From a multi-million-euro Spanish property trust to a newly acquired football club in Catalonia, Lionel Messi’s financial playbooks extend far beyond standard athlete endorsement deals  (Photo: themessistore/Instagram)
Cover স্পেনের রিয়েল এস্টেট থেকে শুরু করে লিওনেল মেসি-র মালিকানাধীন ফুটবল ক্লাব—মাঠের বাইরে লিওনেল মেসি-র আর্থিক সাফল্য অকল্পনীয় (ছবি: দ্য মেসি স্টোর/ইনস্টাগ্রাম)
From a multi-million-euro Spanish property trust to a newly acquired football club in Catalonia, Lionel Messi’s financial playbooks extend far beyond standard athlete endorsement deals  (Photo: themessistore/Instagram)

সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাব, আমরা লিওনেল মেসি-র বর্তমান বাণিজ্যিক বিনিয়োগের খতিয়ান তুলে ধরলাম

অধিকাংশ ক্রীড়াবিদের কাছে অবসর-পরবর্তী সম্পদ রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য থাকে। তবে লিওনেল মেসি-র কৌশল কিছুটা ভিন্ন। ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার পাশাপাশি, এই আর্জেন্টাইন তারকা ক্রমাগত তার ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে চলেছেন, যা আতিথেয়তা, রিয়েল এস্টেট, খেলাধুলা, মিডিয়া এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য জুড়ে বিস্তৃত।

অন্যান্য তারকাদের মতো লিওনেল মেসি শুধুমাত্র একাধিক ভিন্নধর্মী ব্যবসায় নাম জড়াননি; বরং তার বিনিয়োগগুলো মূলত লাইফস্টাইল, বিনোদন এবং খেলাধুলা কেন্দ্রিক। হোটেল থেকে রিয়েল এস্টেট, ফুটবল ক্লাবের মালিকানা থেকে স্পোর্টস টেকনোলজি—মেসি-র এই বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ তার পেশাদার খেলোয়াড় পরিচয়ের বাইরেও এক শক্তিশালী ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিওনেল মেসি-র অনেক প্রকল্প নতুন মাত্রা পেয়েছে। তার হোটেল পোর্টফোলিও ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে একটি সুসংগঠিত আতিথেয়তা ব্যবসায় রূপ নিয়েছে, এবং ফুটবল ক্লাবের মালিকানায় তার সম্পৃক্ততা এখন অংশীদারিত্ব থেকে সরাসরি ক্লাবের মালিকানা অর্জনে উন্নীত হয়েছে। পানীয়, পোশাক এবং মিডিয়া খাতে নতুন নতুন উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, তিনি ফুটবল ক্যারিয়ারের বাইরেও স্বতন্ত্রভাবে ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনায় এগিয়ে আছেন।

এখানে লিওনেল মেসি-র প্রধান বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক উদ্যোগগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো।

আরও পড়ুন: সন হিউং-মিনের নেট ওয়ার্থ: দক্ষিণ কোরীয় এই ফুটবল তারকা এখন কত আয় করেন

মিম (MiM) হোটেলস: লিওনেল মেসি-র আতিথেয়তা শিল্প

লিওনেল মেসি-র অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক আগ্রহ হলো মিম (MiM) হোটেলস, যা স্পেন এবং অ্যান্ডোরা জুড়ে বিস্তৃত একটি বিলাসবহুল আতিথেয়তা ব্র্যান্ড। এই পোর্টফোলিওতে সিটজেস, ইবিজা, মালোর্কা, বাকুইরা, সোটোগ্রান্ডে এবং অ্যান্ডোরাতে ছয়টি হোটেল রয়েছে।

এই গ্রুপটির পরিচালনার দায়িত্ব মেলিআ হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল-এর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে, যার ফলে হোটেলগুলো 'দ্য মেলিআ কালেকশন' ব্র্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই পোর্টফোলিওকে মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এবং পারিবারিক রিসোর্ট হিসেবে ভাগ করা হয়েছে।

সবগুলো মিম (MiM) হোটেল এলইইডি (LEED) সার্টিফাইড, যা তাদের টেকসই উন্নয়নের প্রতি বিশেষ মনোযোগ নির্দেশ করে। হোটেলগুলোতে মেসি-র ব্যালন ডি'অর ট্রফির প্রতিলিপি সহ অনেক স্মরণীয় জিনিস সাজানো থাকে। এছাড়া বাকুইরা, অ্যান্ডোরা এবং সোটোগ্রান্ডে-তে অবস্থিত হোটেলগুলোতে মিসেলিন-তারকা খ্যাত শেফ নান্দু জুবানির সাথে তৈরি হিন্তচা (Hincha) রেস্তোরাঁ রয়েছে, যা লিওনেল মেসি-র রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের এক উল্লেখযোগ্য অংশ।

রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগে লিওনেল মেসি

সম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেট লিওনেল মেসি-র বিনিয়োগ কৌশলের একটি মূল ভিত্তি। তার রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট, এডিফিসিও রোস্টোয়ার সোসিমি-এর মাধ্যমে তিনি ২২৩ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির মালিক।

তার সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ভিয়া ওয়াগনার গ্যালারি, যা ১১.৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কেনা হয়েছে। ৪,০০০ বর্গমিটারের এই পরিত্যক্ত শপিং কমপ্লেক্সটি সংস্কারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক অফিস হিসেবে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার পারিবারিক বিনিয়োগ সংস্থা লিমেকু এস্পানা ২০১০-এর মাধ্যমে তিনি স্পেন, অ্যান্ডোরা, প্যারিস এবং লন্ডনে আরও অনেক সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করেন।

মিস করবেন না: জুড বেলিংহাম-এর নেট ওয়ার্থ কত? এই মিডফিল্ডারের বহুমুখী বিনিয়োগের অন্দরমহল

ইন্টার মিয়ামি সিএফ-এ লিওনেল মেসি-র অংশীদারিত্ব

২০২৩ সালে লিওনেল মেসি যখন ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেন, তখন তার চুক্তির বাণিজ্যিক কাঠামো সবার নজর কেড়েছিল। বছরে ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই চুক্তিতে অ্যাপল, অ্যাডিডাস এবং ফ্যানাটিক্সের মতো লিগ অংশীদারদের সাথে বিশেষ রাজস্ব-অংশীদারিত্ব বা রেভিনিউ-শেয়ারিং চুক্তি রয়েছে।

এই ব্যবস্থার অধীনে, লিওনেল মেসি অ্যাপল টিভি-তে এমএলএস সিজন পাস সাবস্ক্রিপশন এবং মার্চেন্ডাইজ বিক্রির লভ্যাংশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পান। অবসরের পর তার ক্লাবের একাংশ মালিকানা কেনার সুযোগও রয়েছে তার চুক্তিতে। ডেভিড বেকহ্যামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মেসি এখন এই লিগের দীর্ঘমেয়াদী মূল্যায়নের সাথে যুক্ত একজন কর্পোরেট অংশীদার।

ইউই কর্নেলা (UE Cornellà) মালিকানা

২০২৬ সালের এপ্রিলে লিওনেল মেসি স্প্যানিশ ক্লাব ইউই কর্নেলা অধিগ্রহণের মাধ্যমে ফুটবল অপারেশনে তার সম্পৃক্ততা বাড়ান। বার্সেলোনার উপকণ্ঠে অবস্থিত এই ক্লাবটি বর্তমানে স্প্যানিশ ফুটবলের পঞ্চম স্তরে খেলছে। লিওনেল মেসি ক্লাবের ১০০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়ে পূর্ণ মালিকানা অর্জন করেছেন, যা সক্রিয় খেলোয়াড় থাকাকালীন তার প্রথম স্বতন্ত্র ক্লাব অধিগ্রহণ। এই ক্লাবটি তার যুব একাডেমির জন্য পরিচিত, যা জর্ডি আলবা এবং ডেভিড রায়া-র মতো আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় তৈরি করেছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে মেসি তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়ের কর্মস্থল অঞ্চলের সাথে একটি বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করলেন।

৫২৫ রোজারিও (525 Rosario)

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লিওনেল মেসি '৫২৫ রোজারিও' নামে একটি মিডিয়া ও বিনোদন প্রযোজনা সংস্থা চালু করেন। এটি স্মাগলার এন্টারটেইনমেন্টের সাথে একটি যৌথ উদ্যোগ। কোম্পানিটি টেলিভিশন প্রজেক্ট, চলচ্চিত্র, সরাসরি সম্প্রচারিত ক্রীড়া ইভেন্ট এবং অ্যাথলেট-কেন্দ্রিক বাণিজ্যিক বিষয়বস্তু তৈরি করে।

এই নামের মাধ্যমে লিওনেল মেসি তার শৈশবের ঠিকানার সাথে নিজের আর্জেন্টাইন শিকড়কে জুড়ে দিয়েছেন। মিয়ামি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে সদর দপ্তর অবস্থিত এই সংস্থাটি মেসি পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। বিনোদন জগতে লিওনেল মেসি-র এটিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

প্লে টাইম স্পোর্টস-টেক হোল্ডকো

২০২২ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠিত 'প্লে টাইম স্পোর্টস-টেক হোল্ডকো' হলো লিওনেল মেসি-র প্রধান ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং প্রযুক্তি ইনকিউবেশন প্ল্যাটফর্ম। সান ফ্রান্সিসকো ভিত্তিক এই সংস্থাটি খেলাধুলা, মিডিয়া এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের প্রযুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগ করে।

প্রতিষ্ঠানটি গ্রাফ ভেঞ্চারসের অংশীদার রাজমিগ হোভাগিমিয়ান এবং মাইকেল মার্কেজের পরামর্শে পরিচালিত হয়। এই প্ল্যাটফর্মটি শুরু থেকেই ম্যাচডে গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং এসি মোমেন্টো-র মতো ফ্যান এনগেজমেন্ট উদ্যোগে বিনিয়োগ করেছে। এখন তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং স্পেশিয়াল কম্পিউটিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগ করছে, যা লিওনেল মেসি-র কর্পোরেট হোল্ডিংয়ের সবচেয়ে প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক অংশ।

দ্য মেসি স্টোর (The Messi Store)

দ্য মেসি স্টোর হলো ফুটবলার লিওনেল মেসি-র অফিসিয়াল লাইফস্টাইল ও প্রিমিয়াম পোশাক ব্র্যান্ড। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে চালু হওয়া এই অনলাইন রিটেইল প্ল্যাটফর্মে তার ব্র্যান্ডের ক্যাজুয়ালওয়্যার ও স্পোর্টসওয়্যার বিক্রি হয়।

প্রাথমিকভাবে এমজিও গ্লোবাল-এর সাথে লাইসেন্সিং চুক্তিতে এটি পরিচালিত হলেও, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পরিচালনার দায়িত্ব সেন্ট্রিক ব্র্যান্ডস-কে হস্তান্তর করা হয়। এই নতুন চুক্তির ফলে লিও মেসি ম্যানেজমেন্ট সরাসরি খুচরা বাজারে অংশ নিতে পারছে এবং বিক্রয়ের ওপর ১২ শতাংশ রয়্যালটি অর্জন করছে, যা লিওনেল মেসি-র বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

খাদ্য ও পানীয় শিল্পে লিওনেল মেসি-র বিনিয়োগ

আতিথেয়তার পাশাপাশি, লিওনেল মেসি গ্যাস্ট্রোনমি এবং ওয়াইন সেক্টরেও বিনিয়োগ করেছেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি 'এল ক্লাব দে লা মিলানেসা' নামের একটি আর্জেন্টাইন রেস্তোরাঁ চেইনের কৌশলগত অংশীদার হন। এটি আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কাজ করছে এবং ইউরোপে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এছাড়াও তিনি লিওনেল মেসি ফাউন্ডেশনের জন্য বদেগাস বিয়াঞ্চি-র সহযোগিতায় এল১০ (L10) ওয়াইন পোর্টফোলিও তৈরি করেছেন। পরবর্তীকালে সুইস ওয়াইনারি শ্যাতো কনস্টেলেশনের সাথে যৌথভাবে 'লিওনেল মেসি কালেকশন' নামে একটি প্রিমিয়াম ওয়াইন লাইনও চালু করেছেন।

ফুটবল ক্যারিয়ারের বাইরে লিওনেল মেসি আজ অনেকগুলো শিল্প খাতে ছড়িয়ে পড়েছেন। রিয়েল এস্টেট এবং হোটেল শিল্প তার বিনিয়োগের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে থাকলেও, ফুটবল ক্লাব মালিকানা, মিডিয়া এবং প্রযুক্তি শিল্পে তার ক্রমবর্ধমান আগ্রহ প্রমাণ করে যে, মাঠের বাইরেও লিওনেল মেসি এক দূরদর্শী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

Topics