Li Ka-shing visits a minority primary school. Notably, on Father's Day, Li  has characterised his charitable foundation as his "third son."
Li Ka-shing visits a minority primary school. Notably, on Father's Day, Li  has characterised his charitable foundation as his "third son."

এই ফাদার্স ডে-তে, এশিয়ার প্রভাবশালী কর্পোরেট নেতাদের দিকে নজর দেওয়া যাক, যারা তাদের সন্তানদের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

এশিয়ার বৃহত্তম অনেক পারিবারিক কনগ্লোমারেটের ক্ষেত্রে, উত্তরাধিকার নির্বাচন করার বিষয়টি কোনো হেডহান্টার বা বাইরের নিয়োগের ওপর নির্ভর করে না। বরং, এটি পরিবারের ভেতরেই দীর্ঘ ও সুপরিকল্পিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এই সব কর্মকর্তাদের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মকে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া পারিবারিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সন্তানরা অনেক ছোটবেলা থেকেই তাদের বাবার কাছ থেকে সরাসরি ব্যবসার খুঁটিনাটি শিখে বড় হয়। ফাদার্স ডে-র এই বিশেষ মুহূর্তে তাদের অবদানগুলো স্মরণযোগ্য।

নিচে উল্লিখিত ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই তাদের প্রতিষ্ঠিত বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কোম্পানিগুলোতে সন্তানদের পেশাগত দক্ষতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ভারত, হংকং, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ানে এই প্রথা আজও বিদ্যমান, যেখানে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবসার হাল শক্ত হাতে ধরে রেখেছে। ফাদার্স ডে উপলক্ষে তাদের এই ব্যবসায়িক দর্শন ও পিতৃত্বের বন্ধন অনুপ্রেরণামূলক।

মুকেশ আম্বানি—রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ভারত

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৯১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি তার তিন সন্তানকে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করেছেন। আকাশ আম্বানি টেলিকম শাখা রিলায়েন্স জিও ইনফোকম-এর চেয়ারম্যান; কন্যা ইশা আম্বানি রিলায়েন্স রিটেইল-এর নেতৃত্বে আছেন; এবং কনিষ্ঠ পুত্র অনন্ত আম্বানি নতুন শক্তি ও মেটেরিয়াল ডিভিশন দেখভাল করছেন। ২০২৩ সালের আগস্টে আম্বানি এই তিনজনকে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বোর্ডে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। ফাদার্স ডে-তে এই সাফল্য তাদের পেশাগত প্রস্তুতির এক নতুন মাইলফলক।

এই ব্যবস্থাপনা পূর্ববর্তী প্রজন্মের চেয়ে আলাদা। প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বানি ২০০২ সালে কোনো উইল ছাড়াই মারা যাওয়ার পর, একটি বড় বিরোধের জেরে ব্যবসা মুকেশ ও তার ভাই অনিলের মধ্যে ভাগ হয়ে গিয়েছিল।

ফাদার্স ডে-র কথা: আম্বানি নিজের পিতৃত্বের দর্শনকে তার বাবার ব্যবসার প্রতি অনুরাগের সাথে মিলিয়ে দেখেন। তিনি বলেছেন, “আমার বাবার কাছ থেকেই আমি ব্যবসার প্রতি আগ্রহ পেয়েছি।” নিজের সন্তানদের বড় করার ক্ষেত্রে তিনি কর্পোরেট দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “পড়াশোনার বাইরেও সন্তানদের সাথে সময় কাটানো খুব জরুরি।” এই ফাদার্স ডে-তে তার এই পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব ফুটে ওঠে।

আরও পড়ুন: আম্বানি পরিবার কারা? দশকের অন্যতম বড় বিয়ের আয়োজনের পেছনের পরিবারটি

লি কা-শিং—সিকে হাচিসন হোল্ডিংস এবং সিকে অ্যাসেট হোল্ডিংস, হংকং

হংকংয়ের বিনিয়োগের জাদুকর হিসেবে পরিচিত বিলিওনেয়ার ব্যবসায়ী লি কা-শিং তার বড় ছেলে ভিক্টর লি-কে অনেক আগে থেকেই ব্যবসার সাথে যুক্ত করেছিলেন। ২০১৮ সালের মে মাসে ৮৯ বছর বয়সে অবসরে যাওয়ার আগে ভিক্টর দীর্ঘ সময় তার সাথে কাজ করেন। ছোট ছেলে রিচার্ড লির জন্য তিনি আলাদা ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করে দেন, যা পরবর্তীকালে পিসিসিডব্লিউ (PCCW) ও এফডব্লিউডি (FWD)-তে পরিণত হয়। ফাদার্স ডে-র এই দিনে সফল বাবার যোগ্য উত্তরসূরি তৈরির এই গল্প অনন্য।

ফাদার্স ডে-র কথা: লি নিজের যৌবনের কষ্টসাধ্য দিনগুলো স্মরণ করেন, যখন তার বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব নিতে তাকে পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, তার আসল উত্তরাধিকার সামাজিক দায়িত্ববোধের মধ্যে নিহিত। তিনি বলেছিলেন, “আমি আমার সন্তানদের সব দিয়ে গেলেও তাতে তাদের জীবনে বিশেষ পরিবর্তন আসবে না। বরং তৃতীয় সন্তান (লি কা শিং ফাউন্ডেশন)-এর মাধ্যমে অনেক মানুষ উপকৃত হবে।” এই ফাদার্স ডে-তে তার এই মানবতাবোধ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

আরও পড়ুন: সুপারম্যানের অবসর: হংকংয়ের টাইকুন লি কা-শিং সম্পর্কে ৫টি অজানা তথ্য

রবার্ট কোক—কোক গ্রুপ, মালয়েশিয়া এবং হংকং

ফোর্বসের তথ্যমতে ১৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদের অধিকারী মালয়েশীয় টাইকুন রবার্ট কোক ১৯৪৯ সালে কোক গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার সন্তানদের ব্যবসার শীর্ষস্থানে বসিয়েছেন। বড় ছেলে বিউ কোক বর্তমানে কোক গ্রুপের চেয়ারম্যান, আর কনিষ্ঠ পুত্র কোক খুন হুয়া কেরি প্রপার্টিজের দায়িত্বে আছেন। তার এই দূরদর্শী পরিকল্পনা ফাদার্স ডে-র প্রেক্ষাপটে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবসার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

ফাদার্স ডে-র কথা: রবার্ট কোক মনে করেন নৈতিক শিক্ষাই ব্যবসার মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, “আমার মা শিখিয়েছিলেন নৈতিকতার পথে ব্যবসা করতে, বস্তুবাদের পূজা না করতে।” তিনি বিশ্বাস করেন, বংশধররা যদি এই মূল্যবোধ ধরে রাখতে পারে, তবে পরিবারটি আরও তিন-চার প্রজন্ম সফলভাবে টিকে থাকবে। ফাদার্স ডে উপলক্ষে এমন মূল্যবোধের শিক্ষা আজকের দিনেও প্রাসঙ্গিক।

আরও পড়ুন: তান শ্রী রবার্ট কোক তার ১০০তম জন্মদিন উদযাপন করলেন

ধনিন চিয়ারাওনন্ত—চারোয়েন পোকফান্ড গ্রুপ, থাইল্যান্ড

ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিওনেয়ার ট্র্যাকার অনুযায়ী ধনিন চিয়ারাওনন্ত ১৭.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক। তিনি তার ছেলেদের বিভিন্ন সেক্টরে দায়িত্ব দিয়ে গড়ে তুলেছেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ধনিন সিনিয়র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং তার ছেলেরা গ্রুপের বিভিন্ন বিভাগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ফাদার্স ডে উপলক্ষে এমন পরিকল্পিত ব্যবসায়িক উত্তরণ এশিয়ার অনেক বড় পরিবারের জন্যই এক আদর্শ দৃষ্টান্ত।

ফাদার্স ডে-র কথা: ধনিন উত্তরাধিকারের বিষয়টি ব্যবসায়িক অভিযোজন হিসেবে দেখেন। তিনি বলেছেন, “যদি আমরা পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে না চলি, তবে আমরা পিছিয়ে পড়ব। এগিয়ে থাকার সেরা উপায় হলো তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে শেখা।” এই ফাদার্স ডে-তে তার এই আধুনিক চিন্তাভাবনা ব্যবসায়িক নেতৃত্বকে নতুন মাত্রা দেয়।

আরও পড়ুন: বিশ্ব পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ৫ জন থাই ফিলানথ্রপিস্ট