দীপিকাকে তাদের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঘোষণা করে। তিনি গয়নার লঞ্চ, আন্তর্জাতিক রেড-কার্পেট ইভেন্ট ও গালা প্রেজেন্টেশনে ব্র্যান্ডটির প্রতিনিধিত্ব করেন। বলিউড তারকাদের এই দ্বৈত সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে, বিলাসবহুল কোম্পানিগুলো কীভাবে বৈশ্বিক বিপণন কৌশলে বলিউডের তারকাদের কাজে লাগাচ্ছে।
অনন্যা পান্ডে: শ্যানেল
অনন্যা পান্ডে ফ্রেঞ্চ বিলাসবহুল হাউস শ্যানেলের প্রথম ভারতীয় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। এটি শ্যানেলের জন্য একটি বড় পরিবর্তন, কারণ এই ব্র্যান্ডটি সাধারণত তাদের গ্লোবাল প্রতিনিধি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত রক্ষণশীল।
প্যারিস ফ্যাশন উইকে অনন্যা পান্ডের উপস্থিতি এবং রানওয়ে শোয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শ্যানেলের সঙ্গে তার সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। আধুনিক যুব সংস্কৃতি এবং ক্রেতাদের রুচির সঙ্গে অনন্যা পান্ডের মিল থাকায় ব্র্যান্ডটি তাকে বেছে নিয়েছে। শ্যানেলের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান বিলাসবহুল বাজারে জেন-জি (Gen Z) গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে।
সোনম কাপুর: ডিওর
সোনম কাপুর ডিওর (Dior)-এর দক্ষিণ এশীয় গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মারিয়া গ্রাজিয়া চিউরির ডিজাইন করা সংগ্রহগুলোকে উপস্থাপন করেন। বলিউড ফ্যাশন আইকন হিসেবে পরিচিত সোনম কাপুর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক কুচুর শো ও রেড-কার্পেটে সরব উপস্থিতি বজায় রেখেছেন।
ডিওরের সঙ্গে তার অংশীদারিত্ব ব্র্যান্ডটির ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যার অন্যতম উদাহরণ হলো মুম্বাইয়ের গেটওয়ে অব ইন্ডিয়ার সামনে আয়োজিত ফরাসি এই ব্র্যান্ডের শো। সোনম আন্তর্জাতিক রানওয়ে উপস্থাপন, নতুন সংগ্রহের প্রচার এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় ব্র্যান্ড ইভেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। এই সহযোগিতা ভারতের বাজারে ডিওরের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে আরও জোরদার করে।
ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন: লঞ্জিন
ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের লঞ্জিনের সঙ্গে চুক্তিটি বিলাসবহুল খাতের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যিক সম্পর্ক। ১৯৯৯ সালে সুইস ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লঞ্জিন তাকে তাদের 'অ্যাম্বাসেডর অব এলিজেন্স' হিসেবে মনোনীত করে, যা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে।
সাম্প্রতিক স্বল্পমেয়াদী চুক্তির ধারার বিপরীতে, লঞ্জিনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ক এক অনন্য উদাহরণ। তিনি লঞ্জিনের সিগনেচার সংগ্রহের একাধিক গ্লোবাল ক্যাম্পেইনে কাজ করেছেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বুটিক উদ্বোধন করেছেন এবং কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিয়মিত লঞ্জিনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিশ্ববাজারে ভারতীয় সিনেমা তারকাদের স্থায়িত্ব ও বাণিজ্যিক নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণে তার এই অবদান অনস্বীকার্য।
Topics




