লিয়া সালোনগা হলিউড ওয়াক অফ ফেম-এ তারার সম্মান পেলেন, যোগ দিলেন অ্যানা মে ওং থেকে ব্রুস লি-র মতো সেই এশীয় তারকাদের তালিকায়, যারা নিজেদের কর্মজীবনের মাধ্যমে অর্জন করেছেন এই গৌরব।
লিয়া সালোনগা এখন হলিউড ওয়াক অফ ফেম-এ একটি তারার অধিকারী। এটি এমন একটি স্বীকৃতি যা ম্যানিলা থেকে ব্রডওয়ে, ওয়েস্ট এন্ড এবং ডিজনির অ্যানিমেশন স্টুডিও পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর এক উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের প্রতিচ্ছবি। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সালে ২,৮৫৫তম তারকা হিসেবে ভূষিত এই ফিলিপিনো গায়িকা ও অভিনেত্রী ১৯৬০ সালে এই ল্যান্ডমার্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিপাইনে জন্মগ্রহণকারী ও বেড়ে ওঠা প্রথম শিল্পী যিনি এই সম্মান পেলেন।
তার এই অর্জনের মাধ্যমে, সালোনগা এশীয় শিল্পীদের সেই ক্রমবর্ধমান তালিকায় যুক্ত হলেন, যারা হলিউডের ধারণাকে প্রসারিত করেছেন। কয়েক দশক আগে পথপ্রদর্শক হিসেবে উঠে আসা সিনেমা ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের তারকা, যারা বিশ্বমঞ্চে এশীয় প্রতিভাকে তুলে ধরছেন—এই শিল্পীরাই সেই পথ তৈরি করেছেন। লিয়া সালোনগা আজ বিশ্বের কাছে এক অনুপ্রেরণা।
মিস করে থাকলে দেখুন: মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ৯টি বিটিএস গান, যা আপনাকে একা বোধ হতে দেয় না
1. অ্যানা মে ওং: নির্বাক যুগের প্রথম চাইনিজ-আমেরিকান তারকা (১৯৬০)
অ্যানা মে ওং ছিলেন ১৯৬০ সালের হলিউড ওয়াক অফ ফেম-এর আদি সম্মানিত ব্যক্তিদের একজন এবং হলিউডের প্রথম চাইনিজ-আমেরিকান চলচ্চিত্র তারকা। বর্ণবাদী বাধার মুখেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। তাঁর এই অদম্য জেদ লিয়া সালোনগার মতো উত্তরসূরিদের জন্য হলিউডে পথ সুগম করেছিল।
2. সেসু হায়াকাওয়া: সেই অভিনেতা যিনি লিডিং ম্যান-এর সংজ্ঞা বদলে দিয়েছিলেন (১৯৬০)
১৯৬০ সালে সম্মানিত সেসু হায়াকাওয়া ছিলেন নির্বাক যুগের হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের একজন। ১৯৫৭ সালে “দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কোয়াই” সিনেমার জন্য তিনি অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। লিয়া সালোনগা-এর মতোই তিনিও অভিনয়ের জগতে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছিলেন।
3. জর্জ তাকেই: টেলিভিশনের প্রথম অ-স্টেরিওটাইপিক্যাল এশীয় পেশাদার (১৯৮৬)
টেলিভিশন বিভাগে সম্মানিত জর্জ তাকেই “স্টার ট্রেক”-এ লেফটেন্যান্ট হিকারু সুলুর চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। লিয়া সালোনগা-এর মতো তিনিও প্রথাগত এশীয় ধারণাকে ভেঙে টেলিভিশনে এক মার্জিত ও দক্ষ চরিত্রের রূপকার ছিলেন।
4. ব্রুস লি: আইকন যিনি পর্দায় এশীয় পুরুষত্বের সংজ্ঞা নতুন করে লিখেছিলেন (১৯৯৩)
১৯৯৩ সালে ব্রুস লি মরণোত্তর তারকা সম্মান পান। “এন্টার দ্য ড্রাগন”-এর মতো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি পশ্চিমা গণমাধ্যমে এশীয় পুরুষদের সম্পর্কে থাকা সংকীর্ণ ধারণা বদলে দিয়েছিলেন। লিয়া সালোনগা-এর অনুপ্রেরণায় ব্রুস লি-র অবদান আজও অমর।
মিস করবেন না: নিকোল কিডম্যানের সেরা টিভি শো, যা ২০২৬ সালে স্ট্রিমিং হচ্ছে
5. জ্যাকি চ্যান: তারকা যিনি হংকং অ্যাকশন সিনেমাকে বিশ্বজনীন করেছিলেন (২০০২)
২০০২ সালে জ্যাকি চ্যানের এই সম্মান তাঁর অসাধারণ অ্যাক্রোবেটিক স্টান্ট এবং মার্শাল আর্ট কোরিওগ্রাফির স্বীকৃতি। “রাশ আওয়ার” ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে তিনি লিয়া সালোনগা-এর মতোই হলিউড ও বিশ্বের দর্শকদের কাছে হংকংয়ের অ্যাকশন স্টাইল পৌঁছে দিয়েছিলেন।
6. লুসি লিউ: এশীয়-আমেরিকান নারীদের ৫৯ বছরের নীরবতা ভেঙেছিলেন (২০১৯)
লুসি লিউয়ের ২০১৯ সালের তারকাটি অ্যানা মে ওং-এর পাশে স্থাপন করা হয়েছিল, যা এশীয় অভিনেত্রীদের জন্য এক বিশাল মাইলফলক। লিয়া সালোনগা-এর মতো তিনিও হলিউডের মূলধারায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
7. জেমস হং: তৃণমূল প্রচার যা দীর্ঘদিনের অবহেলা সংশোধন করেছিল (২০২২)
৯৩ বছর বয়সে ড্যানিয়েল ডে কিমের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জেমস হং এই সম্মান পান। তাঁর সাত দশকের ক্যারিয়ারে লিয়া সালোনগা-এর মতো তিনিও প্রতিটি পদক্ষেপে শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছেন।
8. মিং-না ওয়েন: হলিউডের একাধিক যুগের মুখ ও কণ্ঠস্বর (২০২৩)
মিং-না ওয়েন অ্যানিমেশন ও ড্রামায় তার দুর্দান্ত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই তারকা পেয়েছেন। লিয়া সালোনগা যেমন迪士尼র মুলান-এর কণ্ঠ ছিলেন, তিনিও ছিলেন এক উজ্জ্বল তারকা।
9. মিশেল ইয়ো: প্রথম এশীয় অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জয়ী (২০২৬)
২০২৩ সালে অস্কার জয় করে মিশেল ইয়ো ইতিহাস গড়েন। লিয়া সালোনগা-এর মতো তিনিও বিশ্বজুড়ে এশীয় নারীদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
10. লিয়া সালোনগা: ব্রডওয়ে রয়্যালটি এবং প্রথম ফিলিপাইনে জন্ম নেওয়া সম্মানিত শিল্পী (২০২৬)
লিয়া সালোনগা মিস সাইগন-এ কিম চরিত্রের মাধ্যমে টনি ও অলিভিয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন। তিনি প্রথম এশীয় অভিনেত্রী যিনি ব্রডওয়েতে লে মিজারেবলস-এ অভিনয় করেছেন। লিয়া সালোনগা আজ হলিউডের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এশীয় প্রতিভার এক উজ্জ্বল নাম।
আরও পড়ুন
বিটিএস জাংকুক লাইভ: ৮টি আইকনিক পারফরম্যান্স যা প্রমাণ করে তিনি কেন মঞ্চের রাজা




