ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ চলছে পুরোদমে। জানুন সেই সব আইকনিক ও সর্বাধিক বিক্রিত বিয়ারের কথা, যা সারা বিশ্বের ফুটবল সমর্থকরা এই উৎসবের দিনে উপভোগ করছেন।
কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ চলছে পুরোদমে। যেখানেই ফুটবল, সেখানেই বিয়ার—এই দুটির সম্পর্ক চিরকালের। উত্তেজনাপূর্ণ ভিএআর (VAR) রিভিউ দেখা হোক কিংবা শেষ মুহূর্তের জয় উদযাপন, এক গ্লাস ঠান্ডা বিয়ারই হলো ম্যাচ-ডে’র সেরা সঙ্গী।
৪৮টি দলের অংশগ্রহণ এবং এবারের আসরে আগের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ থাকায় বিশ্বজুড়ে ফুটবল দেখার আমেজ ও বিয়ারের চাহিদা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
প্রতিটি ফুটবল খেলুড়ে জাতিরই নিজস্ব পছন্দের বিয়ার থাকে। ঐতিহাসিক ইউরোপীয় পিলসনার থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের জনপ্রিয় লেগার, নিচে তুলে ধরা হলো বিভিন্ন দেশের সমর্থকরা খেলা দেখার সময় কী পান করছেন।
আরও পড়ুন: ফিফা বিশ্বকাপ ওয়াচলিস্ট: এই মুহূর্তে স্ট্রিম করার মতো ৭টি প্রয়োজনীয় ফুটবল সিনেমা ও ডকুমেন্টারি
আর্জেন্টিনা — কুইলমেস ক্লাসিক (Quilmes Clásica)
আর্জেন্টাইন দল মাঠে নামলে প্রতিটি সমর্থকের হাতে থাকে এই বোতল। কুইলমেস (Quilmes) যেন এক জাতীয় প্রতীক। ১৮৮৮ সালে বুয়েনস আইরেসের যে শহরে এটি তৈরি হয়েছিল, সেই নামেই এর পরিচিতি। এর নীল-সাদা লেবেলটি আর্জেন্টিনার পতাকার এক সচেতন প্রতিফলন।
স্বাদ প্রোফাইল: হালকা গোল্ডেন লেগার; শস্যের মিষ্টি ও ব্রেড-জাতীয় মল্টের স্বাদের সাথে সামান্য হপ তিক্ততা এবং এক রিফ্রেশিং ফিনিশ।
ব্রাজিল — ব্রহ্মা চপ (Brahma Chopp)

Above বর্তমান প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলের প্রাক্তন ফরোয়ার্ড রোনালদো নাজারিও। (ছবি: ব্রহ্মা)
ব্রহ্মা হলো ব্রাজিলিয়ান ক্রীড়া সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৮৮৮ সাল থেকে তৈরি এই বিয়ার ব্রাজিলের অন্যতম আইকনিক লেগার। সমুদ্র সৈকত, বোটিকুইম ও অন্তহীন ব্রাজিলিয়ান গ্রীষ্মের ছন্দে এই বিয়ার মিশে আছে। যারা একটু ঘন স্বাদযুক্ত গোল্ডেন লেগার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটিই সেরা পছন্দ।
স্বাদ প্রোফাইল: উজ্জ্বল সোনালি ও ক্রিস্প, অন্যান্যদের তুলনায় একটু ঘন; পরিষ্কার গ্রেইনি-মল্টের মিষ্টি স্বাদ, পরিমিত হপ তিক্ততা এবং গরমের জন্য উপযুক্ত ফিনিশ।
মেক্সিকো: করোনা এক্সট্রা (Corona Extra)

Above সৈকতে এক গ্লাস করোনা বিয়ার। (ছবি: গেটি ইমেজেস)
এক টুকরো লেবুর সাথে করোনা মানেই ছুটির মেজাজ। করোনা যেন কাঁচের বোতলে বন্দি এক টুকরো মেক্সিকো। ১৯২৫ সাল থেকে তৈরি এই বিয়ার এখন বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত মেক্সিকান বিয়ার। এর বোতলের মুখে লেবু গুঁজে পান করার অনন্য কায়দা অতুলনীয়।
স্বাদ প্রোফাইল: হালকা সোনালি রঙের, অত্যন্ত হালকা ও ক্রিস্প; সামান্য শস্যের মিষ্টি স্বাদ ও মৃদু হপের স্পর্শ। এটি ঠান্ডা অবস্থায় পান করাই সেরা।
আরও পড়ুন: আভিজাত্যের ছাপ: ৪৩টি এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা মালিকদের বিলাসবহুল টেকিলা ব্র্যান্ডের অন্দরমহল
স্পেন — মাহু সিনকো এস্ট্রেলাস (Mahou Cinco Estrellas)
মাদ্রিদের যেকোনো জায়গায় বিয়ার অর্ডার করলে আপনার সামনে এটিই আসবে। ১৮৯০ সাল থেকে রাজধানী শহরে উৎপাদিত এই বিয়ারটি স্পেনের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত লেগার। এটি কেবল একটি ব্র্যান্ড নয়, বরং একটি জাতীয় অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
স্বাদ প্রোফাইল: উজ্জ্বল সোনালি ও হালকা ঘন বডির বিয়ার; টোস্টেড মল্টের মিষ্টি স্বাদ, পরিমিত হপ তিক্ততা এবং এক তৃপ্তিদায়ক ফিনিশ।
ফ্রান্স — ক্রোনেনবার্গ ১৬৬৪ লেগার (Kronenbourg 1664 Larger)

Above বরফ-শীতল ক্রোনেনবার্গ ১৬৬৪ লেগার বিয়ার। (ছবি: গেটি ইমেজেস)
সপ্তদশ শতাব্দী থেকে চলে আসা এই বিয়ার ফ্রান্সের ঐতিহ্যের বাহক। স্ট্রাসবার্গের আলসাসে অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই বিয়ারটি সারা ফ্রান্সের মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে।
স্বাদ প্রোফাইল: পরিষ্কার হালকা সোনালি রঙ, মার্জিত ও ভারসাম্যপূর্ণ; ফুলের মতো হপের সুগন্ধ, মৃদু মল্টের মিষ্টি স্বাদ এবং হালকা তিক্ত ফিনিশ। এটি ভালোভাবে ঠান্ডা করে পান করা উচিত।
পর্তুগাল — সুপার বক অরিজিনাল (Super Bock Original)
পর্তুগালে ফুটবল এবং সুপার বক যেন একসূত্রে গাঁথা। ১৯২৭ সাল থেকে পর্তুগালের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত এই বিয়ারটি পোর্তোর কাছে জন্ম নিয়েছিল। এটি কেবল নিত্যদিনের পানীয় নয়, বরং লিগা পর্তুগালের অফিসিয়াল বিয়ারও।
স্বাদ প্রোফাইল: উজ্জ্বল সোনালি রঙের, স্মুদ ও মল্টের স্বাদযুক্ত; মৃদু হপ তিক্ততা এবং এক সতেজ ফিনিশ।
ইংল্যান্ড — কার্লিং ব্ল্যাক লেবেল (Carling Black Label)

Above এক পিন্ট কার্লিং ব্ল্যাক লেবেল বিয়ার। (ছবি: গেটি ইমেজেস)
ইংল্যান্ডের ফুটবলের সাথে এই বিয়ারটি গভীরভাবে মিশে আছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত এই লেগার প্রিমিয়ার লিগের প্রথম টাইটেল স্পনসর ছিল। আজও এটি এফএ কাপের অফিসিয়াল বিয়ার হিসেবে পরিচিত।
স্বাদ প্রোফাইল: খড়ের মতো সোনালি ও হালকা বডির বিয়ার; মল্টের মিষ্টি স্বাদ ও হপের হালকা ছোঁয়া। এটি পান করা অত্যন্ত সহজ ও তৃপ্তিদায়ক।
নেদারল্যান্ডস — হাইনেকেন অরিজিনাল (Heineken Original)

Above হাইনেকেনের স্বাক্ষরবাহী সবুজ বোতল। (ছবি: গেটি ইমেজেস)
আমস্টারডামের একটি সাধারণ কারখানা থেকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া এই বিয়ারটি নেদারল্যান্ডসের প্রতীক। লাল তারকা ও সবুজ বোতলের এই ব্র্যান্ডটি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ডাচ বিয়ার।
স্বাদ প্রোফাইল: স্বচ্ছ ও হালকা সোনালি রঙের; বিশেষ “এ-ইস্ট” (A-yeast) থেকে পাওয়া ফলের মৃদু ঘ্রাণ এবং পরিমিত হপ তিক্ততা। এটি বরফ-শীতল পান করলে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়।
বেলজিয়াম — জুপিলার (Jupiler)

Above এক পিন্ট ড্রাফট জুপিলার বিয়ার। (ছবি: গেটি ইমেজেস)
বেলজিয়াম অনেক বিয়ারের জন্য বিখ্যাত হলেও, সেখানকার সাধারণ মানুষ জুপিলার পিলসনারই বেশি পছন্দ করেন। ১৯৬৬ সাল থেকে তৈরি এই বিয়ারটি দেশটির শীর্ষ ফুটবল লিগের নামের সাথেও যুক্ত।
স্বাদ প্রোফাইল: উজ্জ্বল হালকা সোনালি রঙের, সতেজ স্বাদ; মল্টের কোমল ভিত্তি ও পরিষ্কার হপ তিক্ততা। এটি প্রতিদিন পান করার জন্য দারুণ একটি বিয়ার।
জার্মানি — ক্রুমবাখার পিলস (Krombacher Pils)
১৮০৩ সাল থেকে পশ্চিম জার্মানির পাহাড়ি অঞ্চলে তৈরি এই বিয়ারটি জার্মানির সবচেয়ে বেশি বিক্রিত পিলসনার। পাথুরে ঝরনার পানি দিয়ে তৈরি এই বিয়ারটি জার্মানির ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় অন্যতম সঙ্গী।
স্বাদ প্রোফাইল: হালকা সোনালি রঙের, পরিষ্কার ও শুষ্ক; ফুলের মতো হপের সুগন্ধ ও ক্রিস্প তিক্ততা। এটি জার্মান পিলসের সেই আসল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
যুক্তরাষ্ট্র — মিকেলোব আল্ট্রা (Michelob Ultra)
আমেরিকার নতুন প্রিয় বিয়ার এবং এই টুর্নামেন্টের অন্যতম পানীয়। কম ক্যালোরি ও কম কার্বোহাইড্রেটের কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক বিক্রিত বিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল স্পনসর হিসেবে এটি টুর্নামেন্টের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
স্বাদ প্রোফাইল: হালকা বডি ও অত্যন্ত পরিষ্কার; শস্যের মিষ্টি স্বাদের মৃদু আভাস ও খুবই সামান্য তিক্ততা। মূলত সতেজতা পাওয়ার জন্য এটি ডিজাইন করা হয়েছে।
কানাডা — মোলসন কানাডিয়ান (Molson Canadian)

Above মোলসন কানাডিয়ান বিয়ারের বোতল। (ছবি: গেটি ইমেজেস)
১৭৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মোলসন কানাডিয়ান উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রাচীন বিয়ার ব্র্যান্ড। এটি কানাডার মানুষের দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাদ প্রোফাইল: পরিষ্কার হালকা সোনালি রঙ, পান করতে সহজ ও সতেজ; মল্টের হালকা মিষ্টি স্বাদ ও মৃদু হপের ছোঁয়া। এটি হকি ম্যাচ বা কোনো অবসর বিকেলে উপভোগ করার জন্য সেরা।
এখনই পড়ুন




