জেন.টি সম্মাননাপ্রাপ্ত রাওদা নাজরানের কাছে মাতৃত্ব কেবল একটি ব্যক্তিগত মাইলফলকই নয়, বরং এটি তাঁর কাজের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে। সামাজিক উদ্যোক্তা রাওদা নাজরান তাঁর নতুন ফাউন্ডেশন “বায়েত আমাল নূর” নিয়ে ফিরে এসেছেন, যা বিশ্বাস ও স্থিতিস্থাপকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
জনজীবন থেকে দুই বছরের বিরতির পর, সামাজিক উদ্যোক্তা রাওদা নাজরান একটি নতুন উদ্যোগ নিয়ে ফিরে এসেছেন। তাঁর এই নতুন যাত্রা পেশাদার উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর অনুভূতির প্রতিফলন। তরুণদের উদ্যোক্তা দক্ষতা অর্জনে সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠান “এক্সিলারেট গ্লোবাল”-এর সিইও এবং প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুপরিচিত রাওদা নাজরান এখন তাঁর মাতৃত্বের আলোকে সামাজিক প্রভাব তৈরির নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন।
“বায়েত আমাল নূর” হলো এক্সিলারেট গ্লোবালের একটি সাব-ভেঞ্চার। এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হলো নারী, মা এবং সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের জন্য একটি নিরাপদ স্থান তৈরি করা, যেখানে তারা স্থিতিস্থাপকতা ও আত্মনির্ভরশীলতার শিক্ষা পায়। রাওদা নাজরান এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: সামাজিক উদ্যোক্তা রাওদা নাজরানের এক দিন
“বায়েত আমাল নূর” চালুর আগেই, ২৯ বছর বয়সী রাওদা নাজরান মালয়েশিয়ার অন্যতম শীর্ষ তরুণ সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর আগের উদ্যোগের মাধ্যমে ১০,০০০-এর বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছে।

Above “ব্লিটজ” কর্মসূচিতে মায়েদের সাথে সামাজিক উদ্যোক্তা রাওদা নাজরান
সাফল্যের আড়ালে রাওদা নাজরানকে অনেক ব্যক্তিগত লড়াই লড়তে হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এ তিনি প্রথম কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তাঁর এই মাতৃত্বের যাত্রাটি সহজ ছিল না; চিকিৎসাগত জটিলতার কারণে গর্ভাবস্থার সময় তিনি মারাত্মক অপুষ্টি ও রক্তচাপের সংকটে ভুগেছিলেন। রাওদা নাজরান তাঁর এই কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে জানান, কীভাবে এই সংগ্রাম তাঁকে সৃষ্টিকর্তার আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
আরও দেখুন: চকোলাহ কীভাবে সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জীবন বদলাচ্ছে
সন্তানের নামানুসারে তাঁর এই ফাউন্ডেশনের নাম রাখা হয়েছে “বায়েত আমাল নূর”। “আমাল” অর্থ আশা ও “নূর” অর্থ আলো; তাই এই ফাউন্ডেশনটি যেন এক “আশা ও আলোর নীড়”। মাতৃত্ব রাওদা নাজরানকে নেতৃত্ব ও সেবার এক নতুন অর্থ শিখিয়েছে।

Above বায়েত আমাল নূর সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বনির্ভর কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছে
কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও রাওদা নাজরান থেমে থাকেননি। সন্তানের জন্মের সেই মুহূর্ত তাঁকে নতুন শক্তির জোগান দেয়। “বায়েত আমাল নূর”-এর প্রথম ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ “ব্লিটজ” ল্যাংকাউইতে চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে মায়েদের খাদ্য উৎপাদন ও উদ্যোক্তা হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মিস করবেন না: জেন.টি-এর ১০ বছর ও সফলতার নতুন সংজ্ঞা
“ব্লিটজ”-এর মূলমন্ত্র হলো “Snacks that Heal”। তারা প্রাকৃতিক ও সুষম উপাদানে তৈরি হেলদি কুকিজ উৎপাদন করছে, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যও নিরাপদ। রাওদা নাজরান এই পণ্যগুলোকে কেবল দাতব্য সামগ্রী হিসেবে না দেখে প্রিমিয়াম পণ্য হিসেবে বাজারে তুলে ধরছেন।

Above ব্লিটজের অধীনে প্রিমিয়াম হেলদি স্ন্যাকস বা কুকিজ তৈরি করা হচ্ছে

Above ব্লিটজ বাজারের স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসের ঘাটতি মেটাতে কাজ করছে
প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন মাকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। রাওদা নাজরান বিশ্বাস করেন, “এই পণ্য কেনার মাধ্যমে আপনি কেবল কুকিজ কিনছেন না, বরং নারীদের আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছেন।” তাঁর এই উদ্যোগ নারীদের কেবল সাহায্য নয়, বরং স্বাবলম্বী নেতা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
সামাজিক উদ্যোক্তা রাওদা নাজরানের লক্ষ্য হলো এমন একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়া, যা নারীদের দীর্ঘমেয়াদী স্বনির্ভরতা প্রদান করবে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি ভবিষ্যতে আরও অনেক সুবিধাবঞ্চিত নারীর জীবনে পরিবর্তনের হাওয়া নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Credits
Images: এক্সিলারেট গ্লোবাল




